ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতি ঘটলে সব ধরণের প্রতিকূল পরিস্থিতি বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। বাহরাইনে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন ‘মানামা ডায়ালগে’ বক্তব্য প্রদানের সময় তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।
আনোয়ার গারগাশ জানান, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জনের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং কোনো পক্ষই এর থেকে সুফল পাবে না। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়টি পুনরায় স্পষ্ট করেছেন তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এর আগে শনিবার আবুধাবিতেও একই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হননি। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যেকোনো হুমকি বা হামলার তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য দেশের সামরিক কমান্ডারদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ভূখণ্ডগত সীমানা বিবেচনায় না রেখেই এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমতাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের সামরিক সতর্কতা বজায় রাখছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























