ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

শাহজালাল থেকে ১২ পরিত্যক্ত বিমান নিলামে বিক্রির উদ্যোগ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে দীর্ঘ এক দশক ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ অবশেষে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব উড়োজাহাজ বর্তমানে কার্যত স্ক্র্যাপ বা ভাঙারিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে সংস্থাটি এখন কোনো ধরনের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এগুলো বিক্রির চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সম্ভাব্য ক্রেতারাও সচল উড়োজাহাজ হিসেবে নয়, বরং স্ক্র্যাপ বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ হিসেবে এগুলো কিনতে আগ্রহী। এ কারণে প্রচলিত ভিত্তিমূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিমান খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত উড়োজাহাজে দখল হয়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গত ১৬ জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে ভিত্তিমূল্য ছাড়া নিলাম আয়োজনের প্রয়োজনীয় অনুমোদনের আর্জি জানানো হয়েছে। সংস্থাটির সূত্র অনুযায়ী, পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে বিমান রয়েছে। এগুলো শাহজালাল বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনের প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে আছে।

বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রম পরিচালনা ও উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন এই বিশাল জায়গা জুড়ে পরিত্যক্ত বিমান পড়ে থাকায় অপারেশনাল কাজে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য ওঠানামাতেও প্রতিনিয়ত চাপ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ বছর পড়ে থাকার ফলে উড়োজাহাজগুলোর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে এবং প্রচুর মরিচা ধরেছে। এগুলোর এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদও অনেক আগে উত্তীর্ণ হয়েছে, ফলে এগুলো আর বাণিজ্যিকভাবে উড্ডয়নের উপযোগী নয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এসব উড়োজাহাজের মূল্য নির্ধারণ করতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন, শেষ পর্যন্ত বিক্রি থেকে সেই টাকা উঠে আসা নিয়েও সংশয় রয়েছে বেবিচকের। এর আগে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মাধ্যমে মূল্যায়নের চেষ্টা করা হলেও দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে মূল্যায়ন করানোর ব্যয় সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিবন্ধন বাতিলের পরও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অবশেষে ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয় এবং ওই সময়ের মধ্যে অপসারণ না করায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পরবর্তীতে প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত সাপেক্ষে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে অবহিত করা হয়। সব আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে ২০২৪ সালের ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, বিমানগুলো বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই উন্মুক্ত নিলামের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে কারণ এতে খরচ বেশি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। বিমান খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখলমুক্ত করতে পারলে কার্গো ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারও ব্যাহত হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

শাহজালাল থেকে ১২ পরিত্যক্ত বিমান নিলামে বিক্রির উদ্যোগ

আপডেট সময় ০১:১৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে দীর্ঘ এক দশক ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ অবশেষে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব উড়োজাহাজ বর্তমানে কার্যত স্ক্র্যাপ বা ভাঙারিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে সংস্থাটি এখন কোনো ধরনের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এগুলো বিক্রির চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সম্ভাব্য ক্রেতারাও সচল উড়োজাহাজ হিসেবে নয়, বরং স্ক্র্যাপ বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ হিসেবে এগুলো কিনতে আগ্রহী। এ কারণে প্রচলিত ভিত্তিমূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিমান খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত উড়োজাহাজে দখল হয়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গত ১৬ জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে ভিত্তিমূল্য ছাড়া নিলাম আয়োজনের প্রয়োজনীয় অনুমোদনের আর্জি জানানো হয়েছে। সংস্থাটির সূত্র অনুযায়ী, পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে বিমান রয়েছে। এগুলো শাহজালাল বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনের প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে আছে।

বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রম পরিচালনা ও উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিন এই বিশাল জায়গা জুড়ে পরিত্যক্ত বিমান পড়ে থাকায় অপারেশনাল কাজে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য ওঠানামাতেও প্রতিনিয়ত চাপ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ বছর পড়ে থাকার ফলে উড়োজাহাজগুলোর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে এবং প্রচুর মরিচা ধরেছে। এগুলোর এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদও অনেক আগে উত্তীর্ণ হয়েছে, ফলে এগুলো আর বাণিজ্যিকভাবে উড্ডয়নের উপযোগী নয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এসব উড়োজাহাজের মূল্য নির্ধারণ করতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন, শেষ পর্যন্ত বিক্রি থেকে সেই টাকা উঠে আসা নিয়েও সংশয় রয়েছে বেবিচকের। এর আগে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মাধ্যমে মূল্যায়নের চেষ্টা করা হলেও দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে মূল্যায়ন করানোর ব্যয় সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিবন্ধন বাতিলের পরও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অবশেষে ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয় এবং ওই সময়ের মধ্যে অপসারণ না করায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পরবর্তীতে প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত সাপেক্ষে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে অবহিত করা হয়। সব আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে ২০২৪ সালের ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, বিমানগুলো বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই উন্মুক্ত নিলামের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে কারণ এতে খরচ বেশি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। বিমান খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখলমুক্ত করতে পারলে কার্গো ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারও ব্যাহত হচ্ছে।