ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শিক্ষককে ঘরে আটকে মাথায় ১০ কোপ, শিক্ষার্থীর মা গ্রেফতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঘরে আটকে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামের এক স্কুলশিক্ষককে নৃশংসভাবে কুপিয়েছেন এক নারী শিক্ষার্থীর মা। এ ঘটনায় শিক্ষকের মাথায় ১০টি কোপের আঘাত লেগেছে। এছাড়া, একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন। টিউশনির টাকা চাওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম (২৫) এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। প্রিয়ার এক সন্তানকে তিন মাস ধরে বাসায় গিয়ে পড়ান তিনি। এ জন্য সিঁথি মাসে দেড় হাজার টাকা করে নেন। কিছুদিন আগে সিঁথি টিউশনির টাকা চান। এতে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন। গতকাল সকালে ওই শিক্ষার্থীকে আবারও পড়াতে যান সিঁথি। পড়ানো শেষ করে চলে আসার আগমুহূর্তে শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া দরজা বন্ধ করে দা দিয়ে সিঁথিকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।

দরজা আটকানো থাকায় চেষ্টা করেও সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তার সারা শরীরে অসংখ্য কোপ লেগেছে। তার সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরে সিঁথির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। তার মাথায় ১০টি কোপ লেগেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মাথায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে।

আহত সিঁথি সীমিতা বলেন, মাথায় প্রথম কোপটি দেওয়ার পর আমি দৌড়ে দরজা খোলার চেষ্টা করি। তখন দেখি দরজান ছিটকিনি লাগানো। পরে আর বের হতে পারিনি।

এদিকে, স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক হামলাকারী প্রিয়াকে পুলিশে দেন। তিনি একই এলাকার খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী।

এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক এমদাদুল কবির বলেন, হামলার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

শিক্ষককে ঘরে আটকে মাথায় ১০ কোপ, শিক্ষার্থীর মা গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৮:৫০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঘরে আটকে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামের এক স্কুলশিক্ষককে নৃশংসভাবে কুপিয়েছেন এক নারী শিক্ষার্থীর মা। এ ঘটনায় শিক্ষকের মাথায় ১০টি কোপের আঘাত লেগেছে। এছাড়া, একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন। টিউশনির টাকা চাওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম (২৫) এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। প্রিয়ার এক সন্তানকে তিন মাস ধরে বাসায় গিয়ে পড়ান তিনি। এ জন্য সিঁথি মাসে দেড় হাজার টাকা করে নেন। কিছুদিন আগে সিঁথি টিউশনির টাকা চান। এতে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন। গতকাল সকালে ওই শিক্ষার্থীকে আবারও পড়াতে যান সিঁথি। পড়ানো শেষ করে চলে আসার আগমুহূর্তে শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া দরজা বন্ধ করে দা দিয়ে সিঁথিকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।

দরজা আটকানো থাকায় চেষ্টা করেও সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তার সারা শরীরে অসংখ্য কোপ লেগেছে। তার সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরে সিঁথির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। তার মাথায় ১০টি কোপ লেগেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মাথায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে।

আহত সিঁথি সীমিতা বলেন, মাথায় প্রথম কোপটি দেওয়ার পর আমি দৌড়ে দরজা খোলার চেষ্টা করি। তখন দেখি দরজান ছিটকিনি লাগানো। পরে আর বের হতে পারিনি।

এদিকে, স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক হামলাকারী প্রিয়াকে পুলিশে দেন। তিনি একই এলাকার খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী।

এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক এমদাদুল কবির বলেন, হামলার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।