ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

১১ বছর পর নতুন বেতনকাঠামোয় টাকা পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পেয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ রোববার ১ নভেম্বর সকালে মুঠোফোনে বার্তার মাধ্যমে অনেকেই তাদের অক্টোবর মাসের বেতনের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বাড়তি অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারি এই নতুন কাঠামোর আওতায় ১৪ লাখ কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী ও ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সকাল ১০টার পর থেকে তাঁদের মুঠোফোনে নতুন বেতনের হিসাবে টাকা পাওয়ার বার্তা এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সব সুবিধাভোগী বাড়তি বেতন পেলেও প্রায় এক লাখের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো বেতন পাননি। মূলত বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ চূড়ান্ত করতে না পারার কারণেই এই বিলম্ব ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এই জটিলতা কেটে যাবে এবং তারা তাদের পাওনা বুঝে পাবেন। যাঁদের পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হয়নি, তাঁরা আগামী ২–৩ দিনের পাবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।

এদিকে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে। অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। কর্মচারীদের প্রধান অভিযোগ, নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেড বিন্যাসে অসংগতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও সমস্যা রয়েছে, যা পদোন্নতি পাওয়া অনেকের ক্ষেত্রে আয় কমে যাওয়ার মতো শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ এসব অসংগতি নিরসনে কাজ করছে। ফলে কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আবার কারও ক্ষেত্রে পদোন্নতির পরও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারিকৃত নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপনে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই কাঠামো ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ৫০ শতাংশ হারে পেয়েছেন, যা ৩০ জুনের প্রাপ্ত বেতনের সাথে যুক্ত হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে বৃদ্ধির ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন স্কেলের পূর্ণ সুবিধা কার্যকর হবে। এছাড়া অন্যান্য সব ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বিদ্যমান হারেই দেওয়া হচ্ছে এবং সংশোধিত ভাতার হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছিল, যেখানে সর্বোচ্চ গ্রেডে ৯৫ শতাংশ ও সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ মূল বেতন বাড়ানো হয়েছিল। গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে। অন্যান্য সব ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে পাওয়া যাচ্ছিল, সেই বিদ্যমান হারেই দেওয়া হচ্ছে। সেটিই এত দিন সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির ঘটনা ছিল।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী গ্রীষ্মে লোডশেডিং কমবে সোলার এনার্জিতে: বিদ্যুৎ জ্বালানিমন্ত্রী

১১ বছর পর নতুন বেতনকাঠামোয় টাকা পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

আপডেট সময় ০২:২৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পেয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ রোববার ১ নভেম্বর সকালে মুঠোফোনে বার্তার মাধ্যমে অনেকেই তাদের অক্টোবর মাসের বেতনের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বাড়তি অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারি এই নতুন কাঠামোর আওতায় ১৪ লাখ কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী ও ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সকাল ১০টার পর থেকে তাঁদের মুঠোফোনে নতুন বেতনের হিসাবে টাকা পাওয়ার বার্তা এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সব সুবিধাভোগী বাড়তি বেতন পেলেও প্রায় এক লাখের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো বেতন পাননি। মূলত বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ চূড়ান্ত করতে না পারার কারণেই এই বিলম্ব ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এই জটিলতা কেটে যাবে এবং তারা তাদের পাওনা বুঝে পাবেন। যাঁদের পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হয়নি, তাঁরা আগামী ২–৩ দিনের পাবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।

এদিকে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে। অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। কর্মচারীদের প্রধান অভিযোগ, নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেড বিন্যাসে অসংগতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও সমস্যা রয়েছে, যা পদোন্নতি পাওয়া অনেকের ক্ষেত্রে আয় কমে যাওয়ার মতো শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ এসব অসংগতি নিরসনে কাজ করছে। ফলে কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আবার কারও ক্ষেত্রে পদোন্নতির পরও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারিকৃত নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপনে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই কাঠামো ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ৫০ শতাংশ হারে পেয়েছেন, যা ৩০ জুনের প্রাপ্ত বেতনের সাথে যুক্ত হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে বৃদ্ধির ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন স্কেলের পূর্ণ সুবিধা কার্যকর হবে। এছাড়া অন্যান্য সব ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বিদ্যমান হারেই দেওয়া হচ্ছে এবং সংশোধিত ভাতার হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছিল, যেখানে সর্বোচ্চ গ্রেডে ৯৫ শতাংশ ও সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ মূল বেতন বাড়ানো হয়েছিল। গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে। অন্যান্য সব ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে পাওয়া যাচ্ছিল, সেই বিদ্যমান হারেই দেওয়া হচ্ছে। সেটিই এত দিন সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির ঘটনা ছিল।