মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং একাধিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর রাত পর্যন্ত দুই সপ্তাহে মোট ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন বা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) হিসাব অনুযায়ী, হঠাৎ এই ফ্লাইট বাতিলের কারণে অন্তত ২১ হাজার ৯ ৩৩ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বড় অংশই প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী ও জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবগামী যাত্রী। ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী। এতে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী ও জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরব যেতে ইচ্ছুক যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। একই সময়ে দাম্মামেও হামলার ঘটনা ঘটে।
বেবিচকের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৬টি ছিল সরাসরি বা ডিরেক্ট ফ্লাইট এবং বাকি ৭৫টি ছিল সংযোগকারী বা ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি চালিত ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় দেশি-বিদেশি চার এয়ারলাইন্স রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। এর ফলে নির্ধারিত যাত্রীদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন করে টিকিট কাটা কিংবা বিকল্প ফ্লাইটের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল এমন ৭৫টি ট্রানজিট ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯টি ফ্লাইট ছিল ভারতীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর। এছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট পয়েন্টগুলো থেকে মূল গন্তব্যে বিমান চলাচল স্থগিত থাকায় ঢাকা থেকে এসব এয়ারলাইন্সের যাত্রী নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দাম্মামে হুথিদের হামলার ঘটনার পরই সেখানকার বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত রাখে। আবার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের রিয়াদগামী ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। হঠাৎ করে ফ্লাইট বাতিলের কারণে প্রবাসীদের কর্মস্থলে সময়মতো ফেরা ও ছুটি শেষে কাজে যোগদান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে যাত্রীদের ভ্রমণের পূর্বে নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ শিডিউল নিশ্চিত করা এবং রিশিডিউল ও রিফান্ডসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















