ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

জাপানের চার শর্ত মেনে শাহজালালে চালু হচ্ছে তৃতীয় টার্মিনাল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি চূড়ান্ত করতে জাপানি কনসোর্টিয়ামের চারটি প্রধান শর্ত মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব ভাগাভাগির নিয়ম, দেশের আইন পরিবর্তনের প্রভাব, নির্মাণগত ত্রুটির দায়ভার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তিগত সম্পর্ক। এছাড়া আগামী ১৫ বছর ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে নতুন কোনো প্রতিযোগী বিমানবন্দর না খোলার শর্তেও সম্মত হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার দীর্ঘ জটিলতা কেটে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন থেকেই টার্মিনালটিতে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা। চুক্তির বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন কমিটির সহসভাপতি এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, রাজস্ব ভাগাভাগিতে বাংলাদেশের অংশ অন্তত ২৭ শতাংশ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে আর্থিক বিষয়গুলোর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রাসঙ্গিক রাজস্বের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে বলে জানানো হয়েছে। চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজস্ব বণ্টন।

টার্মিনাল পরিচালনার বড় বাধা ছিল ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর না গড়ার শর্ত। এই চুক্তির ফলে আগামী ১৫ বছর ঢাকার কাছাকাছি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিযোগী বিমানবন্দর চালু করা যাবে না। যদিও ভবিষ্যতে নতুন রানওয়ে নির্মাণের আইনি বাধা থাকবে না, তবে বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরুর সুযোগ থাকবে না, যা ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিজস্ব উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল, যা সমঝোতার মাধ্যমে নিরসনের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই শর্ত ঢাকার আশপাশে ভবিষ্যতে বিকল্প বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরিচালনাগত প্রস্তুতি থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে এই হার কার্যকর হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পের ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে দুই কোটিতে উন্নীত হবে। তবে উদ্বোধনের দিন ফ্লাইট সংখ্যা নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে; যেখানে বেবিচক অন্তত ১০টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইলেও জাপানি পক্ষ বর্তমানে চারটি ফ্লাইট চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই ভিন্নমতের মধ্যেই নির্ধারিত সময়ে টার্মিনালটি চালুর চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে ইসরাইল

জাপানের চার শর্ত মেনে শাহজালালে চালু হচ্ছে তৃতীয় টার্মিনাল

আপডেট সময় ১০:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি চূড়ান্ত করতে জাপানি কনসোর্টিয়ামের চারটি প্রধান শর্ত মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব ভাগাভাগির নিয়ম, দেশের আইন পরিবর্তনের প্রভাব, নির্মাণগত ত্রুটির দায়ভার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তিগত সম্পর্ক। এছাড়া আগামী ১৫ বছর ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে নতুন কোনো প্রতিযোগী বিমানবন্দর না খোলার শর্তেও সম্মত হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার দীর্ঘ জটিলতা কেটে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন থেকেই টার্মিনালটিতে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা। চুক্তির বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন কমিটির সহসভাপতি এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, রাজস্ব ভাগাভাগিতে বাংলাদেশের অংশ অন্তত ২৭ শতাংশ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে আর্থিক বিষয়গুলোর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রাসঙ্গিক রাজস্বের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে বলে জানানো হয়েছে। চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজস্ব বণ্টন।

টার্মিনাল পরিচালনার বড় বাধা ছিল ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর না গড়ার শর্ত। এই চুক্তির ফলে আগামী ১৫ বছর ঢাকার কাছাকাছি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিযোগী বিমানবন্দর চালু করা যাবে না। যদিও ভবিষ্যতে নতুন রানওয়ে নির্মাণের আইনি বাধা থাকবে না, তবে বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরুর সুযোগ থাকবে না, যা ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিজস্ব উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল, যা সমঝোতার মাধ্যমে নিরসনের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই শর্ত ঢাকার আশপাশে ভবিষ্যতে বিকল্প বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরিচালনাগত প্রস্তুতি থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে এই হার কার্যকর হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পের ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে দুই কোটিতে উন্নীত হবে। তবে উদ্বোধনের দিন ফ্লাইট সংখ্যা নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে; যেখানে বেবিচক অন্তত ১০টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইলেও জাপানি পক্ষ বর্তমানে চারটি ফ্লাইট চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই ভিন্নমতের মধ্যেই নির্ধারিত সময়ে টার্মিনালটি চালুর চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ।