ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

প্রবাসীকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী-মেয়েসহ গ্রেপ্তার ৩

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরগুনা সদর উপজেলায় সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী আফাং শিকদার (৪০) নামে ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিহতের স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্বজনদের অভিযোগ, দাম্পত্য কলহ, পরকীয়া সম্পর্ক ও বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১৩ থেকে ১৪ বছর মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন আফাং শিকদার। বিদেশে থাকাকালে জমি কেনার জন্য স্ত্রী রাবেয়া বেগমের কাছে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা পাঠান তিনি। দেশে ফিরে ওই অর্থের একটি বড় অংশ জমি কেনার পরিবর্তে অন্যত্র ব্যয় করার বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আফাং শিকদার বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বড় ভাই দুলাল শিকদার থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আফাং শিকদারের স্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছিল।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই রাতে বরগুনা পৌরসভার আমতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আফাং শিকদারকে জোর করে বিষপান করানো হয়। অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ জুলাই রাতে তার মৃত্যু হয়।

শনিবার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে বরগুনা-পুরাকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের চালিতলা এলাকায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় নিহতের স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় হামলার অভিযোগও ওঠে।

পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারি আব্দুস সাকুর ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৮), স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান (৪০), নিহতের মেয়ে আতিকা, শ্বশুর ও শাশুড়ি রাশেদা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাবেয়া বেগম, আতিকা ও রাশেদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাদাত মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য আলামতের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে। বিষপ্রয়োগের অভিযোগ, অর্থনৈতিক বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে। হত্যা মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রবাসীকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী-মেয়েসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় ০৭:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরগুনা সদর উপজেলায় সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী আফাং শিকদার (৪০) নামে ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিহতের স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্বজনদের অভিযোগ, দাম্পত্য কলহ, পরকীয়া সম্পর্ক ও বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১৩ থেকে ১৪ বছর মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন আফাং শিকদার। বিদেশে থাকাকালে জমি কেনার জন্য স্ত্রী রাবেয়া বেগমের কাছে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা পাঠান তিনি। দেশে ফিরে ওই অর্থের একটি বড় অংশ জমি কেনার পরিবর্তে অন্যত্র ব্যয় করার বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আফাং শিকদার বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বড় ভাই দুলাল শিকদার থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আফাং শিকদারের স্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছিল।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই রাতে বরগুনা পৌরসভার আমতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আফাং শিকদারকে জোর করে বিষপান করানো হয়। অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ জুলাই রাতে তার মৃত্যু হয়।

শনিবার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে বরগুনা-পুরাকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের চালিতলা এলাকায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় নিহতের স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় হামলার অভিযোগও ওঠে।

পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারি আব্দুস সাকুর ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৮), স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান (৪০), নিহতের মেয়ে আতিকা, শ্বশুর ও শাশুড়ি রাশেদা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাবেয়া বেগম, আতিকা ও রাশেদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাদাত মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য আলামতের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে। বিষপ্রয়োগের অভিযোগ, অর্থনৈতিক বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে। হত্যা মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।