দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটির ১ নম্বর ইউনিটটি গত সোমবার সকালে এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটটি মঙ্গলবার বিকেলে অকেজো হয়ে পড়ে। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটিও বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের কোনোটিই সচল নেই। অন্যদিকে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২ নম্বর ইউনিটটি পাঁচ বছর ১১ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে উত্তরাঞ্চলে আমন মৌসুম চলছে।
উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৩ নম্বর ইউনিটটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যেখান থেকে প্রতিদিন ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতো এবং প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা লাগত। পাশাপাশি ১ নম্বর ইউনিটটি ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করত এবং এর জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হতো। এখন উৎপাদন বন্ধ থাকায় ওই অঞ্চলে লোডশেডিং শুরু হয়েছে, যা আমন ও আসন্ন বোরো মৌসুমে শিল্পকারখানা ও কৃষিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। আমন মৌসুম শেষে ইরি-বোরো মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসব এলাকার উৎপাদনশীল শিল্পকারখানা।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ২ নম্বর ইউনিটটি সচল করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচের প্রয়োজন হতে পারে, যা নতুন ইউনিট তৈরির সমতুল্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ফলে কর্তৃপক্ষ এটি মেরামতে বিশেষ আগ্রহী নয়। এর আগে ৩ নম্বর ইউনিটটি প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৯ মে পুনরায় চালু করা হয়েছিল, যা মেরামতে প্রায় ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এরপর ১ নম্বর ইউনিটটি জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছিল, তবে সেটিও এখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিটটি মেরামতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, সেই অর্থ দিয়ে নতুন একটি ইউনিট নির্মাণ করা সম্ভব।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ত্রুটি সংস্কারের জন্য চীনের হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেছেন। তবে ঠিক কবে নাগাদ উৎপাদন স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে বছরের বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রটির ইউনিটগুলো বিকল হয়ে পড়ায় সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চীনা কোম্পানির সস্তা প্রযুক্তি ও রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও দীর্ঘমেয়াদী সুফল মিলছে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনা কোম্পানি সস্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এবং ইউনিটগুলো সঠিকভাবে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করায় দেশীয় প্রকৌশলীরা ইউনিটগুলো সচল রাখতে পারছেন না।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বারবার ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “এখানে আমার করার কিছু নাই, তবে দুটি ইউনিট চালু করার বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি অচল থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















