১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ব এভিয়েশন খাতে এক ব্যস্ত সময় পার করেছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল শিল্প। এ সময় নতুন রুট চালু, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং এয়ারলাইনসগুলোর ব্যবসায়িক কৌশল ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তবে একদিকে নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর তোড়জোড়, অন্যদিকে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এই খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজ গত ২১ অক্টোবর আবুধাবি থেকে লুক্সেমবার্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কোনো এয়ারলাইনসের জন্য দেশটিতে প্রথম যাত্রীবাহী ফ্লাইট। পাশাপাশি ২৫ অক্টোবর থেকে তারা আবুধাবি–ক্যালগারি রুটে ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে। এদিকে ফিনএয়ার ২৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকক হয়ে মেলবোর্নে দৈনিক ফ্লাইট চালু এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ১১ বছর বিরতির পর লন্ডন গ্যাটউইক–কলম্বো রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করেছে। সুইস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসও জুরিখ–বেঙ্গালুরু রুট চালুর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও বড় সম্প্রসারণের খবর পাওয়া গেছে। হাওয়াইয়ান এয়ারলাইনস আগামী ২০২৭ সালের মে থেকে সিয়াটল–ওসাকা রুটে সপ্তাহে চারটি এবং জুন থেকে তাহিতির পাপিতিতে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চালু করবে। কাতার এয়ারওয়েজ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর থেকে দোহা থেকে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ইউরোপের ক্ষেত্রে লুফথানসা গ্রুপ ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে নতুন রুটের পাশাপাশি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া কনডর এয়ারলাইনস নিজেদের বহর বাড়িয়ে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যদিও জার্মানিতে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় এতে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। অ্যারোমেক্সিকোও মেক্সিকো সিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রুট চালুর সুযোগ খুঁজছে। দেশটির আরেক এয়ারলাইনস কনডরও উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় নতুন গন্তব্য চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব রুটের সবগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই সময়ে ইউরোপের কয়েকটি এয়ারলাইনস শীতকালীন সূচিতে ফ্লাইট ও আসনসংখ্যা কমিয়েছে।
তবে এই সম্প্রসারণের মাঝেও আকাশপথে ব্যয় বৃদ্ধির উদ্বেগ বাড়ছে। রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও’লিয়ারি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী এক বছরে ইউরোপে বিমানভাড়া ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়াকে এর মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক এয়ারলাইনস বাধ্য হয়ে রুট পরিবর্তন করছে, যার ফলে জ্বালানি খরচ ও ভ্রমণের সময় বেড়ে যাচ্ছে। এর বাইরে, ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত রুটস ওয়ার্ল্ড পুরস্কার ২০২৬-এ ইতালির রোম ফিউমিচিনো বিমানবন্দরকে সামগ্রিক বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















