কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে জমে থাকা সোনা, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ কার্যক্রমটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় দানসিন্দুকে পাওয়া অলংকারগুলো পাঁচটি ভাগে ভাগ করে নিলামে তোলা হয়েছিল।
ট্রেজারিতে সংরক্ষিত ৯টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার এবং ৬টি সিলগালা করা খাম খুলে মূল্যবান সামগ্রীগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। উপকমিটির সদস্যরা সোনার ক্যারেট যাচাই, রুপার ওজন নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রাগুলো আলাদা করার কাজ করছেন। উদ্ধারকৃত সোনা ও রুপা পরবর্তীতে বাজারমূল্য অনুযায়ী নিলামে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সংগৃহীত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি উপকমিটি পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করছে। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য সোনা ও রুপার পরিমাপের কাজ করছেন।
কার্যক্রমটিতে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির রমজান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদ।
মসজিদটির দানসিন্দুকে দীর্ঘদিনের জমানো সম্পদ ও অর্থের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ জুন দানবাক্স খুলে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমানে মসজিদের নিজস্ব তহবিলে মোট ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনুদান এসেছে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ দীর্ঘ তিন বছরের জমানো ৪১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৪ ভরি রুপা নিলামে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। সে সময় বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে আরও এক লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা জমা হয়। সংগৃহীত সব অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ ট্রেজারিতে সংরক্ষিত ছিল।
পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোর পর উদ্বৃত্ত টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, এই অর্থ দিয়ে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে এই তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হয়। কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদে দান করলে মনের আশা পূরণ হয়, এমন বিশ্বাস থেকেই দূরদূরান্তের মানুষ এখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অলংকার দান করে থাকেন। সাড়ে ১৩ ঘণ্টায় শেষ হলো গণনা, টাকার অঙ্কে রেকর্ড ভেঙেছে পাগলা মসজিদ। অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও এ অর্থ ব্যয় করা হয়। পাগলা মসজিদের দানের সিন্দুকে এবার রেকর্ড পরিমাণ ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















