ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে পিইসিতে বসতে পারেনি ৯ শিক্ষার্থী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এবার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পিইসিতে অংশ নিতে পারেনি নয় শিক্ষার্থী। ফলে ওই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এখন হুমকির মুখে পড়েছে। চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে।

জানা যায়, জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দা গ্রামের মোকামপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুন রশীদ, ফাহিমা বেগম, লিজা বেগম, অঞ্জনা বেগম, মাহবুবুর রহমান, তামান্না বেগম, রুমি বেগম, সুমি বেগম ও আকলিমা বেগম অনুষ্ঠিত পিএসসি পরীক্ষা অংশ নিতে পারেনি।

২০১১ সালে নেদারল্যান্ড সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় এফআইভিডিবির পরিচালনায় ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এফআইভিডিবির দায়িত্বে ছিল। এর পর প্রায় আট মাস এফআইভিডিবির তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছিল। এফআইভিডিবি চলে গেলে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ও প্রবাসীদের অর্থায়নে তিন বছর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু হঠ্যাৎ করেই প্রবাসীদের অর্থায়ন বন্ধ হলে কর্মরত শিক্ষকরা গত আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। যার জন্য স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া একাধিক কারণে ওই বিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষা দিতে পারেনি।

শিক্ষার্থীরা বলে, আমাদের স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় অন্য স্কুলের বন্ধুরা পরীক্ষা দিচ্ছে। আর আমরা পরীক্ষা দিতে পারলাম না। খুব কষ্ট লাগছে। এখন বন্ধুরা আমাদের আগে চলে গেল, আর আমরা পিছিয়ে গেলাম। আমাদের জীবন থেকে একটি বছর চলে গেল। এর সমাধান কী হবে।

অভিভাবকরা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে বার বার যোগাযোগ করে বলার পরেও তারা কোনো কথা শুনেনি। তারা তাদের কথা ভাবছে এখন আমাদের সন্তানরা যে পিইসি পরীক্ষা দিতে পারল না তার কী হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আমরা আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। সমাপনী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলেছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া দেননি তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল হক দৈনিক আকাশকে বলেন, আমার শারীরিক অসুস্থতার জন্য স্কুলের সাথে যোগাযোগ হয়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন দৈনিক আকাশকে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এই বিষয়টি জানা থাকলে নয় শিক্ষার্থীর পিইসি পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতাম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ছেলের হাতে বাবা আহত, পরে মৃত্যু

স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে পিইসিতে বসতে পারেনি ৯ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ০৩:২২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এবার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পিইসিতে অংশ নিতে পারেনি নয় শিক্ষার্থী। ফলে ওই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এখন হুমকির মুখে পড়েছে। চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে।

জানা যায়, জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দা গ্রামের মোকামপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুন রশীদ, ফাহিমা বেগম, লিজা বেগম, অঞ্জনা বেগম, মাহবুবুর রহমান, তামান্না বেগম, রুমি বেগম, সুমি বেগম ও আকলিমা বেগম অনুষ্ঠিত পিএসসি পরীক্ষা অংশ নিতে পারেনি।

২০১১ সালে নেদারল্যান্ড সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় এফআইভিডিবির পরিচালনায় ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এফআইভিডিবির দায়িত্বে ছিল। এর পর প্রায় আট মাস এফআইভিডিবির তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছিল। এফআইভিডিবি চলে গেলে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ও প্রবাসীদের অর্থায়নে তিন বছর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু হঠ্যাৎ করেই প্রবাসীদের অর্থায়ন বন্ধ হলে কর্মরত শিক্ষকরা গত আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। যার জন্য স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া একাধিক কারণে ওই বিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষা দিতে পারেনি।

শিক্ষার্থীরা বলে, আমাদের স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় অন্য স্কুলের বন্ধুরা পরীক্ষা দিচ্ছে। আর আমরা পরীক্ষা দিতে পারলাম না। খুব কষ্ট লাগছে। এখন বন্ধুরা আমাদের আগে চলে গেল, আর আমরা পিছিয়ে গেলাম। আমাদের জীবন থেকে একটি বছর চলে গেল। এর সমাধান কী হবে।

অভিভাবকরা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে বার বার যোগাযোগ করে বলার পরেও তারা কোনো কথা শুনেনি। তারা তাদের কথা ভাবছে এখন আমাদের সন্তানরা যে পিইসি পরীক্ষা দিতে পারল না তার কী হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আমরা আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। সমাপনী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলেছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া দেননি তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল হক দৈনিক আকাশকে বলেন, আমার শারীরিক অসুস্থতার জন্য স্কুলের সাথে যোগাযোগ হয়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন দৈনিক আকাশকে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এই বিষয়টি জানা থাকলে নয় শিক্ষার্থীর পিইসি পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতাম।