ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: জুবাইদা রহমান নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির প্রবাসী কার্ডধারীদের ভূমি সেবা সহজ করতে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮ রাজধানীতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড সাইবার বুলিং শক্ত হাতে দমনে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্য উপদেষ্টা মুন্সীগঞ্জে চাচাতো ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেফতার

স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে পিইসিতে বসতে পারেনি ৯ শিক্ষার্থী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এবার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পিইসিতে অংশ নিতে পারেনি নয় শিক্ষার্থী। ফলে ওই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এখন হুমকির মুখে পড়েছে। চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে।

জানা যায়, জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দা গ্রামের মোকামপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুন রশীদ, ফাহিমা বেগম, লিজা বেগম, অঞ্জনা বেগম, মাহবুবুর রহমান, তামান্না বেগম, রুমি বেগম, সুমি বেগম ও আকলিমা বেগম অনুষ্ঠিত পিএসসি পরীক্ষা অংশ নিতে পারেনি।

২০১১ সালে নেদারল্যান্ড সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় এফআইভিডিবির পরিচালনায় ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এফআইভিডিবির দায়িত্বে ছিল। এর পর প্রায় আট মাস এফআইভিডিবির তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছিল। এফআইভিডিবি চলে গেলে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ও প্রবাসীদের অর্থায়নে তিন বছর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু হঠ্যাৎ করেই প্রবাসীদের অর্থায়ন বন্ধ হলে কর্মরত শিক্ষকরা গত আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। যার জন্য স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া একাধিক কারণে ওই বিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষা দিতে পারেনি।

শিক্ষার্থীরা বলে, আমাদের স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় অন্য স্কুলের বন্ধুরা পরীক্ষা দিচ্ছে। আর আমরা পরীক্ষা দিতে পারলাম না। খুব কষ্ট লাগছে। এখন বন্ধুরা আমাদের আগে চলে গেল, আর আমরা পিছিয়ে গেলাম। আমাদের জীবন থেকে একটি বছর চলে গেল। এর সমাধান কী হবে।

অভিভাবকরা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে বার বার যোগাযোগ করে বলার পরেও তারা কোনো কথা শুনেনি। তারা তাদের কথা ভাবছে এখন আমাদের সন্তানরা যে পিইসি পরীক্ষা দিতে পারল না তার কী হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আমরা আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। সমাপনী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলেছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া দেননি তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল হক দৈনিক আকাশকে বলেন, আমার শারীরিক অসুস্থতার জন্য স্কুলের সাথে যোগাযোগ হয়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন দৈনিক আকাশকে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এই বিষয়টি জানা থাকলে নয় শিক্ষার্থীর পিইসি পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতাম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে পিইসিতে বসতে পারেনি ৯ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ০৩:২২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এবার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পিইসিতে অংশ নিতে পারেনি নয় শিক্ষার্থী। ফলে ওই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এখন হুমকির মুখে পড়েছে। চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে।

জানা যায়, জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দা গ্রামের মোকামপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুন রশীদ, ফাহিমা বেগম, লিজা বেগম, অঞ্জনা বেগম, মাহবুবুর রহমান, তামান্না বেগম, রুমি বেগম, সুমি বেগম ও আকলিমা বেগম অনুষ্ঠিত পিএসসি পরীক্ষা অংশ নিতে পারেনি।

২০১১ সালে নেদারল্যান্ড সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় এফআইভিডিবির পরিচালনায় ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এফআইভিডিবির দায়িত্বে ছিল। এর পর প্রায় আট মাস এফআইভিডিবির তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছিল। এফআইভিডিবি চলে গেলে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ও প্রবাসীদের অর্থায়নে তিন বছর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু হঠ্যাৎ করেই প্রবাসীদের অর্থায়ন বন্ধ হলে কর্মরত শিক্ষকরা গত আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। যার জন্য স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া একাধিক কারণে ওই বিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষা দিতে পারেনি।

শিক্ষার্থীরা বলে, আমাদের স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় অন্য স্কুলের বন্ধুরা পরীক্ষা দিচ্ছে। আর আমরা পরীক্ষা দিতে পারলাম না। খুব কষ্ট লাগছে। এখন বন্ধুরা আমাদের আগে চলে গেল, আর আমরা পিছিয়ে গেলাম। আমাদের জীবন থেকে একটি বছর চলে গেল। এর সমাধান কী হবে।

অভিভাবকরা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে বার বার যোগাযোগ করে বলার পরেও তারা কোনো কথা শুনেনি। তারা তাদের কথা ভাবছে এখন আমাদের সন্তানরা যে পিইসি পরীক্ষা দিতে পারল না তার কী হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আমরা আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। সমাপনী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলেছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া দেননি তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল হক দৈনিক আকাশকে বলেন, আমার শারীরিক অসুস্থতার জন্য স্কুলের সাথে যোগাযোগ হয়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন দৈনিক আকাশকে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এই বিষয়টি জানা থাকলে নয় শিক্ষার্থীর পিইসি পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতাম।