ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

নেপালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও কারফিউ জারি, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের শান্তির বার্তা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর দেশবাসীকে শান্ত থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। গত মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনসম্মুখে খুব একটা আসেননি প্রধানমন্ত্রী শাহ। তবে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে তার প্রথম বড় ধরনের ভাষণ দেন। এক আবেগঘন বার্তায় তিনি দেশের সকল নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীলতার মেঘ দূর করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভারত সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে গত রবিবার একটি হিন্দু শোভাযাত্রায় উচ্চশব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টানানো নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে এই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। উগ্র জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে সেখানে দুজন নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে। পরবর্তীতে কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী সিরাহা জেলায় বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে সহিংসতার জের ধরে আরও একজন তরুণের মৃত্যু হয়। নতুন করে সংঘাত প্রতিরোধ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে বর্তমানে সুনসারি এবং এর সংলগ্ন পুরো জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কঠোর কারফিউ বলবৎ রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতির সার্বিক দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ তার বক্তব্যে বলেন, আমি সরকারের পক্ষ থেকে সকল সাধারণ নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ, সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের কাছে ধৈর্য ও সংযম প্রকাশ করার এবং দেশের শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি এই অনভিপ্রেত ঘটনাগুলোর একটি অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দৃঢ় আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

সহিংসতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। বার্তা সংস্থা এএফপিকে পুলিশ মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে কর্তব্যরত সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছি। ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ নিশ্চিত করে জনগণের জানমাল রক্ষা করা এবং যেকোনো ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতি প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।

উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যেখানে বর্তমানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নেপালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও কারফিউ জারি, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের শান্তির বার্তা

আপডেট সময় ১২:২০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর দেশবাসীকে শান্ত থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। গত মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনসম্মুখে খুব একটা আসেননি প্রধানমন্ত্রী শাহ। তবে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে তার প্রথম বড় ধরনের ভাষণ দেন। এক আবেগঘন বার্তায় তিনি দেশের সকল নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীলতার মেঘ দূর করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভারত সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে গত রবিবার একটি হিন্দু শোভাযাত্রায় উচ্চশব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টানানো নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে এই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। উগ্র জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে সেখানে দুজন নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে। পরবর্তীতে কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী সিরাহা জেলায় বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে সহিংসতার জের ধরে আরও একজন তরুণের মৃত্যু হয়। নতুন করে সংঘাত প্রতিরোধ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে বর্তমানে সুনসারি এবং এর সংলগ্ন পুরো জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কঠোর কারফিউ বলবৎ রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতির সার্বিক দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ তার বক্তব্যে বলেন, আমি সরকারের পক্ষ থেকে সকল সাধারণ নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ, সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের কাছে ধৈর্য ও সংযম প্রকাশ করার এবং দেশের শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি এই অনভিপ্রেত ঘটনাগুলোর একটি অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দৃঢ় আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

সহিংসতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। বার্তা সংস্থা এএফপিকে পুলিশ মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে কর্তব্যরত সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছি। ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ নিশ্চিত করে জনগণের জানমাল রক্ষা করা এবং যেকোনো ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতি প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।

উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যেখানে বর্তমানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।