ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

ব্যালন ডি’অর মঞ্চে ব্রাজিল কেন পিছিয়ে, কী বলছেন বিশ্লেষকরা

ফুটবল ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র—রোনালদো নাজারিও, রিভালদো, রোনালদিনিও কিংবা কাকার মতো জাদুকরদের হাত ধরে একসময় ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে ছিল ব্রাজিলিয়ানদের রাজকীয় পদচারণা। তাদের পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা বিশ্ব। কিন্তু বর্তমান সময়ে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে ব্রাজিল কেবল অতীতের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছে। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত সাম্প্রতিক ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান যেন সেই বিবর্ণ বর্তমানকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল। তারপর যেন কারখানাটার উৎপাদনই কমে গেল।

একসময় ব্রাজিল ছিল বিশ্ব ফুটবলের প্রতিভা তৈরির কারখানা। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এই পুরস্কার শুধু ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও, পরবর্তী সময়ে নিয়ম পরিবর্তনের পর ব্রাজিলিয়ানরা দাপটের সঙ্গেই রাজত্ব করেছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মাত্র চারবার ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিনে কোনো ব্রাজিলিয়ান ছিলেন না। ওই সময়ের মধ্যে ব্রাজিলিয়ানরা পাঁচবার এই ট্রফি জিতেছিলেন। কিন্তু ২০০৭ সালে কাকার সেই জয়ের পর ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আর কোনো ব্রাজিলিয়ানের হাতে ওঠেনি বিশ্বসেরার সোনালি বল। হয়তো আগেই বুঝেছিলেন, এবার তাঁর হাতে সোনালি বল উঠছে না। বিশ্ব ফুটবলে তাঁদের এমন রাজত্ব শুরু হলো যে অন্যদের জন্য ব্যালন ডি’অর জেতাই কঠিন হয়ে পড়ল। ১১ বছর পর ২০১৮ সালে সেই আধিপত্যে প্রথম বড় ধাক্কা দিলেন লুকা মদরিচ। কিন্তু প্রতিভা আর তাঁর পূর্ণ বিকাশ তো এক জিনিস নয়। তবে বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব দেখতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।’। হাতে ব্যালন ডি’অর, মাথায় ব্যবসার বুদ্ধি—যেভাবে দুই ভুবনের ‘রাজা’ কেইন। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বের সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকায় কোনো ব্রাজিলিয়ানের না থাকাটাই প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক ফুটবল কতটা প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার।

গত এপ্রিলে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি রোমারিও সরাসরি বলেছিলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের পক্ষে ব্যালন ডি’অর জেতা কঠিন।’ অথচ গত মাসে ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিওসের নাম ছিল। ভিনিসিয়ুস পুরস্কার জয়ের ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হলেও লন্ডনের অনুষ্ঠানে তাঁর অনুপস্থিতিই যেন সবকিছু স্পষ্ট করে দেয়। ভোটে শীর্ষ দশেও জায়গা হয়নি রিয়াল মাদ্রিদ তারকার; ১৭তম অবস্থানেই থমকে গেছেন তিনি। সঞ্চালক ও ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরির সে কী উচ্ছ্বাস। ইউরোপের ক্লাবে খেললেও অন্য মহাদেশের কেউ বিবেচিত হতেন না। ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলারের জন্য খুলে যায় পুরস্কারের দরজা। অথচ তখনকার নিয়মের কারণে ব্যালন ডি’অর জেতার সুযোগই পাননি।

ছেলেদের ব্যালন ডি’অরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিভাগে ব্রাজিলের সর্বশেষ প্রাপ্তি ২০১৯ সালে, যখন আলিসন বেকার সেরা গোলকিপার হয়েছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের মতো আক্রমণাত্মক ফুটবলের দেশ গোলকিপারের পুরস্কারে বড় কোনো তৃপ্তি খুঁজে পায় না। মেয়েদের ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি ভিন্ন নয়, শীর্ষ পাঁচে নেই কোনো ব্রাজিলিয়ান। কেবল নারী গোলকিপারের তালিকায় পঞ্চম হয়েছেন লোরেনা। গোলকিপারদের পুরস্কারেও একই দশা হতো, রক্ষা করেছেন ব্রাজিল নারী দলের গোলকিপার লোরেনা।

২০০৭ সালের পর দীর্ঘ ১৯ বছরে মাত্র তিনবার ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিনে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ানরা। এর মধ্যে দুইবার নেইমার (২০১৫ ও ২০১৭) এবং ২০২৪ সালে একবার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ভিনিসিয়ুস অবশ্য ২০২৪ সালে ফিফা দ্য বেস্ট পুরস্কারটি জিতে ব্রাজিলকে একবার বিশ্বসেরার আসনে বসিয়েছেন, যা ব্যালন ডি’অর নয়। তবে রাফিনিয়া বা এস্তেভাওর মতো উঠতি প্রতিভাদের নিয়ে এখনই চূড়ান্ত বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কথাটা তখন অনেকের কাছে বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। দোষটা চাইলে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দিতে পারেন। মাঠের পারফরম্যান্সে দুই মহাতারকার পেছনেই থেকে গেছেন নেইমার। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কেন এই খরা?

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ আলেকজান্দ্রে ভাসকনসেলোসের মতে, বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে খেলোয়াড় গড়ার কাঠামোয় বড় ধরনের সংকট রয়েছে। ক্রীড়া বিপণন, যোগাযোগ ও খেলাধুলায় উদ্ভাবনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং ব্রাজিলে ফ্ল্যাশস্কোরের আঞ্চলিক পরিচালক আলেকজান্দ্রে ভাসকনসেলোস সমস্যাটা দেখছেন একেবারে গোড়ায়। ফুটবলার গড়ার মূল ভিত্তি অর্থাৎ বয়সভিত্তিক পর্যায় ঢেলে সাজানো ছাড়া গতি নেই।

সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার, ফুলব্যাক ও সেন্টার ফরোয়ার্ডের অভাব ব্রাজিলের ফুটবল কাঠামোর গভীর সমস্যাকে তুলে ধরে। ব্রাজিলের ফুটবল একাডেমির কোচ রজার মাচাদোর মতে, বর্তমান ফুটবল আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও পর্তুগাল দক্ষ ফুটবলার তৈরিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, এমনকি ক্রোয়েশিয়া বা বেলজিয়ামের মতো দেশগুলোও নির্দিষ্ট সময়ে ব্রাজিলের চেয়ে বেশি বিশ্বমানের খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে। ব্রাজিলের ফুটবলে কত জল গড়িয়েছে, কত প্রতিভা এসেছে, হারিয়েও গেছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একাডেমির অধ্যাপক ও কোচ রজার মাচাদোর বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার কথা।

রোমারিও মনে করেন, ব্রাজিলের ফুটবলের চিরাচরিত রাস্তার ফুটবল বা স্ট্রিট ফুটবলের পরিবেশ হারিয়ে যাওয়াই তরুণদের সৃজনশীলতা নষ্ট করছে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত নিয়মতান্ত্রিকতা ও আধুনিক ফুটবলের শারীরিক সামর্থ্যের প্রতি অতিনির্ভরশীলতা সহজাত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি আরও বলেন, কেবল একজন খেলোয়াড়ের ওপর ভরসা করাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল।

বিশ্বকাপে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ইউরোপের ক্লাবগুলোতে প্রতি বছর প্রচুর খেলোয়াড় রপ্তানি করলেও বিশ্বসেরার মঞ্চে সেই বিপুল প্রতিভার প্রতিফলন ঘটছে না। ব্যালন ডি’অর তালিকায় আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স আটবার করে, পর্তুগাল, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস সাতবার করে জয়ী হয়েছে। অথচ ব্রাজিল এখনো পাঁচবার জয়েই আটকে আছে। একসময় যাদের পায়ের জাদু দেখতে মুখিয়ে থাকত পৃথিবী, এখন সেই ব্রাজিলিয়ানদের কেবল অতীত নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। বড় পর্দায় দেখানো হলো রোনালদোর বর্ণাঢ্য অতীত।

আপলোডকারীর তথ্য

৬৩ বছর আকাশ সেবায় কাটিয়ে অবসরে ৮৩ বছর বয়সী ক্যারল

ব্যালন ডি’অর মঞ্চে ব্রাজিল কেন পিছিয়ে, কী বলছেন বিশ্লেষকরা

আপডেট সময় ০২:৫৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ফুটবল ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র—রোনালদো নাজারিও, রিভালদো, রোনালদিনিও কিংবা কাকার মতো জাদুকরদের হাত ধরে একসময় ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে ছিল ব্রাজিলিয়ানদের রাজকীয় পদচারণা। তাদের পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা বিশ্ব। কিন্তু বর্তমান সময়ে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে ব্রাজিল কেবল অতীতের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছে। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত সাম্প্রতিক ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান যেন সেই বিবর্ণ বর্তমানকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল। তারপর যেন কারখানাটার উৎপাদনই কমে গেল।

একসময় ব্রাজিল ছিল বিশ্ব ফুটবলের প্রতিভা তৈরির কারখানা। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এই পুরস্কার শুধু ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও, পরবর্তী সময়ে নিয়ম পরিবর্তনের পর ব্রাজিলিয়ানরা দাপটের সঙ্গেই রাজত্ব করেছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মাত্র চারবার ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিনে কোনো ব্রাজিলিয়ান ছিলেন না। ওই সময়ের মধ্যে ব্রাজিলিয়ানরা পাঁচবার এই ট্রফি জিতেছিলেন। কিন্তু ২০০৭ সালে কাকার সেই জয়ের পর ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আর কোনো ব্রাজিলিয়ানের হাতে ওঠেনি বিশ্বসেরার সোনালি বল। হয়তো আগেই বুঝেছিলেন, এবার তাঁর হাতে সোনালি বল উঠছে না। বিশ্ব ফুটবলে তাঁদের এমন রাজত্ব শুরু হলো যে অন্যদের জন্য ব্যালন ডি’অর জেতাই কঠিন হয়ে পড়ল। ১১ বছর পর ২০১৮ সালে সেই আধিপত্যে প্রথম বড় ধাক্কা দিলেন লুকা মদরিচ। কিন্তু প্রতিভা আর তাঁর পূর্ণ বিকাশ তো এক জিনিস নয়। তবে বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব দেখতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।’। হাতে ব্যালন ডি’অর, মাথায় ব্যবসার বুদ্ধি—যেভাবে দুই ভুবনের ‘রাজা’ কেইন। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বের সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকায় কোনো ব্রাজিলিয়ানের না থাকাটাই প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক ফুটবল কতটা প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার।

গত এপ্রিলে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি রোমারিও সরাসরি বলেছিলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের পক্ষে ব্যালন ডি’অর জেতা কঠিন।’ অথচ গত মাসে ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিওসের নাম ছিল। ভিনিসিয়ুস পুরস্কার জয়ের ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হলেও লন্ডনের অনুষ্ঠানে তাঁর অনুপস্থিতিই যেন সবকিছু স্পষ্ট করে দেয়। ভোটে শীর্ষ দশেও জায়গা হয়নি রিয়াল মাদ্রিদ তারকার; ১৭তম অবস্থানেই থমকে গেছেন তিনি। সঞ্চালক ও ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরির সে কী উচ্ছ্বাস। ইউরোপের ক্লাবে খেললেও অন্য মহাদেশের কেউ বিবেচিত হতেন না। ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলারের জন্য খুলে যায় পুরস্কারের দরজা। অথচ তখনকার নিয়মের কারণে ব্যালন ডি’অর জেতার সুযোগই পাননি।

ছেলেদের ব্যালন ডি’অরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিভাগে ব্রাজিলের সর্বশেষ প্রাপ্তি ২০১৯ সালে, যখন আলিসন বেকার সেরা গোলকিপার হয়েছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের মতো আক্রমণাত্মক ফুটবলের দেশ গোলকিপারের পুরস্কারে বড় কোনো তৃপ্তি খুঁজে পায় না। মেয়েদের ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি ভিন্ন নয়, শীর্ষ পাঁচে নেই কোনো ব্রাজিলিয়ান। কেবল নারী গোলকিপারের তালিকায় পঞ্চম হয়েছেন লোরেনা। গোলকিপারদের পুরস্কারেও একই দশা হতো, রক্ষা করেছেন ব্রাজিল নারী দলের গোলকিপার লোরেনা।

২০০৭ সালের পর দীর্ঘ ১৯ বছরে মাত্র তিনবার ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিনে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ানরা। এর মধ্যে দুইবার নেইমার (২০১৫ ও ২০১৭) এবং ২০২৪ সালে একবার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ভিনিসিয়ুস অবশ্য ২০২৪ সালে ফিফা দ্য বেস্ট পুরস্কারটি জিতে ব্রাজিলকে একবার বিশ্বসেরার আসনে বসিয়েছেন, যা ব্যালন ডি’অর নয়। তবে রাফিনিয়া বা এস্তেভাওর মতো উঠতি প্রতিভাদের নিয়ে এখনই চূড়ান্ত বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কথাটা তখন অনেকের কাছে বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। দোষটা চাইলে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দিতে পারেন। মাঠের পারফরম্যান্সে দুই মহাতারকার পেছনেই থেকে গেছেন নেইমার। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কেন এই খরা?

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ আলেকজান্দ্রে ভাসকনসেলোসের মতে, বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে খেলোয়াড় গড়ার কাঠামোয় বড় ধরনের সংকট রয়েছে। ক্রীড়া বিপণন, যোগাযোগ ও খেলাধুলায় উদ্ভাবনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং ব্রাজিলে ফ্ল্যাশস্কোরের আঞ্চলিক পরিচালক আলেকজান্দ্রে ভাসকনসেলোস সমস্যাটা দেখছেন একেবারে গোড়ায়। ফুটবলার গড়ার মূল ভিত্তি অর্থাৎ বয়সভিত্তিক পর্যায় ঢেলে সাজানো ছাড়া গতি নেই।

সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার, ফুলব্যাক ও সেন্টার ফরোয়ার্ডের অভাব ব্রাজিলের ফুটবল কাঠামোর গভীর সমস্যাকে তুলে ধরে। ব্রাজিলের ফুটবল একাডেমির কোচ রজার মাচাদোর মতে, বর্তমান ফুটবল আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও পর্তুগাল দক্ষ ফুটবলার তৈরিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, এমনকি ক্রোয়েশিয়া বা বেলজিয়ামের মতো দেশগুলোও নির্দিষ্ট সময়ে ব্রাজিলের চেয়ে বেশি বিশ্বমানের খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে। ব্রাজিলের ফুটবলে কত জল গড়িয়েছে, কত প্রতিভা এসেছে, হারিয়েও গেছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একাডেমির অধ্যাপক ও কোচ রজার মাচাদোর বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার কথা।

রোমারিও মনে করেন, ব্রাজিলের ফুটবলের চিরাচরিত রাস্তার ফুটবল বা স্ট্রিট ফুটবলের পরিবেশ হারিয়ে যাওয়াই তরুণদের সৃজনশীলতা নষ্ট করছে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত নিয়মতান্ত্রিকতা ও আধুনিক ফুটবলের শারীরিক সামর্থ্যের প্রতি অতিনির্ভরশীলতা সহজাত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি আরও বলেন, কেবল একজন খেলোয়াড়ের ওপর ভরসা করাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল।

বিশ্বকাপে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ইউরোপের ক্লাবগুলোতে প্রতি বছর প্রচুর খেলোয়াড় রপ্তানি করলেও বিশ্বসেরার মঞ্চে সেই বিপুল প্রতিভার প্রতিফলন ঘটছে না। ব্যালন ডি’অর তালিকায় আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স আটবার করে, পর্তুগাল, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস সাতবার করে জয়ী হয়েছে। অথচ ব্রাজিল এখনো পাঁচবার জয়েই আটকে আছে। একসময় যাদের পায়ের জাদু দেখতে মুখিয়ে থাকত পৃথিবী, এখন সেই ব্রাজিলিয়ানদের কেবল অতীত নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। বড় পর্দায় দেখানো হলো রোনালদোর বর্ণাঢ্য অতীত।