অক্টোবর মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমের তথ্য ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশের রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সংগঠনটি। তাদের মধ্যে চারজন কয়েদি এবং ১৫ জন হাজতি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা বেশি। সব মিলিয়ে নিহতদের মধ্যে বিএনপির ১০ জন ও আওয়ামী লীগের দুজন রয়েছেন। এছাড়াও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক ছয়টি ঘটনায় একজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
সংগঠনটি গণপিটুনি ও মব সহিংসতার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৩৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি মব সহিংসতার ২২টি ঘটনায় আরও একজন প্রাণ হারিয়েছেন ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১৮৫ জন আহত হন।
কারাগারে ১৯ জন বন্দীর মৃত্যু এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনাও রিপোর্টে উঠে এসেছে। এছাড়া সীমান্তে বিএসএফের হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যেখানে মাসজুড়ে ৪৬ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নিহত ও ৩১ জন আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নিহত, ৩১ জন আহত, সাতজন লাঞ্ছিত এবং ছয়জন হুমকির মুখে পড়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অক্টোবর মাসে ২৬১ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৮২ জন ধর্ষণের শিকার। এদের মধ্যে ৪২ জনই শিশু-কিশোরী। পারিবারিক সহিংসতায় ৪৭ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২১ জন আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি ২০১ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৩৮ জন নিহত হয়েছে।
শ্রমিক নির্যাতনের ৭১টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব ও নিরাপত্তার অভাবে আরও ৩৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি দেখা গেলেও রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, নির্যাতন ও সাংবাদিক হয়রানির মতো ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ এবং মানবাধিকার রক্ষায় সব পক্ষকে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















