বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এয়ারবাস এ৩৮০ আবারও বিলাসবহুল আকাশভ্রমণের আকর্ষণের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশাল কেবিন, প্রশস্ত আসন ও ব্যক্তিগত স্যুইটের মতো বিশেষ সুবিধাগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে এমিরেটস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও কান্টাস। তবে তিন সংস্থাই তাদের সেবার ধরনে নিজস্ব কিছু বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে, যার ফলে যাত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দের ওপরই নির্ভর করছে সেরা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।
এভিয়েশন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম সিম্পল ফ্লাইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস প্রধানত যাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও উচ্চমানের সেবায় জোর দিচ্ছে। তাদের এ৩৮০ উড়োজাহাজে রয়েছে ১২টি বিশেষ স্যুইট এবং ৭৮টি বিজনেস শ্রেণির শান্ত ও আরামদায়ক আসন। ব্যক্তিগত পরিসরে নিরবচ্ছিন্ন সেবা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে যারা সফর করতে চান, তাদের জন্য এটি অন্যতম আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদের চেয়ে ভিন্ন কৌশল নিয়ে এমিরেটস নজর দিয়েছে সামাজিক পরিসর ও বিলাসবহুল সুবিধার দিকে। তাদের এ৩৮০ উড়োজাহাজের ওপরের তলায় রয়েছে বিশেষ বার ও সামাজিক যোগাযোগের জায়গা, যা প্রথম ও বিজনেস শ্রেণির যাত্রীরা ব্যবহার করতে পারেন। কেবিন আধুনিকায়ন এবং উন্নত ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্য সংস্থাটি প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি নিজেদের ১০টি এ৩৮০ উড়োজাহাজের বহরকে নতুন করে সক্রিয় করা হয়েছে, যা সিডনি থেকে লন্ডন, ডালাস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো অতি-দীর্ঘপাল্লার রুটে চলাচল করছে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলীয় উড়োজাহাজ সংস্থা কান্টাস জোর দিয়েছে শান্ত পরিবেশ, আরামদায়ক আসন ও কাজের উপযোগী পরিবেশের ওপর। তবে সুবিধার পাশাপাশি চার ইঞ্জিনের এ৩৮০ পরিচালনায় কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আধুনিক দুই ইঞ্জিনের উড়োজাহাজের তুলনায় এটি বেশি জ্বালানি খরচ করে। এছাড়া বিশালাকার এই উড়োজাহাজে যাত্রী ওঠানামা, ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং ব্যাগেজ সংগ্রহেও অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত বিলাসিতায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, সামাজিক বিনোদনে এমিরেটস এবং দীর্ঘ যাত্রায় কান্টাস তাদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















