ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ গর্ভধারণই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে, যা মা ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস’ পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘কোনো বাধা নয়, কেবলই পছন্দ: এখনই নিশ্চিত হোক গর্ভনিরোধক পণ্যের সহজলভ্যতা’ যা বাংলাদেশে প্রজননস্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। পরিকল্পিত পরিবার কেবল একজন নারীর প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে না, বরং এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও শিশুর বিকাশেও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেক দম্পতির নিজস্ব পছন্দে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই এই দিবসের মূল অঙ্গীকার।

একসময় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে দেশে তীব্র সামাজিক ট্যাবু ছিল। তবে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সঠিক সেবার প্রসারে সেই বাধা অনেকটা দূর হয়েছে। ১৯৭৪ সালে ইউএসএআইডি ও সরকারি সহযোগিতায় শুরু হওয়া ‘ফ্যামিলি প্ল্যানিং সোশ্যাল মার্কেটিং প্রজেক্ট’ এবং ১৯৭৭ সালের আইসিডিডিআরবি পরিচালিত ‘মতলব প্রজেক্ট’ বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনার ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে পরিচিত। এর ফলে ১৯৭০-এর দশকের ৮ শতাংশ গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার (সিপিআর) বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিগত কয়েক দশকে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে উঠান বৈঠক, প্রাতিষ্ঠানিক সেবা প্রসার এবং প্রযুক্তির প্রভাবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস ২০২২) অনুযায়ী, দেশে সার্বিক গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার ৬৪ শতাংশ, যার মধ্যে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৫৫ শতাংশ। জনপ্রিয় পদ্ধতির তালিকায় খাওয়ার বড়ি ৩৩ শতাংশ, ইনজেকশন ১১ শতাংশ এবং পুরুষ কনডম ৭ শতাংশ হারে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া দেশের মোট প্রজনন হার (টিএফআর) বর্তমানে ২ দশমিক ১৭-তে দাঁড়িয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৬৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এত সাফল্যের পরও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার কিছুটা কমে ৬২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনায় অপূর্ণ চাহিদার হার ১২ শতাংশ, যেখানে ১৫-১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে এই হার প্রায় ১২ দশমিক ৭ থেকে ১৪ শতাংশ। বাল্যবিবাহের হার ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ হওয়ায় এই বয়সী তরুণীদের প্রায় ২৩ শতাংশ মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করেছেন। পরিবার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে মানসম্মত প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং সঠিক তথ্য পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই সময়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সূচকে কিছু উদ্বেগজনক চিত্রও পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে সিজারিয়ানের হার বেড়ে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ২৭ জন এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ প্রজননস্বাস্থ্য সেবায় জাতীয় গড়ের চেয়ে পিছিয়ে আছে, অন্যদিকে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

সরকার ‘জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কৌশল ২০২৫–৩০’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। একইসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা ও অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা মূল উদ্দেশ্য। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় অর্ধেক গর্ভধারণ অনাকাঙ্ক্ষিত হওয়ার মূল কারণ সঠিক তথ্যের অভাব, আধুনিক নিরোধক পদ্ধতির অপ্রতুলতা এবং পছন্দের স্বাধীনতার অভাব। আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সহজলভ্যতা বজায় রাখা এবং পছন্দের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশকে একটি টেকসই ও স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় কার্যকরি পদক্ষেপ

  • সচেতন কাউন্সেলিং: গর্ভনিরোধক পদ্ধতি গ্রহণের আগে ও পরে স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে সঠিক কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা, যেন পদ্ধতি পরিত্যাগের হার (বর্তমানে ৩০ শতাংশ) কমে।
  • দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিতে জোর: স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি যেমন আইইউডি ও ইমপ্ল্যান্টের প্রসার ঘটানো।
  • পুরুষের অংশগ্রহণ: পরিবার পরিকল্পনায় পুরুষদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও সচেতনতা বাড়ানো।
  • তরুণদের প্রজননশিক্ষা: বাল্যবিবাহ রোধ এবং প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদান।

সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় ০৪:০১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ গর্ভধারণই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে, যা মা ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস’ পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘কোনো বাধা নয়, কেবলই পছন্দ: এখনই নিশ্চিত হোক গর্ভনিরোধক পণ্যের সহজলভ্যতা’ যা বাংলাদেশে প্রজননস্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। পরিকল্পিত পরিবার কেবল একজন নারীর প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে না, বরং এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও শিশুর বিকাশেও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেক দম্পতির নিজস্ব পছন্দে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই এই দিবসের মূল অঙ্গীকার।

একসময় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে দেশে তীব্র সামাজিক ট্যাবু ছিল। তবে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সঠিক সেবার প্রসারে সেই বাধা অনেকটা দূর হয়েছে। ১৯৭৪ সালে ইউএসএআইডি ও সরকারি সহযোগিতায় শুরু হওয়া ‘ফ্যামিলি প্ল্যানিং সোশ্যাল মার্কেটিং প্রজেক্ট’ এবং ১৯৭৭ সালের আইসিডিডিআরবি পরিচালিত ‘মতলব প্রজেক্ট’ বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনার ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে পরিচিত। এর ফলে ১৯৭০-এর দশকের ৮ শতাংশ গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার (সিপিআর) বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিগত কয়েক দশকে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে উঠান বৈঠক, প্রাতিষ্ঠানিক সেবা প্রসার এবং প্রযুক্তির প্রভাবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস ২০২২) অনুযায়ী, দেশে সার্বিক গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার ৬৪ শতাংশ, যার মধ্যে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৫৫ শতাংশ। জনপ্রিয় পদ্ধতির তালিকায় খাওয়ার বড়ি ৩৩ শতাংশ, ইনজেকশন ১১ শতাংশ এবং পুরুষ কনডম ৭ শতাংশ হারে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া দেশের মোট প্রজনন হার (টিএফআর) বর্তমানে ২ দশমিক ১৭-তে দাঁড়িয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৬৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এত সাফল্যের পরও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার কিছুটা কমে ৬২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনায় অপূর্ণ চাহিদার হার ১২ শতাংশ, যেখানে ১৫-১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে এই হার প্রায় ১২ দশমিক ৭ থেকে ১৪ শতাংশ। বাল্যবিবাহের হার ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ হওয়ায় এই বয়সী তরুণীদের প্রায় ২৩ শতাংশ মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করেছেন। পরিবার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে মানসম্মত প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং সঠিক তথ্য পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই সময়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সূচকে কিছু উদ্বেগজনক চিত্রও পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে সিজারিয়ানের হার বেড়ে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ২৭ জন এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ প্রজননস্বাস্থ্য সেবায় জাতীয় গড়ের চেয়ে পিছিয়ে আছে, অন্যদিকে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

সরকার ‘জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কৌশল ২০২৫–৩০’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। একইসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা ও অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা মূল উদ্দেশ্য। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় অর্ধেক গর্ভধারণ অনাকাঙ্ক্ষিত হওয়ার মূল কারণ সঠিক তথ্যের অভাব, আধুনিক নিরোধক পদ্ধতির অপ্রতুলতা এবং পছন্দের স্বাধীনতার অভাব। আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সহজলভ্যতা বজায় রাখা এবং পছন্দের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশকে একটি টেকসই ও স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় কার্যকরি পদক্ষেপ

  • সচেতন কাউন্সেলিং: গর্ভনিরোধক পদ্ধতি গ্রহণের আগে ও পরে স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে সঠিক কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা, যেন পদ্ধতি পরিত্যাগের হার (বর্তমানে ৩০ শতাংশ) কমে।
  • দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিতে জোর: স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি যেমন আইইউডি ও ইমপ্ল্যান্টের প্রসার ঘটানো।
  • পুরুষের অংশগ্রহণ: পরিবার পরিকল্পনায় পুরুষদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও সচেতনতা বাড়ানো।
  • তরুণদের প্রজননশিক্ষা: বাল্যবিবাহ রোধ এবং প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদান।

সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।