ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ হবে : চিফ প্রসিকিউটর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাগুলোর তদন্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শেষ করে বিচার সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রবিবার যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় এই গণশুনানির আয়োজন করে।

গণশুনানিতে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক নবীউল্লাহ নবী, যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজন ও আহত ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং বিচার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের দাবি, প্রতিশোধ নয়— আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শহীদ পারভেজের মা কানিজ ফাতেমা বলেন, ৫ আগস্ট আমার ছেলে শহীদ হয়। সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি শুধু আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই।

শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওনের বাবা মো. বাসির আলম বলেন, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ বহন করার মতো কষ্ট পৃথিবীতে আর কিছু নেই। যারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

শহীদ সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম বলেন, আমার বুক খালি হয়ে গেছে। আমি শুধু সন্তানের হত্যার বিচার চাই।

শহীদ মো. শাকিবের মা হেলেনা বলেন, আমার সন্তানের মতো সব শহীদের হত্যার বিচার হোক।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ীর ঘটনাও রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচার সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে।

তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের থানায় থাকা তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেন, যাতে একই সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করা যায়।

শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে আমিনুল ইসলাম বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রত্যেক শহীদ ও আহত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

যাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে একাধিক মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্তে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজ বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করেছে।

তিনি গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছেও জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ হবে : চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৯:৩০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাগুলোর তদন্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শেষ করে বিচার সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রবিবার যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় এই গণশুনানির আয়োজন করে।

গণশুনানিতে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক নবীউল্লাহ নবী, যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজন ও আহত ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং বিচার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের দাবি, প্রতিশোধ নয়— আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শহীদ পারভেজের মা কানিজ ফাতেমা বলেন, ৫ আগস্ট আমার ছেলে শহীদ হয়। সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি শুধু আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই।

শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওনের বাবা মো. বাসির আলম বলেন, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ বহন করার মতো কষ্ট পৃথিবীতে আর কিছু নেই। যারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

শহীদ সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম বলেন, আমার বুক খালি হয়ে গেছে। আমি শুধু সন্তানের হত্যার বিচার চাই।

শহীদ মো. শাকিবের মা হেলেনা বলেন, আমার সন্তানের মতো সব শহীদের হত্যার বিচার হোক।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ীর ঘটনাও রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচার সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে।

তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের থানায় থাকা তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেন, যাতে একই সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করা যায়।

শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে আমিনুল ইসলাম বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রত্যেক শহীদ ও আহত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

যাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে একাধিক মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্তে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজ বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করেছে।

তিনি গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছেও জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান।