আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীরা এক নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন। রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৬২টি কংগ্রেসনাল আসনের মধ্যে ৪১টিতে থাকা রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত একটি বিষয়ে প্রকাশ্যে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন অথবা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আড়াল করছেন। তবে তারা ট্রাম্পের সামগ্রিক এজেন্ডার বিরোধিতা করছেন না, বরং ইরান যুদ্ধ, গরুর মাংস আমদানি ও ডাটা সেন্টারের মতো নির্দিষ্ট ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি করছেন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ট্রাম্পবিরোধী স্বতন্ত্র ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানা এবং একই সঙ্গে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের সমর্থন ধরে রাখা।
ইরান যুদ্ধ ও প্রচারে ট্রাম্পের অনুপস্থিতি
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ৬২টি নির্বাচনী লড়াইয়ের ২৩টিতে নীতিগত মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি আসনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রার্থীরা ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। কেউ তার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আবার কেউ যুদ্ধ বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরান যুদ্ধ এখন নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। রয়টার্স ১২ জন রিপাবলিকান প্রার্থীকে শনাক্ত করেছে, যারা নিজেদের প্রচার ওয়েবসাইট থেকে ট্রাম্পের নাম, ছবি বা সমর্থনের উল্লেখ সরিয়ে দিয়েছেন। অনেকে তার নির্বাচনী সমাবেশ এড়িয়ে চলছেন এবং ট্রাম্প তাদের হয়ে প্রচারে আসবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে রিপাবলিকান পার্টিতে তার প্রভাব অটুট থাকায় সরাসরি সমালোচনা বিরল।
জনপ্রিয়তায় ভাটা ও কৌশলগত অবস্থান
রয়টার্স/ইপসোসের নতুন জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার নেমে এসেছে ৩২ শতাংশে, যা তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদে সর্বনিম্ন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ৩৭ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। বিশেষ করে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই ব্যবধান আরও প্রকট; যেখানে ডেমোক্র্যাটরা ৩৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানরা মাত্র ২১ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছেন। রিপাবলিকান কৌশলবিদ রন বনজাঁ বলেন, ভোটাররা ট্রাম্পের সঙ্গে না থাকলে প্রার্থীদের কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতেই হয়। রিপাবলিকান পরামর্শক জিনেট হফম্যানের মতে, এটি এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার খেলা। ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্যকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রার্থীরা তার কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব তৈরি করছেন, কারণ এই মুহূর্তে “ট্রাম্প ব্র্যান্ডটি অত্যন্ত বিষাক্ত”। সব মিলিয়ে দূরত্ব বাড়লেও দলের ওপর প্রভাবের কারণে অধিকাংশ প্রার্থী ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার ঝুঁকি নিচ্ছেন না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 














