বিমানবহরের কার্যকর ব্যবহার ও যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা সমন্বয়ের লক্ষ্যে ইউরোপের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য—প্রাগ এবং গ্লাসগো রুটে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে এমিরেটস। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই রুটগুলোতে এয়ারবাস এ৩৮০-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ পরিচালনা করা হলেও, এখন আবার বড় উড়োজাহাজ ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এমিরেটস নিশ্চিত করেছে যে, উড়োজাহাজ পরিবর্তনের কারণে কোনো রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়নি। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুবাই থেকে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ এবং স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো রুটে এই পরিবর্তন আনা হয়।
প্রকাশিত নতুন ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ রুটে গত ১ অক্টোবর থেকে পুনরায় এয়ারবাস এ৩৮০ চলাচল শুরু করেছে। শুরুতে এই রুটে ৪৮৭ আসনের চার শ্রেণিবিশিষ্ট এ৩৮০ মোতায়েনের পরিকল্পনা থাকলেও, ২৫ অক্টোবর থেকে ৫৬৯ আসনের তিন শ্রেণিবিশিষ্ট এ৩৮০ যুক্ত করা হবে। প্রাগ বিমানবন্দরের তথ্যমতে, এই নতুন বিন্যাসে বিজনেস শ্রেণিতে ৭৬টি, প্রিমিয়াম ইকোনমিতে ৫৬টি এবং ইকোনমি শ্রেণিতে ৪৩৭টি আসন থাকবে। এই পরিবর্তনের ফলে আগের তুলনায় আসনসংখ্যা ৮২টি বাড়বে, যদিও এতে প্রথম শ্রেণির সুবিধা থাকবে না। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইকোনমি শ্রেণিতে আসন বাড়িয়ে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো রুটের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ফ্লাইট পরিচালনার পর ৩০ অক্টোবর থেকে এয়ারবাস এ৩৮০ ব্যবহারের সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে। গ্লাসগো রুটে যে এ৩৮০ উড়োজাহাজটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে চার শ্রেণি মিলে মোট ৫১৯টি আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্লাসগো রুটে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত সূচিতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর চলাচল অব্যাহত ছিল।
যাত্রীদের ভ্রমণের সুবিধার্থে ও উড়োজাহাজের কেবিন বিন্যাস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে টিকিট বুকিংয়ের সময় বিস্তারিত যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ফ্লাইট চালু রেখেছে, তবে পরিচালনাগত প্রয়োজনে সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। মূলত উড়োজাহাজের সক্ষমতা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই এই রুটগুলোতে উড়োজাহাজের মডেলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা যাত্রীদের আসনবিন্যাস ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় ভিন্নতা তৈরি করতে পারে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















