ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

বজ্রপাত রুখতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০ হাজার তালবীজ রোপণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতি বছর সরকারিভাবে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়। তবে প্রায়শই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রকল্প আশানুরূপ ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতির মাঝে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গহিরা এলাকার বাসিন্দা আবদুল ছবুরের একক উদ্যোগ জনমনে সাড়া ফেলেছে। কোনো সরকারি অনুদান বা প্রচারণার অপেক্ষায় না থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে বজ্রপাত নিরোধের লক্ষ্য নিয়ে এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি তালের বীজ রোপণ করেছেন।

আবদুল ছবুর পেশায় একজন মোটর ওয়ার্কশপ মালিক। চার বছর আগে নিজের চোখের সামনে ছেলের বন্ধুর বজ্রপাতে মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই শোক ও শোকাতুর অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই মহতী কাজে উদ্বুদ্ধ করে। নিজের কষ্টার্জিত আয়ে তালবীজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে রোপণ পর্যন্ত সব কাজ তিনি একাই করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি ২১ হাজার তালের বীজ রোপণ সম্পন্ন করেছেন এবং তাঁর লক্ষ্য এই সংখ্যা ৩০ হাজারে উন্নীত করা। সংসারে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তাঁর জীবন চললেও, ব্যক্তিগত উপার্জনের একটি অংশ তিনি নিয়মিত এই পরিবেশবান্ধব কাজে ব্যয় করছেন।

পরিবেশবিদদের মতে, তালগাছ প্রাকৃতিকভাবেই বজ্রপাতের তীব্রতা হ্রাসে অত্যন্ত কার্যকরী। উচ্চতা ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় অনেকটা নিরাপত্তাকবচ হিসেবে কাজ করে। ছবুরের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, টেকসই পরিবেশ সুরক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য কেবল বিশাল বাজেটের সেমিনারের চেয়ে ব্যক্তিগত সদিচ্ছা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অনেক বেশি ফলপ্রসূ। রাষ্ট্রের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায়ই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও তদারকির অভাবে বড় বড় উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও, ছবুরের মতো ব্যক্তির উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ব্যক্তিগত এই কর্মযজ্ঞ দীর্ঘস্থায়ী ও সুফলদায়ক করতে হলে প্রশাসনের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। একজন সাধারণ নাগরিকের এই প্রচেষ্টাকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশ বিভাগের। রোপণ করা চারাগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে দীর্ঘমেয়াদে তা হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। রাষ্ট্রের উচিত ফাঁকা বুলি আর অকার্যকর প্রকল্পের পথ পরিহার করে আবদুল ছবুরের মতো স্থানীয় পর্যায়ে সফল ও বাস্তবিক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা এবং তাদের পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়ানো।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বজ্রপাত রুখতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০ হাজার তালবীজ রোপণ

আপডেট সময় ০৯:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতি বছর সরকারিভাবে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়। তবে প্রায়শই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রকল্প আশানুরূপ ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতির মাঝে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গহিরা এলাকার বাসিন্দা আবদুল ছবুরের একক উদ্যোগ জনমনে সাড়া ফেলেছে। কোনো সরকারি অনুদান বা প্রচারণার অপেক্ষায় না থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে বজ্রপাত নিরোধের লক্ষ্য নিয়ে এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি তালের বীজ রোপণ করেছেন।

আবদুল ছবুর পেশায় একজন মোটর ওয়ার্কশপ মালিক। চার বছর আগে নিজের চোখের সামনে ছেলের বন্ধুর বজ্রপাতে মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই শোক ও শোকাতুর অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই মহতী কাজে উদ্বুদ্ধ করে। নিজের কষ্টার্জিত আয়ে তালবীজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে রোপণ পর্যন্ত সব কাজ তিনি একাই করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি ২১ হাজার তালের বীজ রোপণ সম্পন্ন করেছেন এবং তাঁর লক্ষ্য এই সংখ্যা ৩০ হাজারে উন্নীত করা। সংসারে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তাঁর জীবন চললেও, ব্যক্তিগত উপার্জনের একটি অংশ তিনি নিয়মিত এই পরিবেশবান্ধব কাজে ব্যয় করছেন।

পরিবেশবিদদের মতে, তালগাছ প্রাকৃতিকভাবেই বজ্রপাতের তীব্রতা হ্রাসে অত্যন্ত কার্যকরী। উচ্চতা ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় অনেকটা নিরাপত্তাকবচ হিসেবে কাজ করে। ছবুরের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, টেকসই পরিবেশ সুরক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য কেবল বিশাল বাজেটের সেমিনারের চেয়ে ব্যক্তিগত সদিচ্ছা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অনেক বেশি ফলপ্রসূ। রাষ্ট্রের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায়ই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও তদারকির অভাবে বড় বড় উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও, ছবুরের মতো ব্যক্তির উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ব্যক্তিগত এই কর্মযজ্ঞ দীর্ঘস্থায়ী ও সুফলদায়ক করতে হলে প্রশাসনের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। একজন সাধারণ নাগরিকের এই প্রচেষ্টাকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশ বিভাগের। রোপণ করা চারাগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে দীর্ঘমেয়াদে তা হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। রাষ্ট্রের উচিত ফাঁকা বুলি আর অকার্যকর প্রকল্পের পথ পরিহার করে আবদুল ছবুরের মতো স্থানীয় পর্যায়ে সফল ও বাস্তবিক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা এবং তাদের পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়ানো।