ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত জমিদারদের বিশাল সব পালঙ্ক

জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাচীন নিদর্শনের মধ্যে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে জমিদারদের ব্যবহৃত বিশাল সব পালঙ্ক। জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের ৩১ ও ৩২ নম্বর কাঠের শিল্পকর্ম গ্যালারিতে প্রদর্শিত এসব আসবাব যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। সেখানে প্রাচীন মুদ্রা বা ভাস্কর্যের পাশাপাশি এসব কারুকার্যময় পালঙ্ক দর্শনার্থীদের কাছে আভিজাত্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে ধরা দেয়। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের কাছে এই কাঠের শিল্পকর্মগুলো অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক। জাতীয় জাদুঘরে ঢুকলে চোখে পড়ে ইতিহাসের নানা নিদর্শন। কোথাও প্রাচীন মুদ্রা, কোথাও পাথরের ভাস্কর্য, কোথাও আবার রাজা-বাদশাহদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র। জাদুঘরের দেওয়া তথ্যমতে, দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় এই দুই গ্যালারিতে। রেবন্তর বিরল মূর্তি উদ্ধার করে জাদুঘরে দিল বিজিবি, এই মূর্তির বিশেষত্ব কী। পালঙ্ক শুধু ঘুমানো বা বিশ্রামের আসবাব নয়, এর নকশায় প্রকাশ পেত কারিগরদের দক্ষতা ও শিল্পবোধ।

জাদুঘরের গ্যালারিতে সংরক্ষিত নড়াইলের লোহাগড়া ও ফরিদপুরের জমিদারদের পালঙ্ক দুটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে।

১৯৭৬ সালে সংগৃহীত ফরিদপুরের জমিদারের পালঙ্কটি উনিশ শতকে তৈরি। ১২৩ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২৭ ইঞ্চি প্রস্থের এই পালঙ্কের কাঠামোয় মানুষের অবয়ব, নারীমূর্তি, সিংহ, হরিণ ও হাতির চমৎকার খোদাই রয়েছে। অন্যদিকে, লোহাগড়ার জমিদারদের ব্যবহৃত পালঙ্কটি ১৯৭৮ সালে ইতনা গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়। ১২৫ ইঞ্চি দীর্ঘ, ১০১ ইঞ্চি প্রশস্ত এবং ১৩৩ ইঞ্চি উচ্চতার এই পালঙ্কটির পায়াগুলো পরির আদলে তৈরি এবং চার কোণায় প্যাঁচানো নকশার স্তম্ভ রয়েছে। পেছনের অংশে রয়েছে উদ্ভিজ্জ, ফুলেল ও লতাপাতার নকশা।

বাঙালি লোকশিল্পের ধারায় দারুশিল্প বা কাঠের খোদাই কাজ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় যশোর, খুলনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলে উচ্চমানের পালঙ্ক নির্মাণের চল ছিল। তখন জমিদার ও বিত্তবানেরা মাসিক চুক্তিতে সূত্রধরদের নিয়োগ দিতেন এবং একেকটি পালঙ্ক তৈরিতে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় ব্যয় হতো। সেগুন, কাঁঠাল, গর্জন, জারুল ও মেহগনি কাঠের ওপর সূক্ষ্ম ছেনি ও বাটালি দিয়ে ফুটে উঠত ত্রিমাত্রিক বা দ্বিমাত্রিক নানাবিধ নকশা। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা তো পালঙ্ক দেখেনি, এখানে দেখাতে এসেছি। খাটের মাথা ও পায়ার দিকে কাঠ খোদাই করে ত্রিমাত্রিক ও দ্বিমাত্রিক নকশা ফুটিয়ে তোলা হতো। ‘দুই শতাব্দী’ আগের কাবিননামায় কনের তিন শর্ত।

শাস্ত্রীয় প্রভাব ও শিল্পীর নিজস্ব শৈলীর মিশেলে এসব আসবাবের নকশা হতো বৈচিত্র্যময়। কোনো পালঙ্কে হয়তো সিংহের থাবার আদলে সিংহপায়া করা হয়েছে, আবার কোনোটিতে লতাপাতা, গোলাপ, কলকা, ময়ূর বা পরির অবয়ব খোদাই করা হয়েছে। উনিশ শতকের পরবর্তী সময়ে বিদেশি বণিকদের প্রভাবে আসবাবের নকশায় ব্রিটিশ, রোমান, গ্রিক ও আরবি শিল্পশৈলীর সমন্বয় ঘটতে দেখা যায়। ‘যুক্তি কল্পতরু’ গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী খাট-পালঙ্ককে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হতো, যা রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে বাংলার সূত্রধরেরা এসব নকশায় নিজেদের শিল্পশৈলীও বজায় রেখেছিলেন। সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব রুচির ছাপও থাকত এসব আসবাবে। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রাসিদ্ধি, সর্বসিদ্ধ, বিজয়া, অষ্টমঙ্গলা, জয়, মঙ্গল, প্রেয়ান, চিত্রকান্ত ও মঞ্চ। ‘যুক্তি কল্পতরু’ গ্রন্থে খাটকে দূরদর্শী, দীর্ঘদর্শী, দুর্লঙ্ঘ্য ও দুরাসদ—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এসব শ্রেণির খাট রাজাদের জন্য সুখকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিদেশি বণিক ও পর্যটকদের আগমন এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর প্রভাবে বাংলার আসবাবশিল্পে পরিবর্তন আসে। ‘বাংলাদেশের দারুশিল্প’ বইয়ে পালঙ্কের বিভিন্ন অংশের অলংকরণে কারুশিল্পীদের দক্ষতার বর্ণনা রয়েছে।

জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের স্টোরে বর্তমানে ২১৪টি কাঠের শিল্পকর্ম সংরক্ষিত রয়েছে, যার মধ্যে ৪৬টি নিদর্শন গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হচ্ছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বিভাগের কিপার আসমা ফেরদৌসি জানান, তাদের নিজস্ব ল্যাব রয়েছে যেখানে নিদর্শনগুলোর অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কাঠের আসবাব হওয়ায় আর্দ্রতা বা কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে এগুলো সুরক্ষায় তারা সব সময় সতর্ক থাকেন। জাদুঘরে যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়: কাঠের তৈরি হওয়ায় আর্দ্রতার পরিবর্তন, ছত্রাক ও কীটপতঙ্গের আক্রমণে পালঙ্কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘদিন এসব নিদর্শনের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, উপযুক্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ জরুরি।

পরিবার নিয়ে জাদুঘরে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী রাকিব হাসানের মতে, আধুনিক প্রজন্মের কাছে এসব পালঙ্ক কেবল দেখার বিষয় নয়, বরং তা শিল্পের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে। সিংহ, পরি ও মৎস্যকন্যার নকশা ছোটদের মাঝে দারুণ আগ্রহ জাগায়। গ্যালারিতে পালঙ্ক ছাড়াও কাঠের তৈরি সিন্দুক, বেড়া, দরজা, পালকি, ঢেঁকি, সিংহাসন ও চেয়ারের মতো প্রাচীন সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে, যা আমাদের অতীত জীবনযাত্রার পরিচয় বহন করে। পরি, মৎস্যকন্যা, সিংহ, বাঘ দেখে ওরা অনেক খুশি হয়েছে।’।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবরের ব্যাটিং ফর্ম ফেরাতে বিদেশের একাডেমির পরামর্শ মোহাম্মদ ইউসুফের

জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত জমিদারদের বিশাল সব পালঙ্ক

আপডেট সময় ১১:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাচীন নিদর্শনের মধ্যে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে জমিদারদের ব্যবহৃত বিশাল সব পালঙ্ক। জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের ৩১ ও ৩২ নম্বর কাঠের শিল্পকর্ম গ্যালারিতে প্রদর্শিত এসব আসবাব যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। সেখানে প্রাচীন মুদ্রা বা ভাস্কর্যের পাশাপাশি এসব কারুকার্যময় পালঙ্ক দর্শনার্থীদের কাছে আভিজাত্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে ধরা দেয়। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের কাছে এই কাঠের শিল্পকর্মগুলো অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক। জাতীয় জাদুঘরে ঢুকলে চোখে পড়ে ইতিহাসের নানা নিদর্শন। কোথাও প্রাচীন মুদ্রা, কোথাও পাথরের ভাস্কর্য, কোথাও আবার রাজা-বাদশাহদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র। জাদুঘরের দেওয়া তথ্যমতে, দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় এই দুই গ্যালারিতে। রেবন্তর বিরল মূর্তি উদ্ধার করে জাদুঘরে দিল বিজিবি, এই মূর্তির বিশেষত্ব কী। পালঙ্ক শুধু ঘুমানো বা বিশ্রামের আসবাব নয়, এর নকশায় প্রকাশ পেত কারিগরদের দক্ষতা ও শিল্পবোধ।

জাদুঘরের গ্যালারিতে সংরক্ষিত নড়াইলের লোহাগড়া ও ফরিদপুরের জমিদারদের পালঙ্ক দুটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে।

১৯৭৬ সালে সংগৃহীত ফরিদপুরের জমিদারের পালঙ্কটি উনিশ শতকে তৈরি। ১২৩ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২৭ ইঞ্চি প্রস্থের এই পালঙ্কের কাঠামোয় মানুষের অবয়ব, নারীমূর্তি, সিংহ, হরিণ ও হাতির চমৎকার খোদাই রয়েছে। অন্যদিকে, লোহাগড়ার জমিদারদের ব্যবহৃত পালঙ্কটি ১৯৭৮ সালে ইতনা গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়। ১২৫ ইঞ্চি দীর্ঘ, ১০১ ইঞ্চি প্রশস্ত এবং ১৩৩ ইঞ্চি উচ্চতার এই পালঙ্কটির পায়াগুলো পরির আদলে তৈরি এবং চার কোণায় প্যাঁচানো নকশার স্তম্ভ রয়েছে। পেছনের অংশে রয়েছে উদ্ভিজ্জ, ফুলেল ও লতাপাতার নকশা।

বাঙালি লোকশিল্পের ধারায় দারুশিল্প বা কাঠের খোদাই কাজ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় যশোর, খুলনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলে উচ্চমানের পালঙ্ক নির্মাণের চল ছিল। তখন জমিদার ও বিত্তবানেরা মাসিক চুক্তিতে সূত্রধরদের নিয়োগ দিতেন এবং একেকটি পালঙ্ক তৈরিতে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় ব্যয় হতো। সেগুন, কাঁঠাল, গর্জন, জারুল ও মেহগনি কাঠের ওপর সূক্ষ্ম ছেনি ও বাটালি দিয়ে ফুটে উঠত ত্রিমাত্রিক বা দ্বিমাত্রিক নানাবিধ নকশা। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা তো পালঙ্ক দেখেনি, এখানে দেখাতে এসেছি। খাটের মাথা ও পায়ার দিকে কাঠ খোদাই করে ত্রিমাত্রিক ও দ্বিমাত্রিক নকশা ফুটিয়ে তোলা হতো। ‘দুই শতাব্দী’ আগের কাবিননামায় কনের তিন শর্ত।

শাস্ত্রীয় প্রভাব ও শিল্পীর নিজস্ব শৈলীর মিশেলে এসব আসবাবের নকশা হতো বৈচিত্র্যময়। কোনো পালঙ্কে হয়তো সিংহের থাবার আদলে সিংহপায়া করা হয়েছে, আবার কোনোটিতে লতাপাতা, গোলাপ, কলকা, ময়ূর বা পরির অবয়ব খোদাই করা হয়েছে। উনিশ শতকের পরবর্তী সময়ে বিদেশি বণিকদের প্রভাবে আসবাবের নকশায় ব্রিটিশ, রোমান, গ্রিক ও আরবি শিল্পশৈলীর সমন্বয় ঘটতে দেখা যায়। ‘যুক্তি কল্পতরু’ গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী খাট-পালঙ্ককে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হতো, যা রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে বাংলার সূত্রধরেরা এসব নকশায় নিজেদের শিল্পশৈলীও বজায় রেখেছিলেন। সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব রুচির ছাপও থাকত এসব আসবাবে। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রাসিদ্ধি, সর্বসিদ্ধ, বিজয়া, অষ্টমঙ্গলা, জয়, মঙ্গল, প্রেয়ান, চিত্রকান্ত ও মঞ্চ। ‘যুক্তি কল্পতরু’ গ্রন্থে খাটকে দূরদর্শী, দীর্ঘদর্শী, দুর্লঙ্ঘ্য ও দুরাসদ—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এসব শ্রেণির খাট রাজাদের জন্য সুখকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিদেশি বণিক ও পর্যটকদের আগমন এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর প্রভাবে বাংলার আসবাবশিল্পে পরিবর্তন আসে। ‘বাংলাদেশের দারুশিল্প’ বইয়ে পালঙ্কের বিভিন্ন অংশের অলংকরণে কারুশিল্পীদের দক্ষতার বর্ণনা রয়েছে।

জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের স্টোরে বর্তমানে ২১৪টি কাঠের শিল্পকর্ম সংরক্ষিত রয়েছে, যার মধ্যে ৪৬টি নিদর্শন গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হচ্ছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বিভাগের কিপার আসমা ফেরদৌসি জানান, তাদের নিজস্ব ল্যাব রয়েছে যেখানে নিদর্শনগুলোর অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কাঠের আসবাব হওয়ায় আর্দ্রতা বা কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে এগুলো সুরক্ষায় তারা সব সময় সতর্ক থাকেন। জাদুঘরে যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়: কাঠের তৈরি হওয়ায় আর্দ্রতার পরিবর্তন, ছত্রাক ও কীটপতঙ্গের আক্রমণে পালঙ্কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘদিন এসব নিদর্শনের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, উপযুক্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ জরুরি।

পরিবার নিয়ে জাদুঘরে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী রাকিব হাসানের মতে, আধুনিক প্রজন্মের কাছে এসব পালঙ্ক কেবল দেখার বিষয় নয়, বরং তা শিল্পের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে। সিংহ, পরি ও মৎস্যকন্যার নকশা ছোটদের মাঝে দারুণ আগ্রহ জাগায়। গ্যালারিতে পালঙ্ক ছাড়াও কাঠের তৈরি সিন্দুক, বেড়া, দরজা, পালকি, ঢেঁকি, সিংহাসন ও চেয়ারের মতো প্রাচীন সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে, যা আমাদের অতীত জীবনযাত্রার পরিচয় বহন করে। পরি, মৎস্যকন্যা, সিংহ, বাঘ দেখে ওরা অনেক খুশি হয়েছে।’।