ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের চেষ্টা খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এক বড় ধাক্কা খেল ট্রাম্প প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে আসা ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের কাছে যে আবেদন জানিয়েছিল, তা সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। মূলত এসব ব্যালট যারা পাঠিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন—এমন অভিযোগ তুলে সেগুলো আলাদা করে রাখার নির্দেশ চেয়েছিলেন তারা। ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচন: হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দেশজুড়ে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছেন। তার দাবি, অভিবাসীদের অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী কারচুপি করতে পারেন। বিশেষ করে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার এই পদ্ধতিকে কেন্দ্র করেই তিনি বারবার সরব হয়েছেন, যদিও ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অনেক অঙ্গরাজ্যেই এ ধরনের ভোটিং সিস্টেম প্রচলিত রয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অবৈধভাবে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের আগে সুসংবাদ পেল ডেমোক্র্যাটরা, তবে মিশিগানে বিব্রত।

এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন নিম্ন আদালতও একই ধরনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিল।

বিচারকদের যুক্তি ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে এবং নির্বাচনের ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অহেতুক সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি নিরীক্ষায় দেখা গেছে, অ-মার্কিন নাগরিক বা অযোগ্য ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার হার অত্যন্ত বিরল। সেই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও সন্দেহ তৈরি করতে চাইছে।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের দখলে ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন রয়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই লড়াই হচ্ছে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫ আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫ টিতে ভোট হচ্ছে।

সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটদের আছে ৪৫টি (দুজন স্বতন্ত্র সিনেটরের সমর্থনসহ)। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ এবং সিনেটে ৫১টি আসন প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় ৪০টি এবং সিনেটের ১০ থেকে ১২টি আসনে দুই দলের মধ্যে মূল লড়াই হবে। ক্যালিফোর্নিয়ায় নিবন্ধিত ভোটার প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ। এখন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮ ও ডেমোক্র্যাটদের ২১৪ আসন রয়েছে। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের আছে ৫৩ আসন। দুজন স্বতন্ত্র সিনেটরের সমর্থনসহ ডেমোক্র্যাটদের আছে ৪৫ আসন।

উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বেশি ৫২টি আসনের অধিকারী। দেশটির ভোটাররা আজ নির্ধারণ করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি নাকি বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে কংগ্রেসের লাগাম থাকবে। এর আগে বিভিন্ন আদালত অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চার সদস্যসহ আটক ছয়

ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের চেষ্টা খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট সময় ০৯:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এক বড় ধাক্কা খেল ট্রাম্প প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে আসা ২০ হাজার ব্যালট বাতিলের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের কাছে যে আবেদন জানিয়েছিল, তা সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। মূলত এসব ব্যালট যারা পাঠিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন—এমন অভিযোগ তুলে সেগুলো আলাদা করে রাখার নির্দেশ চেয়েছিলেন তারা। ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচন: হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দেশজুড়ে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছেন। তার দাবি, অভিবাসীদের অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী কারচুপি করতে পারেন। বিশেষ করে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার এই পদ্ধতিকে কেন্দ্র করেই তিনি বারবার সরব হয়েছেন, যদিও ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অনেক অঙ্গরাজ্যেই এ ধরনের ভোটিং সিস্টেম প্রচলিত রয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অবৈধভাবে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের আগে সুসংবাদ পেল ডেমোক্র্যাটরা, তবে মিশিগানে বিব্রত।

এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন নিম্ন আদালতও একই ধরনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিল।

বিচারকদের যুক্তি ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে এবং নির্বাচনের ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অহেতুক সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি নিরীক্ষায় দেখা গেছে, অ-মার্কিন নাগরিক বা অযোগ্য ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার হার অত্যন্ত বিরল। সেই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও সন্দেহ তৈরি করতে চাইছে।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের দখলে ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন রয়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই লড়াই হচ্ছে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫ আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫ টিতে ভোট হচ্ছে।

সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটদের আছে ৪৫টি (দুজন স্বতন্ত্র সিনেটরের সমর্থনসহ)। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ এবং সিনেটে ৫১টি আসন প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় ৪০টি এবং সিনেটের ১০ থেকে ১২টি আসনে দুই দলের মধ্যে মূল লড়াই হবে। ক্যালিফোর্নিয়ায় নিবন্ধিত ভোটার প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ। এখন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮ ও ডেমোক্র্যাটদের ২১৪ আসন রয়েছে। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের আছে ৫৩ আসন। দুজন স্বতন্ত্র সিনেটরের সমর্থনসহ ডেমোক্র্যাটদের আছে ৪৫ আসন।

উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বেশি ৫২টি আসনের অধিকারী। দেশটির ভোটাররা আজ নির্ধারণ করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি নাকি বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে কংগ্রেসের লাগাম থাকবে। এর আগে বিভিন্ন আদালত অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।