ইতালির সিসিলি দ্বীপে অবস্থিত ইউরোপের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এটনায় নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক ঘটনায় আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে লাভা ও গ্যাসের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ছাই নির্গত হয়। অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতায় ছাইয়ের মেঘ আকাশপথে প্রায় ৪ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যা ওই অঞ্চলের আকাশসীমায় চলাচলের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিসিলির গুরুত্বপূর্ণ কাতানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশে ছাইয়ের মেঘ ছড়িয়ে পড়ায় বিমান চলাচল অনিরাপদ হয়ে ওঠায় কর্তৃপক্ষ সেখানে আগত বেশ কিছু ফ্লাইটের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। কোনো কোনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগ্নেয় ছাইয়ের সূক্ষ্ম কণা বিমানের ইঞ্জিনে প্রবেশ করলে তা ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে, যা যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতার মাউন্ট এটনা ইউরোপের সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি সিসিলি অঞ্চলের কাতানিয়া শহরের খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় প্রায়শই এখানে ছোট-বড় অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। তবে ছাইয়ের উপস্থিতি বাতাসের গতিপথ অনুযায়ী বিমানবন্দরের আশেপাশের আকাশসীমায় ছড়িয়ে পড়ায় উড়োজাহাজ ওঠানামায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিল হওয়া, বিলম্ব হওয়া কিংবা বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণের মতো ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং আকাশে ছাইয়ের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে হলে তবেই বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। ইতালির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে নিয়মিত বিমান যোগাযোগ রক্ষাকারী এই বিমানবন্দরের যাত্রীদের নিয়মিতভাবে তাদের স্ব-স্ব বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ আপডেট জেনে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















