দীর্ঘ ৩৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সীমিত পরিসরে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের কয়েকটি ব্যাচের ক্লাস পরিচালনার মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সূচনা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি ১১টি বিভাগের কার্যক্রম এখনো বন্ধ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধের এখনো সুরাহা না হলেও ক্লাস শুরুর মাধ্যমে আংশিক সচল হলো বিশ্ববিদ্যালয়টি। ক্লাস শুরু হলেও উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ভিন্নমত থাকতে পারে। পরদিন তাঁরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে কমিটির সদস্যরা শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেন। অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনের নেতৃত্বে এই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করছেন ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন বুয়েট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী।
সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ক্লাস চলাকালীন সরজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত।
বিভাগটির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ তালবী জানান, রুটিন অনুযায়ী ল্যাব ক্লাস থাকার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।
বিভাগীয় প্রধান ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা জানান, ২১, ২২ ও ২৩ ব্যাচের ক্লাস নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে উপস্থিতি বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। তবে ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে অটল রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল জানান, বৈঠকে কমিটির কাছে তারা স্পষ্টভাবেই নিজেদের অবস্থান ও আন্দোলনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তুলনামূলকভাবে ২১ ও ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বেশি উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও ইউজিসি কমিটির কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান জানান, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে লিখিত নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং মৌখিকভাবে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো সরকারের উচ্চপর্যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হবে বলে তারা আশা করছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের এক পর্যায়ে ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। ওয়াসিফ রাশেদ জানান, উপাচার্য নিয়োগ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার অংশ হলেও ক্লাস বন্ধ থাকা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তিনি অভিযোগ করেন যে, উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কিছু শিক্ষার্থী বাধা ও একাডেমিক গ্রুপ থেকে বহিষ্কারের শিকার হয়েছেন। এসব বিষয় তারা কমিটির কাছে তুলে ধরেছেন।
ইউজিসির সদস্য ও কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, সব পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার বরাবর প্রয়োজনীয় পরামর্শ সুপারিশ করা হবে। শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। ইউজিসির এই উদ্যোগের পর এখন সংশ্লিষ্ট সবাই সংকট সমাধানের পথ খোঁজার অপেক্ষায় রয়েছেন। সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























