ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

নতুন বাস্তবতায় প্রযুক্তিনির্ভর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকল্পে অটল কর্মী সম্মেলন

সময়ের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়ে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হয়ে ওঠা এবং সত্যানুসন্ধানে অটল থাকার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়েছে বিশেষ কর্মী সম্মেলনে। বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মেলনে দেশের সর্বস্তরের কর্মীরা একত্রিত হন। অনুষ্ঠানটিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, সৃজনশীলতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার জোর অঙ্গীকার ফুটে ওঠে। নতুন প্রজন্ম এসব প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।

‘অটল ২৮’ প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সম্মেলনে কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দীর্ঘ ২৮ বছরের পথচলায় প্রবীণ ও নবীন কর্মীদের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মূল আয়োজনের সূচনা করা হয়। হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুলের পরিচালনায় ৩০ বছরের কম বয়সী ৩০ জন তরুণ কর্মী জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে তারুণ্যের শক্তি ও উদ্দীপনার বার্তা দেন। পুরুষদের গায়ে ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর টি-শার্ট আর নারী কর্মীরা পরেছিলেন শাড়ি। ‘অটল ২৮’ প্রতিপাদ্যের এ আয়োজনের আবহে সৃষ্টি হয়েছিল এক আলাদা ঐকতান। দীর্ঘ ২৮ বছরের পথচলায় অনেকে আর সঙ্গে নেই, আবার নতুন মুখ এসেছে অনেক। নতুন-পুরোনোতে মেলামেশা, প্রীতিসম্ভাষণ, কুশলবিনিময় আর ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অন্তরঙ্গ কেটেছে সারা দিন। এ নিয়েই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তথ্যচিত্র দেখার আমন্ত্রণ জানালেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে সত্য প্রকাশের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। অতীতের নানা প্রতিকূলতা, মব সন্ত্রাস ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সত্ত্বেও সত্যানুসন্ধানের পথ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার প্রত্যয় উঠে আসে। প্রদর্শিত তথ্যচিত্র শেষে জানানো হয়, দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ নির্মাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বজায় থাকবে এবং কোনো অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার না করে আপসহীন ভূমিকা ধরে রাখা হবে। অতীতে কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করেনি, জঙ্গিদের খুশি করতে পারেনি, সবার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করতে পারেনি।

সম্মেলনে বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরাও তাঁদের অভিমত ব্যক্ত করেন। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ম তামিম অতীতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সূচনালগ্নের প্রতিশ্রুতি ছাড়িয়ে গেছে এবং সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের রোষানলে পড়া প্রমাণ করে এটি সঠিক পথে রয়েছে। নানা হামলার মুখেও ঘুরে দাঁড়িয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়াকে তিনি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ম তামিম বলেন, ১৯৯৫ সালে বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা শেষে দেশে ফেরার পর যখন তাঁর একটি সচিত্র সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল, তখন সেটি ছিল তাঁর জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। তিনি বললেন, ‘১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর যখন আমরা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, তখন এত কিছু ভাবিনি। কারণ, দেশের শ্রেষ্ঠ পত্রিকায় তাঁর সাক্ষাৎকার তাঁকে খুবই অভিভূত করেছিল। সেই আলোয় আমরা আমাদের চারপাশটা দেখতে পাই। উপসংহারে সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘আমাদের পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেখান থেকে মানসিকভাবে আমাদের সরে আসতে হবে।

এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলা সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি বিকাশের এই যুগে তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা বুঝে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানোর পরামর্শ দেন তিনি। পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারপারসন ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সাবেক উপাচার্য রুবানা হক পাঠকের পছন্দের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সত্যের আলো জ্বালিয়ে ন্যায়সংগত সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে হবে। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন বললেন, বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিবছর তিনি অংশ নিয়ে সবাইকে অনুপ্রাণিত করতেন। পাঠক কী পড়তে চায়, সে বিষয়টি সম্পর্কে মনোযোগী হতে তিনি পরামর্শ দেন। সহজ কথায় বলতে গেলে আমাকে ভালোবাসে।

সংস্কৃতিকর্মী ও জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে নিজের লেখা ‘আড়িয়ালখাঁর জলস্রোত’ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান। অতিথি আলোচনা পর্বের পর সবাইকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভিবাদন জানানো হয়। অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম বলেন, ‘বহু দিন থেকেই সঙ্গে আছি।

সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনায় ২০৩০ সালের পাঠ অভ্যাসের বিষয়টি উঠে আসে। এখন ভাবতে হচ্ছে, ২০৩০-এ পাঠক ঘুম থেকে উঠে কীভাবে খবর দেখবেন।

কার্যক্রমে পরিবর্তন এনে অ্যাপ সাজানো এবং ‘শর্টস’, ‘ক্লিপস’ ও ‘গেমস’-এর মতো নতুন ফিচার যুক্ত করার কথা জানানো হয়। অনলাইন বিভাগের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, ছাপা পত্রিকার অভ্যস্ততা থেকে বেরিয়ে ‘ডিজিটালই প্রথম’ মনোভাব গড়ে তুলতে হবে এবং প্রতিবেদনের উপস্থাপনা সেভাবেই রূপান্তর করা হচ্ছে। ডিজিটাল বিজনেস এবং রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রতিনিধিরা জানান, ডিজিটালের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা বাড়লেও আয়ের প্রধান উৎস, জনআস্থা ও সামাজিক প্রভাবের ক্ষেত্রে ছাপা পত্রিকার ভূমিকা এখনো অনন্য। এর পাশাপাশি রিপোর্টের বিষয়বস্তু, লেখা ও উপস্থাপনার ধরন—সবই ডিজিটাল মাধ্যমের উপযোগী করে তুলতে হবে।

ভবিষ্যতের নির্দেশনা দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব জানান, প্রযুক্তির এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর প্রক্রিয়ায় রূপান্তর হওয়া জরুরি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন ভবিষ্যৎমুখী কার্যক্রম বেশি পরিচালিত হচ্ছে। শুধুমাত্র সংবাদের প্রচারসংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়া ও গুণমান বজায় রেখে নিজস্ব আয়ে টিকে থাকাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। পাঠকদের আস্থাই মূল পুঁজি উল্লেখ করে বলা হয়, যেকোনো বাধা আসলেও সত্যের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে বহুমুখী কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা আরও অনেক বহুমুখী কাজ করব। টিকে থাকতে হলে আমাদেরও সেভাবে বদলে ফেলতে হবে।

সম্মেলনের শেষ পর্বে কর্মীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কুইজ ও লেখালেখিতে বিজয়ীদের বিশেষ পুরস্কৃত করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে সেরা কর্মীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সর্বশেষে বেঙ্গল সিম্ফনির মনমাতানো সঙ্গীত পরিবেশনা এবং আনন্দঘন মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড

নতুন বাস্তবতায় প্রযুক্তিনির্ভর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকল্পে অটল কর্মী সম্মেলন

আপডেট সময় ১১:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সময়ের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়ে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হয়ে ওঠা এবং সত্যানুসন্ধানে অটল থাকার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়েছে বিশেষ কর্মী সম্মেলনে। বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মেলনে দেশের সর্বস্তরের কর্মীরা একত্রিত হন। অনুষ্ঠানটিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, সৃজনশীলতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার জোর অঙ্গীকার ফুটে ওঠে। নতুন প্রজন্ম এসব প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।

‘অটল ২৮’ প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সম্মেলনে কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দীর্ঘ ২৮ বছরের পথচলায় প্রবীণ ও নবীন কর্মীদের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মূল আয়োজনের সূচনা করা হয়। হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুলের পরিচালনায় ৩০ বছরের কম বয়সী ৩০ জন তরুণ কর্মী জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে তারুণ্যের শক্তি ও উদ্দীপনার বার্তা দেন। পুরুষদের গায়ে ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর টি-শার্ট আর নারী কর্মীরা পরেছিলেন শাড়ি। ‘অটল ২৮’ প্রতিপাদ্যের এ আয়োজনের আবহে সৃষ্টি হয়েছিল এক আলাদা ঐকতান। দীর্ঘ ২৮ বছরের পথচলায় অনেকে আর সঙ্গে নেই, আবার নতুন মুখ এসেছে অনেক। নতুন-পুরোনোতে মেলামেশা, প্রীতিসম্ভাষণ, কুশলবিনিময় আর ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অন্তরঙ্গ কেটেছে সারা দিন। এ নিয়েই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তথ্যচিত্র দেখার আমন্ত্রণ জানালেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে সত্য প্রকাশের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। অতীতের নানা প্রতিকূলতা, মব সন্ত্রাস ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সত্ত্বেও সত্যানুসন্ধানের পথ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার প্রত্যয় উঠে আসে। প্রদর্শিত তথ্যচিত্র শেষে জানানো হয়, দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ নির্মাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বজায় থাকবে এবং কোনো অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার না করে আপসহীন ভূমিকা ধরে রাখা হবে। অতীতে কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করেনি, জঙ্গিদের খুশি করতে পারেনি, সবার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করতে পারেনি।

সম্মেলনে বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরাও তাঁদের অভিমত ব্যক্ত করেন। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ম তামিম অতীতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সূচনালগ্নের প্রতিশ্রুতি ছাড়িয়ে গেছে এবং সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের রোষানলে পড়া প্রমাণ করে এটি সঠিক পথে রয়েছে। নানা হামলার মুখেও ঘুরে দাঁড়িয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়াকে তিনি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ম তামিম বলেন, ১৯৯৫ সালে বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা শেষে দেশে ফেরার পর যখন তাঁর একটি সচিত্র সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল, তখন সেটি ছিল তাঁর জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। তিনি বললেন, ‘১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর যখন আমরা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, তখন এত কিছু ভাবিনি। কারণ, দেশের শ্রেষ্ঠ পত্রিকায় তাঁর সাক্ষাৎকার তাঁকে খুবই অভিভূত করেছিল। সেই আলোয় আমরা আমাদের চারপাশটা দেখতে পাই। উপসংহারে সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘আমাদের পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেখান থেকে মানসিকভাবে আমাদের সরে আসতে হবে।

এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলা সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি বিকাশের এই যুগে তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা বুঝে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানোর পরামর্শ দেন তিনি। পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারপারসন ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সাবেক উপাচার্য রুবানা হক পাঠকের পছন্দের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সত্যের আলো জ্বালিয়ে ন্যায়সংগত সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে হবে। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন বললেন, বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিবছর তিনি অংশ নিয়ে সবাইকে অনুপ্রাণিত করতেন। পাঠক কী পড়তে চায়, সে বিষয়টি সম্পর্কে মনোযোগী হতে তিনি পরামর্শ দেন। সহজ কথায় বলতে গেলে আমাকে ভালোবাসে।

সংস্কৃতিকর্মী ও জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে নিজের লেখা ‘আড়িয়ালখাঁর জলস্রোত’ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান। অতিথি আলোচনা পর্বের পর সবাইকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভিবাদন জানানো হয়। অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম বলেন, ‘বহু দিন থেকেই সঙ্গে আছি।

সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনায় ২০৩০ সালের পাঠ অভ্যাসের বিষয়টি উঠে আসে। এখন ভাবতে হচ্ছে, ২০৩০-এ পাঠক ঘুম থেকে উঠে কীভাবে খবর দেখবেন।

কার্যক্রমে পরিবর্তন এনে অ্যাপ সাজানো এবং ‘শর্টস’, ‘ক্লিপস’ ও ‘গেমস’-এর মতো নতুন ফিচার যুক্ত করার কথা জানানো হয়। অনলাইন বিভাগের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, ছাপা পত্রিকার অভ্যস্ততা থেকে বেরিয়ে ‘ডিজিটালই প্রথম’ মনোভাব গড়ে তুলতে হবে এবং প্রতিবেদনের উপস্থাপনা সেভাবেই রূপান্তর করা হচ্ছে। ডিজিটাল বিজনেস এবং রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রতিনিধিরা জানান, ডিজিটালের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা বাড়লেও আয়ের প্রধান উৎস, জনআস্থা ও সামাজিক প্রভাবের ক্ষেত্রে ছাপা পত্রিকার ভূমিকা এখনো অনন্য। এর পাশাপাশি রিপোর্টের বিষয়বস্তু, লেখা ও উপস্থাপনার ধরন—সবই ডিজিটাল মাধ্যমের উপযোগী করে তুলতে হবে।

ভবিষ্যতের নির্দেশনা দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব জানান, প্রযুক্তির এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর প্রক্রিয়ায় রূপান্তর হওয়া জরুরি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন ভবিষ্যৎমুখী কার্যক্রম বেশি পরিচালিত হচ্ছে। শুধুমাত্র সংবাদের প্রচারসংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়া ও গুণমান বজায় রেখে নিজস্ব আয়ে টিকে থাকাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। পাঠকদের আস্থাই মূল পুঁজি উল্লেখ করে বলা হয়, যেকোনো বাধা আসলেও সত্যের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে বহুমুখী কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা আরও অনেক বহুমুখী কাজ করব। টিকে থাকতে হলে আমাদেরও সেভাবে বদলে ফেলতে হবে।

সম্মেলনের শেষ পর্বে কর্মীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, কুইজ ও লেখালেখিতে বিজয়ীদের বিশেষ পুরস্কৃত করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে সেরা কর্মীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সর্বশেষে বেঙ্গল সিম্ফনির মনমাতানো সঙ্গীত পরিবেশনা এবং আনন্দঘন মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।