ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

চুয়েটে উপাচার্য ভবনে তালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের কার্যালয়ে প্রবেশ ও ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে নিয়োগের ২১ দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের তালা ভেঙে অধ্যাপক শরীফুল আলম ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রুটিন দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক আরাফাত রহমান তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। নতুন উপাচার্যের প্রবেশের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সেই সময়ের মধ্যে উপাচার্য ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ফটকে আবারও তালা লাগিয়ে দেন এবং ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’ এবং ‘নতুন উপাচার্য প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্রী মাহিরা তাজরীন অভিযোগ করেন, উপাচার্য শিক্ষার্থীদের লাগানো তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছেন। সময়সীমা পার হওয়ার পরও তিনি ভবন না ছাড়ায় তারা বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং তালা দিয়েছেন। এই অবরোধের ফলে উপাচার্যের সাথে থাকা ছাত্রদল চুয়েট শাখার সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ভেতরে আটকা পড়েছেন। সকালে প্রবেশের সময় খাবার ও ফুল নিয়ে উপাচার্যের দপ্তরে যেতে চাইলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতা বিপ্লব হোসাইন তন্ময়ের সাথে শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার বাগবিতণ্ডা হয়।

অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের শিক্ষকদের অপেক্ষায় আছেন। তারা এলে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এ পর্যন্ত বড় কোনো দাপ্তরিক কাজ তিনি করেননি। ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, সরকার অধ্যাপক শরীফুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছেন এবং ছাত্রদল তা সমর্থন করে। তাদের মতে, উপাচার্যকে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখাননি। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী স্পষ্ট করেছেন যে, তারা এই নিয়োগ মেনে নেননি এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি চলছে, যার ফলে একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়েটে উপাচার্য ভবনে তালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় ০৩:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের কার্যালয়ে প্রবেশ ও ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে নিয়োগের ২১ দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের তালা ভেঙে অধ্যাপক শরীফুল আলম ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রুটিন দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক আরাফাত রহমান তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। নতুন উপাচার্যের প্রবেশের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সেই সময়ের মধ্যে উপাচার্য ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ফটকে আবারও তালা লাগিয়ে দেন এবং ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’ এবং ‘নতুন উপাচার্য প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্রী মাহিরা তাজরীন অভিযোগ করেন, উপাচার্য শিক্ষার্থীদের লাগানো তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছেন। সময়সীমা পার হওয়ার পরও তিনি ভবন না ছাড়ায় তারা বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছেন এবং তালা দিয়েছেন। এই অবরোধের ফলে উপাচার্যের সাথে থাকা ছাত্রদল চুয়েট শাখার সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ভেতরে আটকা পড়েছেন। সকালে প্রবেশের সময় খাবার ও ফুল নিয়ে উপাচার্যের দপ্তরে যেতে চাইলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতা বিপ্লব হোসাইন তন্ময়ের সাথে শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার বাগবিতণ্ডা হয়।

অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের শিক্ষকদের অপেক্ষায় আছেন। তারা এলে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এ পর্যন্ত বড় কোনো দাপ্তরিক কাজ তিনি করেননি। ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, সরকার অধ্যাপক শরীফুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছেন এবং ছাত্রদল তা সমর্থন করে। তাদের মতে, উপাচার্যকে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখাননি। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী স্পষ্ট করেছেন যে, তারা এই নিয়োগ মেনে নেননি এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি চলছে, যার ফলে একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন।