ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সৎমাকে হত্যার পর নিজের মাকে হত্যা করল ছেলে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১০ বছর আগে সৎমাকে হত্যার পর এবার নিজের মাকে খুন করল আব্দুর রাহিম শেখ নামের এক যুবক। ধারাল অস্ত্র (বঁটি) দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয় মা সাহেলা বেগমকে (৫০)।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৬নং ওয়ার্ডের বায়তুল আমান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ঘাতক ছেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বায়তুল আমানের মোল্লাডাঙ্গী এলাকার মৃত আকবর হোসেনের স্ত্রী সাহেলা বেগমের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকত ছেলে আব্দুর রাহিম। সে দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিল। মাঝে মধ্যেই নেশার টাকার জন্য মাকে মারধর করত। এলাকায় আব্দুর রাহিম চোর হিসেবেও পরিচিত ছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুর রাহিম নেশার টাকা চায় মা সাহেলা বেগমের কাছে। টাকা না দিলে আব্দুর রাহিম ধারাল বঁটি নিয়ে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে মা সাহেলা বেগম নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ঘাতক ছেলে আব্দুর রাহিম। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয়রা জানান, ১০ বছর আগে আব্দুর রাহিম তার সৎমাকে হত্যা করে। সেই ঘটনায় দীর্ঘ ৬ বছর কারাগারে ছিল রাহিম। পরে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায় সে। কারাগার থেকে ছাড়া পাবার পর কোনো কাজই করত না সে। সারাদিন নেশার মধ্যেই ডুবে থাকত। এলাকায় ছোটখাটো চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের মেয়ে কাকলী আক্তার জানায়, তার ভাই রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সে মাঝে মধ্যেই মায়ের কাছে টাকা চাইত। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে টাকা চেয়ে না পেয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের কক্ষ থেকে সিগারেটের প্যাকেট, ফুয়েল পেপার, মোমবাতিসহ মাদক গ্রহণের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুর রাহিমকে আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সৎমাকে হত্যার পর নিজের মাকে হত্যা করল ছেলে

আপডেট সময় ১০:৫০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১০ বছর আগে সৎমাকে হত্যার পর এবার নিজের মাকে খুন করল আব্দুর রাহিম শেখ নামের এক যুবক। ধারাল অস্ত্র (বঁটি) দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয় মা সাহেলা বেগমকে (৫০)।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৬নং ওয়ার্ডের বায়তুল আমান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ঘাতক ছেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বায়তুল আমানের মোল্লাডাঙ্গী এলাকার মৃত আকবর হোসেনের স্ত্রী সাহেলা বেগমের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকত ছেলে আব্দুর রাহিম। সে দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিল। মাঝে মধ্যেই নেশার টাকার জন্য মাকে মারধর করত। এলাকায় আব্দুর রাহিম চোর হিসেবেও পরিচিত ছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুর রাহিম নেশার টাকা চায় মা সাহেলা বেগমের কাছে। টাকা না দিলে আব্দুর রাহিম ধারাল বঁটি নিয়ে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে মা সাহেলা বেগম নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ঘাতক ছেলে আব্দুর রাহিম। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয়রা জানান, ১০ বছর আগে আব্দুর রাহিম তার সৎমাকে হত্যা করে। সেই ঘটনায় দীর্ঘ ৬ বছর কারাগারে ছিল রাহিম। পরে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায় সে। কারাগার থেকে ছাড়া পাবার পর কোনো কাজই করত না সে। সারাদিন নেশার মধ্যেই ডুবে থাকত। এলাকায় ছোটখাটো চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের মেয়ে কাকলী আক্তার জানায়, তার ভাই রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সে মাঝে মধ্যেই মায়ের কাছে টাকা চাইত। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে টাকা চেয়ে না পেয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের কক্ষ থেকে সিগারেটের প্যাকেট, ফুয়েল পেপার, মোমবাতিসহ মাদক গ্রহণের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুর রাহিমকে আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।