ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনে জামায়াতে ইসলামীর ১৫ দফা দাবি

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, কারখানা বন্ধ হওয়া এবং লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল শ্রমিক-মালিক বিরোধের বিষয় নয়; এটি দেশের শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকদের আয় ও জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। কেন এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটল, কারা এর জন্য দায়ী এবং কী পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে—তা নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, জীবন-জীবিকা এবং অসংখ্য পরিবারের ভবিষ্যৎ জড়িত। বিজিএমইএ ও সংশ্লিষ্ট শিল্প সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, মীরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সহস্রাধিক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।

শ্রমিকদের কঠিন জীবন বাস্তবতা ও আন্দোলন

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমানে দেশের পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা অত্যন্ত কঠিন জীবনযাপন করছেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা ও যাতায়াত খরচ এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এ বাস্তবতায় শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তার শ্রমের ন্যায্য অধিকার। শিল্পখাতে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকে আছে। সরকার ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং ৪ নভেম্বর বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্দেশ করে। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় নিন্দা

এই নেতা বলেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বহু শ্রমিক আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে তৌফিক শেখ (২১) নামে একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হওয়ার পর রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

জামায়াতে ইসলামী এই নিহত শ্রমিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং তার পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন শ্রমিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং এই মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে তিনি শিল্পাঞ্চলে নাশকতা ও লুটপাটের পেছনে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের মতো রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি থাকার আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন।

তিনি মনে করেন, সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এসব গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে। তবে কোনো প্রমাণ ছাড়া সাধারণ শ্রমিকদের দায়ী করা যাবে না।

জামায়াতে ইসলামীর ১৫ দফা দাবি

সরকারের কাছে শিল্পখাতের সংকট নিরসনে দলটি নিম্নলিখিত ১৫টি দাবি উত্থাপন করেছে

  1. নবগঠিত মজুরি বোর্ডকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করতে হবে।
  2. গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
  3. কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
  4. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।
  5. চলমান শ্রম অসন্তোষের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
  6. রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
  7. শ্রমিক, কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  8. পোশাক শিল্পের চলমান সংকট নিরসনে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিসহ এই সেক্টরের স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর সংলাপের আয়োজন করতে হবে।
  9. শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ বা স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি, ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অপচেষ্টা থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে।
  10. বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিকদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনতে হবে।

পরিশেষে, জামায়াতের পক্ষ থেকে শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির পাশাপাশি নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর গুরুত্বারোপ করা হয়। দলটির মতে, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ নভেম্বর শুরু একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম

পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনে জামায়াতে ইসলামীর ১৫ দফা দাবি

আপডেট সময় ০৪:১৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, কারখানা বন্ধ হওয়া এবং লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল শ্রমিক-মালিক বিরোধের বিষয় নয়; এটি দেশের শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকদের আয় ও জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। কেন এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটল, কারা এর জন্য দায়ী এবং কী পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে—তা নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, জীবন-জীবিকা এবং অসংখ্য পরিবারের ভবিষ্যৎ জড়িত। বিজিএমইএ ও সংশ্লিষ্ট শিল্প সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, মীরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সহস্রাধিক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।

শ্রমিকদের কঠিন জীবন বাস্তবতা ও আন্দোলন

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমানে দেশের পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা অত্যন্ত কঠিন জীবনযাপন করছেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা ও যাতায়াত খরচ এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এ বাস্তবতায় শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তার শ্রমের ন্যায্য অধিকার। শিল্পখাতে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকে আছে। সরকার ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং ৪ নভেম্বর বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্দেশ করে। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় নিন্দা

এই নেতা বলেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বহু শ্রমিক আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে তৌফিক শেখ (২১) নামে একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হওয়ার পর রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

জামায়াতে ইসলামী এই নিহত শ্রমিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং তার পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন শ্রমিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং এই মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে তিনি শিল্পাঞ্চলে নাশকতা ও লুটপাটের পেছনে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের মতো রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি থাকার আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন।

তিনি মনে করেন, সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এসব গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে। তবে কোনো প্রমাণ ছাড়া সাধারণ শ্রমিকদের দায়ী করা যাবে না।

জামায়াতে ইসলামীর ১৫ দফা দাবি

সরকারের কাছে শিল্পখাতের সংকট নিরসনে দলটি নিম্নলিখিত ১৫টি দাবি উত্থাপন করেছে

  1. নবগঠিত মজুরি বোর্ডকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করতে হবে।
  2. গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
  3. কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
  4. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।
  5. চলমান শ্রম অসন্তোষের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
  6. রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
  7. শ্রমিক, কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  8. পোশাক শিল্পের চলমান সংকট নিরসনে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিসহ এই সেক্টরের স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর সংলাপের আয়োজন করতে হবে।
  9. শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ বা স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি, ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অপচেষ্টা থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে।
  10. বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিকদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনতে হবে।

পরিশেষে, জামায়াতের পক্ষ থেকে শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির পাশাপাশি নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর গুরুত্বারোপ করা হয়। দলটির মতে, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।