বলিউডের দীর্ঘ চার দশকের সঙ্গী, জনপ্রিয় চরিত্রাভিনেতা মুশতাক খান আর নেই। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নানাবতী হাসপাতালে মারা গেছেন।
অভিনেতার ছেলে মহসিন জানিয়েছেন, তার বাবা ক্যান্সারে ভুগছিলেন। পেট ব্যথার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে এর আগে তিনি বেশ সুস্থই ছিলেন এবং সালমানের দেহরক্ষী শেরার ছেলের অভিষেক সিনেমার শুটিংও করছিলেন। তার ব্যবসায়িক অংশীদার শিবম জানান, ফুসফুসের ক্যান্সারের চিকিৎসার পর অভিনেতা সুস্থ হয়ে উঠলেও আট দিন আগে রোগটি পুনরায় ফিরে আসে। শেষ পর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ৮ দিন আগে ক্যানসার আবার ফিরে আসে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে মুশতাকের ছেলে মহসিন বলেন, “বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসার পর একসময় সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন।
১৯৮০ সালে ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় মুশতাক খানের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘রাজা’, ‘হেরা ফেরি’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’, ‘জোড়ি নম্বর ১’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়ান্টেড’ ও ‘ও মাই গড’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় তাকে দেখা গেছে।
মূলধারার সিনেমা ছাড়াও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন। তার সাম্প্রতিক কাজের তালিকায় রয়েছে ‘স্ত্রী’, ‘বাধাই দো’, ‘গদর টু’, ‘স্ত্রী টু’, ‘বনবাস’, ‘বেবি জন’ ও ‘ধুম ধাম’। সিনেমা ছাড়াও তিনি ‘কুছ রং প্যায়ার কে অ্যায়সে ভি’সহ বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সক্রিয় ছিলেন। নায়ক বা প্রধান চরিত্রের বাইরে পার্শ্বচরিত্র রূপায়ণে তিনি নিজের অসাধারণ কমিক টাইমিংয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। শুক্রবার তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















