ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

শেষনিশ্বাস পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব: নরেন্দ্র মোদি

দিল্লিতে বিরোধীদের বড় ধরনের জনসভার দুই দিন আগেই গুজরাটের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশ ও দেশবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। তার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন মোদি? গুজরাটের বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় অবসরগ্রহণের যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মোদি ঘোষণা করেছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কাজ করে যাবেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার দেশের মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকব। শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি সেবার নীতিকেই ব্রত হিসেবে মেনে চলব—আমার মানুষের সেবা, প্রতিটি মানুষের সেবা।’। মোদির এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী ও ক্ষমতাসীন দুই শিবিরেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে কি নরেন্দ্র মোদি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার বিজেপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথাই বলছেন। তিনি বলেন, গুজরাটবাসীই তাঁকে সবকিছু শিখিয়েছেন। কৃষি ও দুগ্ধশিল্প থেকে শুরু করে পরিকাঠামো এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বানাসকাণ্ঠার সাম্প্রতিক অগ্রগতির তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মোদি বলেন, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম জনসভাটি এই বানাসকাণ্ঠাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মোদি বলেন, গুজরাটের মানুষই তাকে সব শিখিয়েছেন। তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ না ডেকে বরং পুরোনো আদরে ‘নরেন্দ্র ভাই’ হিসেবেই যেন সম্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি তাঁর অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম প্রধান জনসভাও এই বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত হয়েছিল। তিনি এমন এক সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে কেউ পঞ্চায়েতপ্রধান হওয়ার স্বপ্নও কোনো দিন দেখেননি। সেই সাধারণ মানুষ থেকে আজ তিনি যেখানে পৌঁছেছেন, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি দেশের জনগণের ভালোবাসাকেই দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলোর কথা স্মরণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, শুরুতে তাঁর সরকারি নথি বা প্রশাসনিক নীতি সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না।

এদিন ১৪ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন মোদি। জনসভায় কৃষকদের উন্নত ভারত গড়ার মেরুদণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিগত দশকে পশুপালনের মতো খাতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ বহুগুণ বেড়েছে। তার সরকার সবসময় কৃষকদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বানাসকাণ্ঠা সফরের সময় মোদি ১৪ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং বেশ কিছু প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।

পূর্ববর্তী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে মোদি দাবি করেন, এনডিএ সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিয়ে দেওয়া সব ওয়াদা পূরণ করেছে।

তার ভাষ্যমতে, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনহিতকর নীতির কারণে কৃষকরা প্রায় ৫০ লাখ কোটি রুপি লাভবান হয়েছেন এবং একই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পেরেছেন। প্রসঙ্গত, গুজরাট সফরের সময় তিনি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘একতা দিবস’-এর অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ১০ কেজি ক্যাপ্টাগনসহ ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা আটক

শেষনিশ্বাস পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব: নরেন্দ্র মোদি

আপডেট সময় ০৭:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

দিল্লিতে বিরোধীদের বড় ধরনের জনসভার দুই দিন আগেই গুজরাটের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশ ও দেশবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। তার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন মোদি? গুজরাটের বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় অবসরগ্রহণের যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মোদি ঘোষণা করেছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কাজ করে যাবেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার দেশের মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকব। শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি সেবার নীতিকেই ব্রত হিসেবে মেনে চলব—আমার মানুষের সেবা, প্রতিটি মানুষের সেবা।’। মোদির এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী ও ক্ষমতাসীন দুই শিবিরেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে কি নরেন্দ্র মোদি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার বিজেপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথাই বলছেন। তিনি বলেন, গুজরাটবাসীই তাঁকে সবকিছু শিখিয়েছেন। কৃষি ও দুগ্ধশিল্প থেকে শুরু করে পরিকাঠামো এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে বানাসকাণ্ঠার সাম্প্রতিক অগ্রগতির তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মোদি বলেন, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম জনসভাটি এই বানাসকাণ্ঠাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মোদি বলেন, গুজরাটের মানুষই তাকে সব শিখিয়েছেন। তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ না ডেকে বরং পুরোনো আদরে ‘নরেন্দ্র ভাই’ হিসেবেই যেন সম্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি তাঁর অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম প্রধান জনসভাও এই বানাসকাণ্ঠায় আয়োজিত হয়েছিল। তিনি এমন এক সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে কেউ পঞ্চায়েতপ্রধান হওয়ার স্বপ্নও কোনো দিন দেখেননি। সেই সাধারণ মানুষ থেকে আজ তিনি যেখানে পৌঁছেছেন, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তিনি দেশের জনগণের ভালোবাসাকেই দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলোর কথা স্মরণ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, শুরুতে তাঁর সরকারি নথি বা প্রশাসনিক নীতি সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না।

এদিন ১৪ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন মোদি। জনসভায় কৃষকদের উন্নত ভারত গড়ার মেরুদণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিগত দশকে পশুপালনের মতো খাতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ বহুগুণ বেড়েছে। তার সরকার সবসময় কৃষকদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বানাসকাণ্ঠা সফরের সময় মোদি ১৪ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং বেশ কিছু প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।

পূর্ববর্তী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে মোদি দাবি করেন, এনডিএ সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিয়ে দেওয়া সব ওয়াদা পূরণ করেছে।

তার ভাষ্যমতে, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনহিতকর নীতির কারণে কৃষকরা প্রায় ৫০ লাখ কোটি রুপি লাভবান হয়েছেন এবং একই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পেরেছেন। প্রসঙ্গত, গুজরাট সফরের সময় তিনি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘একতা দিবস’-এর অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।