প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগার পর গত সাত দিন ধরে তিনি উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার দেখাশোনাকারী নুরজাহান বেগম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৭ দিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে তার পৈতৃক নিবাস। ব্যবসায়ী পিতা মোহাম্মদ মাসুদ খানের সুবাদে সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা নাসিমা স্কুলজীবনে নাচ ও অভিনয়ের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা খান আতাউর রহমানের সাথে পারিবারিক পরিচয়ের সুবাদে তার অভিনয়ে পথচলা শুরু হয়। পড়াশোনায় অবহেলা না করার শর্তে পরিবার থেকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় তার। পড়াশোনা করেন কামরুন্নেসা স্কুলে, শিখেছেন নাচও। নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে আসার গল্পও বেশ পুরোনো। লালবাগে তাদের বাড়ির কাছেই থাকতেন খান আতা। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসার পর প্রথমে পরিবারে দ্বিধা থাকলেও শেষ পর্যন্ত অভিনয়ের অনুমতি পান নাসিমা। অভিনয় করেছিলেন তৃপ্তি মিত্র, খান আতাউর রহমানসহ অনেকে।
১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’র মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমাটি সেই বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপদক অর্জন করে। এরপর বেবী ইসলাম পরিচালিত ‘তানহা’ চলচ্চিত্রে শামীম আরা ও সুমিতা দেবীর সাথে কাজ করেন তিনি। তবে ১৯৬১ সালে সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমাটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয় এবং পরবর্তীতে ‘সূর্যস্নান’ তাকে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ।
ষাটের দশকে বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের নিয়মিত মুখ ছিলেন নাসিমা খান। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’ ও ‘আমার বৌ’-এর মতো জনপ্রিয় সব কাজ। বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি তারকা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 














