ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সাঁতার জানা ছেলের ডুবে মৃত্যু অসম্ভব, ময়নাতদন্তের দাবি তাহসিফের বাবার

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু নি‌য়ে নানা প্রশ্ন ও অসঙ্গতি তু‌লে ধরেছেন তাঁর বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। প্রশিক্ষিত সাঁতারু হওয়ায় তাঁর ছে‌লে তুরাগ নদে ডুবে মারা যেতে পারেন না বলে তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন। একই সঙ্গে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ পালিয়ে যাবেন—এমন আশঙ্কাও সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। প্রতিবারই তাহসিফ বলেছেন, ‘আম্মা, এই আসছি, আসছি। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হলে আমি এটাকে খুব সহজ করার চেষ্টা করি, যাতে পারিপার্শ্বিক সবাই মানসিক সাহস ও শক্তি পায়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ। পরদিন উত্তরখানের রাজবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন তাঁর বাবা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাঁকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়।

নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চিহ্নিত করে। প্রথমে পিবিআই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পরে শনিবার নৌ পুলিশ দীপকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আমি ১০ ভাই–বোনের মধ্যে সবার বড়।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন দীপ ও তাহসিফ একসঙ্গেই ছিলেন। দীপের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা তাহসিফের নিজের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সময়ের বিবরণ ও মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থান নিয়ে দীপের দেওয়া তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। আবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ট্রল হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কি মাদক কারবারি, নাকি পুলিশ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। সে বলল, ১ নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে বিদায় নিয়েছে; আবার বলল, ভেতরে দাঁড়িয়ে বিদায় নিয়েছে।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর দীপ বাসায় এসে ডাক দিলে তাহসিফ তাঁর মাকে বলে যান যে তিনি কিছুক্ষণ কথা বলে ফিরছেন। পরবর্তীতে বারবার যোগাযোগ করা হলে তাহসিফ শিগগিরই ফিরছেন বলে ফোনে নিশ্চিত করেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজে রওনা দেওয়ার কথা জানালেও তিনি কোথায় ছিলেন তা প্রকাশ করেননি। এরপর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমরা তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে চাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’। তবে কোথা থেকে রওনা হয়েছেন, তা বলেননি। তাঁর বাবা বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ছুটে যাই। আমার প্রত্যেক ভাই-বোনকে পরিচয় দেওয়ার মতো করে বড় করেছি। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমি ছেলেকে না পেয়ে বন্ধুকে নির্দিষ্ট করে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কোথা থেকে বিদায় নিয়েছ।

পরদিন সন্ধ্যার ঠিক আগে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে ফোন করে তাহসিফের লাশ পাওয়ার সংবাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছেলে হারানো শোকের মধ্যেও সংবাদমাধ্যমের কাছে এনায়েতুল করিম ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট তদন্তের জোরালো দাবি জানান।

ছেলের শারীরিক দক্ষতা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করে এনায়েতুল করিম বলেন, তাহসিফ শুধু দক্ষ সাঁতারুই ছিলেন না, তিনি মিডিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। বিএএফ-এর কমিশন্ড অফিসার এবং জিডি পাইলট হিসেবে তিনি অত্যন্ত সাহসী ও মেধা সম্পন্ন ছিলেন। তাই সাধারণ কোনো ধাওয়ায় পড়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেবেন—এমন দাবি অবাস্তব ও হাস্যকর। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘একজন কমিশন্ড অফিসারের সামনে ১০০ পুলিশ অফিসার দাঁড়ালেও তো দৌড় দেওয়ার কথা নয়। তিনি আজ শনিবার বলেন, ‘সে (তাহসিফ) কারও ধাওয়ায় দৌড় দেবে, আর তাকে ধাওয়াই বা কে দেবে। কমিশন্ড অফিসারদের মধ্যে জিডি পাইলটরা সেরা।

বন্ধু দীপের বক্তব্যের অসঙ্গতি তুলে ধরে তাহসিফের বাবা জানান, দীপ প্রাথমিক আলোচনায় দাবি করেছিলেন যে তাঁরা একসঙ্গে নৈশভোজ শেষে রাত বারোটার আগেই তাহসিফকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। অথচ পরে জানা যায় দীপ রাত আড়াইটার পর ঘরে ফিরেছেন। তদুপরি, বাসার সামনে নামিয়ে দেওয়া হলে তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় কীভাবে পৌঁছাল, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি তাঁরা। আমার ভেতরে কীভাবে ভেঙে পড়ছে, কী হচ্ছে, আমি কীভাবে হাউমাউ করে কাঁদছি, চিৎকার করছি—এটা তো আমি আমার রুমের মধ্যে, ওয়াশরুমের মধ্যে করছি। তারা একসঙ্গে সেখানে গেছে, তাহলে এই কথার মধ্যে যে অসংগতি, তা তো প্রশ্নবিদ্ধ।’।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে দীপ পরবর্তীতে পুলিশকে জানান, তাঁরা দুজনে রাজবাড়ী ঘাটের দিকে গিয়েছিলেন এবং সেখানে পুলিশের পোশাকে থাকা কিছু মানুষকে দেখে দৌড় দেন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করা হয়। তবে এনায়েতুল করিম স্পষ্ট করেছেন, এসব তথ্যের কোনো সত্যতা বা ধারাবাহিকতা তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না এবং গোটা প্রক্রিয়াটিই সন্দেহজনক।

সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা বিসিবি ও নেত্র নিউজেও কাজ করেছিলেন। তাঁর এই অকাল ও রহস্যময় বিয়োগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাটি একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে এইচআরএসএস ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করার জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের ডিজিটাল ও বস্তুগত সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ, পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বর্তমানে রিমান্ডে থাকা আসামির আইনি অধিকার যেন বজায় থাকে সে বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের আঘাত সত্ত্বেও এনায়েতুল করিম ন্যায়বিচারের দাবিতে শক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নানা ভ্রান্ত তথ্য ও কটূক্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, পরিবারের অভিভাবক হিসেবে ভেঙে না পড়ে তিনি ঘটনার সঠিক বিচার চান এবং আদালতের মাধ্যমেই সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা রাখছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি বিমানবন্দরে হামলা: ঢাকায় ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল ও হাজারো যাত্রী বিপাকে

সাঁতার জানা ছেলের ডুবে মৃত্যু অসম্ভব, ময়নাতদন্তের দাবি তাহসিফের বাবার

আপডেট সময় ০৮:০১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু নি‌য়ে নানা প্রশ্ন ও অসঙ্গতি তু‌লে ধরেছেন তাঁর বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। প্রশিক্ষিত সাঁতারু হওয়ায় তাঁর ছে‌লে তুরাগ নদে ডুবে মারা যেতে পারেন না বলে তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন। একই সঙ্গে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ পালিয়ে যাবেন—এমন আশঙ্কাও সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। প্রতিবারই তাহসিফ বলেছেন, ‘আম্মা, এই আসছি, আসছি। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হলে আমি এটাকে খুব সহজ করার চেষ্টা করি, যাতে পারিপার্শ্বিক সবাই মানসিক সাহস ও শক্তি পায়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ। পরদিন উত্তরখানের রাজবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন তাঁর বাবা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাঁকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়।

নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চিহ্নিত করে। প্রথমে পিবিআই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পরে শনিবার নৌ পুলিশ দীপকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আমি ১০ ভাই–বোনের মধ্যে সবার বড়।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন দীপ ও তাহসিফ একসঙ্গেই ছিলেন। দীপের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা তাহসিফের নিজের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সময়ের বিবরণ ও মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থান নিয়ে দীপের দেওয়া তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। আবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাকে নিয়ে বিভিন্ন ট্রল হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কি মাদক কারবারি, নাকি পুলিশ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। সে বলল, ১ নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে বিদায় নিয়েছে; আবার বলল, ভেতরে দাঁড়িয়ে বিদায় নিয়েছে।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর দীপ বাসায় এসে ডাক দিলে তাহসিফ তাঁর মাকে বলে যান যে তিনি কিছুক্ষণ কথা বলে ফিরছেন। পরবর্তীতে বারবার যোগাযোগ করা হলে তাহসিফ শিগগিরই ফিরছেন বলে ফোনে নিশ্চিত করেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজে রওনা দেওয়ার কথা জানালেও তিনি কোথায় ছিলেন তা প্রকাশ করেননি। এরপর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমরা তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে চাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’। তবে কোথা থেকে রওনা হয়েছেন, তা বলেননি। তাঁর বাবা বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ছুটে যাই। আমার প্রত্যেক ভাই-বোনকে পরিচয় দেওয়ার মতো করে বড় করেছি। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আমি ছেলেকে না পেয়ে বন্ধুকে নির্দিষ্ট করে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কোথা থেকে বিদায় নিয়েছ।

পরদিন সন্ধ্যার ঠিক আগে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে ফোন করে তাহসিফের লাশ পাওয়ার সংবাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছেলে হারানো শোকের মধ্যেও সংবাদমাধ্যমের কাছে এনায়েতুল করিম ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট তদন্তের জোরালো দাবি জানান।

ছেলের শারীরিক দক্ষতা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করে এনায়েতুল করিম বলেন, তাহসিফ শুধু দক্ষ সাঁতারুই ছিলেন না, তিনি মিডিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। বিএএফ-এর কমিশন্ড অফিসার এবং জিডি পাইলট হিসেবে তিনি অত্যন্ত সাহসী ও মেধা সম্পন্ন ছিলেন। তাই সাধারণ কোনো ধাওয়ায় পড়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেবেন—এমন দাবি অবাস্তব ও হাস্যকর। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘একজন কমিশন্ড অফিসারের সামনে ১০০ পুলিশ অফিসার দাঁড়ালেও তো দৌড় দেওয়ার কথা নয়। তিনি আজ শনিবার বলেন, ‘সে (তাহসিফ) কারও ধাওয়ায় দৌড় দেবে, আর তাকে ধাওয়াই বা কে দেবে। কমিশন্ড অফিসারদের মধ্যে জিডি পাইলটরা সেরা।

বন্ধু দীপের বক্তব্যের অসঙ্গতি তুলে ধরে তাহসিফের বাবা জানান, দীপ প্রাথমিক আলোচনায় দাবি করেছিলেন যে তাঁরা একসঙ্গে নৈশভোজ শেষে রাত বারোটার আগেই তাহসিফকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। অথচ পরে জানা যায় দীপ রাত আড়াইটার পর ঘরে ফিরেছেন। তদুপরি, বাসার সামনে নামিয়ে দেওয়া হলে তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় কীভাবে পৌঁছাল, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি তাঁরা। আমার ভেতরে কীভাবে ভেঙে পড়ছে, কী হচ্ছে, আমি কীভাবে হাউমাউ করে কাঁদছি, চিৎকার করছি—এটা তো আমি আমার রুমের মধ্যে, ওয়াশরুমের মধ্যে করছি। তারা একসঙ্গে সেখানে গেছে, তাহলে এই কথার মধ্যে যে অসংগতি, তা তো প্রশ্নবিদ্ধ।’।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে দীপ পরবর্তীতে পুলিশকে জানান, তাঁরা দুজনে রাজবাড়ী ঘাটের দিকে গিয়েছিলেন এবং সেখানে পুলিশের পোশাকে থাকা কিছু মানুষকে দেখে দৌড় দেন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করা হয়। তবে এনায়েতুল করিম স্পষ্ট করেছেন, এসব তথ্যের কোনো সত্যতা বা ধারাবাহিকতা তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না এবং গোটা প্রক্রিয়াটিই সন্দেহজনক।

সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা বিসিবি ও নেত্র নিউজেও কাজ করেছিলেন। তাঁর এই অকাল ও রহস্যময় বিয়োগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাটি একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে এইচআরএসএস ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করার জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের ডিজিটাল ও বস্তুগত সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ, পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বর্তমানে রিমান্ডে থাকা আসামির আইনি অধিকার যেন বজায় থাকে সে বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের আঘাত সত্ত্বেও এনায়েতুল করিম ন্যায়বিচারের দাবিতে শক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নানা ভ্রান্ত তথ্য ও কটূক্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, পরিবারের অভিভাবক হিসেবে ভেঙে না পড়ে তিনি ঘটনার সঠিক বিচার চান এবং আদালতের মাধ্যমেই সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা রাখছেন।