ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর নিন্দা জানাল ভারতের নাগরিক সমাজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত বাংলাভাষী মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের বিভিন্ন নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠন। অভিযোগ উঠেছে যে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রাতের অন্ধকারে সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে লোকজনকে ওপারে ঠেলে পাঠানোর পাঁয়তারা করছে, যা সীমান্তরেখায় এক মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। এতে দুই দেশের সীমান্তসংলগ্ন জিরো লাইনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হয়।

এই পরিস্থিতির গভীরে অনুসন্ধান এবং ভুক্তভোগীদের দুর্দশা শোনার জন্য সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সারা দেশের সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের এই যৌথ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কলকাতায় একটি ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’ বা জনতার ট্রাইব্যুনালের আয়োজন করা হয়। হর্ষ মান্দারের ‘কারওয়ান-এ-মহব্বত’, কলকাতার ‘সাবার ইনস্টিটিউট’ এবং ‘আমরা এক সচেতন প্রয়াস’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই শুনানি মঙ্গলবার কলকাতার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সমস্যা গভীরে গিয়ে বোঝার জন্য এবং সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অত্যাচারিত মানুষের দুর্দশার কথা শোনার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। এই বাংলা এই মতের সবচেয়ে অগ্রণী ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত।

তদন্তকারী জুরিবোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন জহর সরকার, হর্ষ মান্দার, আকার প্যাটেল, ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ, জন দয়াল, বিদ্যা দিনকর এবং তনিকা সরকার। সোমবার ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা রাজ্যের পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। সাবেক আমলা ও রাজ্যসভার সদস্য জহর সরকার এ সময় নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যের দেড় কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যে রাজনৈতিক দাবি তোলা হয়েছিল, তার স্বপক্ষে বিজেপি এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। ক্রিশ্চিয়ান ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মুখপাত্র জন দয়াল, মানবাধিকারকর্মী বিদ্যা দিনকর এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক তনিকা সরকারের সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের জুরিবোর্ড ভুক্তভোগীদের কথা আগের দিন সোমবার শোনেন। কিন্তু এত দিনেও সেই দাবির স্বপক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের পরিচয় সামনে আনা যায়নি।’। কিন্তু সেই দাবির সপক্ষে এখনো কতজনের নাম দেখাতে পেরেছে বিজেপি। একই সঙ্গে এসআইআরের নামে সাধারণ ভোটারদের ভোগান্তি, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নিগ্রহ এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জহর সরকার। প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেও যখন বিদেশ সফরে যান, তখন এই কারণে তিনি প্রশংসিত হন। আকার প্যাটেল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, এমন দিনও আমাদের দেখতে হচ্ছে। সরকারের এই আচরণ প্রকারান্তরে হিংসায় ইন্ধনই জোগাচ্ছে। রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে খ্রিষ্টান উপাসনালয়, গির্জা ও মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর হামলা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রার্থনা সভা চলাকালে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে হামলা, গির্জা ভাঙচুর এবং যাজকদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারতের সাবেক প্রধান আকার প্যাটেল বলেন, ভারতের সংবিধান সর্বধর্ম সহিষ্ণুতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি সেই ভাবমূর্তিকে চরম আঘাত করছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মুসলিম ও খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় প্রশাসন নীরব থাকায় তা পরোক্ষভাবে সংঘাতকে ইন্ধন দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে উঠে আসা সীমান্ত পরিস্থিতির চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উদাহরণস্বরূপ, মুর্শিদাবাদের সুতি এলাকার বাসিন্দা ডাবলু শেখের পরিবারকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়, অথচ তাঁদের কাছে ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকা ও আধার কার্ডের মতো বৈধ নথিপত্র ছিল। একইভাবে উত্তর দিনাজপুরের ৭৬ বছর বয়সী জলিল আখতারকে দীর্ঘ ৮৭ দিন বন্দিদশায় কাটানোর পর দুবার বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে, যদিও তাঁর কাছে তিন দশকের বেশি সময়ের নাগরিকত্বের প্রমাণ রয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ডাবলু শেখের বাবার নাম ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত ছিল এবং ডাবলু শেখ নিজে ২০২৬ সালের নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। একইভাবে জলিল আখতার নামের ৭৬ বছর বয়সী পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার এক প্রবীণ নাগরিকের ঘটনা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সংগৃহীত তথ্য এবং মানবাধিকার সংস্থা ‘মাসুম’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সীমান্ত এলাকার করুণ চিত্র।

ট্রাইব্যুনাল সদস্যদের ভাষ্যমতে, সীমান্তঘেঁষা স্থানীয় প্রশাসনিক উদ্যোগে তৈরি হোল্ডিং সেন্টার ও ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই লোকজনকে আটক রেখে বিএসএফের মাধ্যমে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

সংখ্যালঘু নিগ্রহের তালিকায় মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও রয়েছে। অল ইন্ডিয়া খ্রিষ্টান কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে রাজ্যজুড়ে ৬৮টি ধর্মীয় আক্রমণ ও চরমপন্থার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পশ্চিম বর্ধমানের শালানপুর, দুর্গাপুর, উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ও মেদিনীপুরে যাজকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও বজরঙ্গ দলের বিরুদ্ধে। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ ভুক্তভোগীদের এফআইআর নিতে গড়িমসি করেছে বলে অভিযোগ। অল ইন্ডিয়া খ্রিষ্টান কাউন্সিল এবং অন্যান্য সংগঠনের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নয়া শাসনের ছয় মাসে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৬৮টি ধর্মীয় আক্রমণ ও চরমপন্থার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করতে গিয়ে সাধারণ মান। পশ্চিম বর্ধমানের শালানপুর ও দুর্গাপুর এলাকায় মামা জশুয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ও মেদিনীপুরে যাজক অনুপ কুমার ঘোষসহ একাধিক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় কট্টরপন্থী হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও বজরঙ্গ দলের যুক্ত থাকার সরাসরি।

সবশেষে ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা দাবি করেন, কলকাতা ও হাওড়া মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাঁটাই করা নামগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন করতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি অর্জন সম্ভব: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর নিন্দা জানাল ভারতের নাগরিক সমাজ

আপডেট সময় ১০:৫০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত বাংলাভাষী মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের বিভিন্ন নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠন। অভিযোগ উঠেছে যে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রাতের অন্ধকারে সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে লোকজনকে ওপারে ঠেলে পাঠানোর পাঁয়তারা করছে, যা সীমান্তরেখায় এক মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। এতে দুই দেশের সীমান্তসংলগ্ন জিরো লাইনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হয়।

এই পরিস্থিতির গভীরে অনুসন্ধান এবং ভুক্তভোগীদের দুর্দশা শোনার জন্য সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সারা দেশের সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের এই যৌথ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কলকাতায় একটি ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’ বা জনতার ট্রাইব্যুনালের আয়োজন করা হয়। হর্ষ মান্দারের ‘কারওয়ান-এ-মহব্বত’, কলকাতার ‘সাবার ইনস্টিটিউট’ এবং ‘আমরা এক সচেতন প্রয়াস’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই শুনানি মঙ্গলবার কলকাতার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সমস্যা গভীরে গিয়ে বোঝার জন্য এবং সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অত্যাচারিত মানুষের দুর্দশার কথা শোনার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। এই বাংলা এই মতের সবচেয়ে অগ্রণী ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত।

তদন্তকারী জুরিবোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন জহর সরকার, হর্ষ মান্দার, আকার প্যাটেল, ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ, জন দয়াল, বিদ্যা দিনকর এবং তনিকা সরকার। সোমবার ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা রাজ্যের পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। সাবেক আমলা ও রাজ্যসভার সদস্য জহর সরকার এ সময় নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যের দেড় কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যে রাজনৈতিক দাবি তোলা হয়েছিল, তার স্বপক্ষে বিজেপি এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। ক্রিশ্চিয়ান ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মুখপাত্র জন দয়াল, মানবাধিকারকর্মী বিদ্যা দিনকর এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক তনিকা সরকারের সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের জুরিবোর্ড ভুক্তভোগীদের কথা আগের দিন সোমবার শোনেন। কিন্তু এত দিনেও সেই দাবির স্বপক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের পরিচয় সামনে আনা যায়নি।’। কিন্তু সেই দাবির সপক্ষে এখনো কতজনের নাম দেখাতে পেরেছে বিজেপি। একই সঙ্গে এসআইআরের নামে সাধারণ ভোটারদের ভোগান্তি, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নিগ্রহ এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জহর সরকার। প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেও যখন বিদেশ সফরে যান, তখন এই কারণে তিনি প্রশংসিত হন। আকার প্যাটেল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, এমন দিনও আমাদের দেখতে হচ্ছে। সরকারের এই আচরণ প্রকারান্তরে হিংসায় ইন্ধনই জোগাচ্ছে। রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে খ্রিষ্টান উপাসনালয়, গির্জা ও মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর হামলা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রার্থনা সভা চলাকালে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে হামলা, গির্জা ভাঙচুর এবং যাজকদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারতের সাবেক প্রধান আকার প্যাটেল বলেন, ভারতের সংবিধান সর্বধর্ম সহিষ্ণুতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি সেই ভাবমূর্তিকে চরম আঘাত করছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মুসলিম ও খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় প্রশাসন নীরব থাকায় তা পরোক্ষভাবে সংঘাতকে ইন্ধন দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে উঠে আসা সীমান্ত পরিস্থিতির চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উদাহরণস্বরূপ, মুর্শিদাবাদের সুতি এলাকার বাসিন্দা ডাবলু শেখের পরিবারকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়, অথচ তাঁদের কাছে ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকা ও আধার কার্ডের মতো বৈধ নথিপত্র ছিল। একইভাবে উত্তর দিনাজপুরের ৭৬ বছর বয়সী জলিল আখতারকে দীর্ঘ ৮৭ দিন বন্দিদশায় কাটানোর পর দুবার বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে, যদিও তাঁর কাছে তিন দশকের বেশি সময়ের নাগরিকত্বের প্রমাণ রয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ডাবলু শেখের বাবার নাম ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত ছিল এবং ডাবলু শেখ নিজে ২০২৬ সালের নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। একইভাবে জলিল আখতার নামের ৭৬ বছর বয়সী পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার এক প্রবীণ নাগরিকের ঘটনা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সংগৃহীত তথ্য এবং মানবাধিকার সংস্থা ‘মাসুম’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সীমান্ত এলাকার করুণ চিত্র।

ট্রাইব্যুনাল সদস্যদের ভাষ্যমতে, সীমান্তঘেঁষা স্থানীয় প্রশাসনিক উদ্যোগে তৈরি হোল্ডিং সেন্টার ও ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই লোকজনকে আটক রেখে বিএসএফের মাধ্যমে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

সংখ্যালঘু নিগ্রহের তালিকায় মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও রয়েছে। অল ইন্ডিয়া খ্রিষ্টান কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে রাজ্যজুড়ে ৬৮টি ধর্মীয় আক্রমণ ও চরমপন্থার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পশ্চিম বর্ধমানের শালানপুর, দুর্গাপুর, উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ও মেদিনীপুরে যাজকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও বজরঙ্গ দলের বিরুদ্ধে। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ ভুক্তভোগীদের এফআইআর নিতে গড়িমসি করেছে বলে অভিযোগ। অল ইন্ডিয়া খ্রিষ্টান কাউন্সিল এবং অন্যান্য সংগঠনের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নয়া শাসনের ছয় মাসে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৬৮টি ধর্মীয় আক্রমণ ও চরমপন্থার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করতে গিয়ে সাধারণ মান। পশ্চিম বর্ধমানের শালানপুর ও দুর্গাপুর এলাকায় মামা জশুয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ও মেদিনীপুরে যাজক অনুপ কুমার ঘোষসহ একাধিক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় কট্টরপন্থী হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও বজরঙ্গ দলের যুক্ত থাকার সরাসরি।

সবশেষে ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা দাবি করেন, কলকাতা ও হাওড়া মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাঁটাই করা নামগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন করতে হবে।