ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে লড়াইয়ে বিজয়

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদ বা অন্য যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) সর্বোচ্চ আদালত এই স্থগিতাদেশ দিয়ে উল্লেখ করেন যে হাইকোর্টের ওই পূর্ববর্তী আদেশটিতে সংশোধন প্রয়োজন ছিল।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাড়াগাম (টিভিকে) সরকার মাদ্রাজ হাইকোর্টের গত ২৭ মে-র রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি বিশেষ লিভ পিটিশন দায়ের করেছিল, যার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

হাইকোর্টের ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার আদালতে যুক্তি প্রদর্শন করে যে দেশের বিদ্যমান আইনি বিধান যেখানে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির গরু জবাই করার অনুমতি দেয়, সেখানে আইনের সেই বিধির পরিপন্থী কোনো বিচার বিভাগীয় নির্দেশ কোনোভাবেই বহাল রাখা যায় না।

এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়াণনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশের ওপর ভিত্তি করে রাজ্যজুড়ে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে তৎকালীন সময়ে ওই সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছিল।

হাইকোর্টের রায়ের পক্ষে বিচারপতি স্বামীনাথন উল্লেখ করেছিলেন যে সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যগুলোর উচিত গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এছাড়া সংবিধান সভার বিতর্কের সূত্র ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় সভ্যতায় গরুকে একটি শ্রদ্ধেয় প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের নেতারা যুক্তি দিয়েছেন যে কোরবানি ঈদের মতো ধর্মীয় উৎসবে কেবল সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় পশু কোরবানি সীমাবদ্ধ রাখা একেবারেই অবাস্তব। কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা এই কসাইখানাগুলোর নেই।

তামিলনাড়ু সরকারও আদালতের কাছে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন’ সহ বিদ্যমান অন্যান্য বিধিমালা পশুর জবাইয়ের স্থান ও শর্তাবলী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ঠিকই, তবে এটি ঢালাওভাবে কোনো সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে লড়াইয়ে বিজয়

আপডেট সময় ০৩:৪০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদ বা অন্য যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) সর্বোচ্চ আদালত এই স্থগিতাদেশ দিয়ে উল্লেখ করেন যে হাইকোর্টের ওই পূর্ববর্তী আদেশটিতে সংশোধন প্রয়োজন ছিল।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাড়াগাম (টিভিকে) সরকার মাদ্রাজ হাইকোর্টের গত ২৭ মে-র রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি বিশেষ লিভ পিটিশন দায়ের করেছিল, যার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

হাইকোর্টের ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার আদালতে যুক্তি প্রদর্শন করে যে দেশের বিদ্যমান আইনি বিধান যেখানে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির গরু জবাই করার অনুমতি দেয়, সেখানে আইনের সেই বিধির পরিপন্থী কোনো বিচার বিভাগীয় নির্দেশ কোনোভাবেই বহাল রাখা যায় না।

এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়াণনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশের ওপর ভিত্তি করে রাজ্যজুড়ে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে তৎকালীন সময়ে ওই সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছিল।

হাইকোর্টের রায়ের পক্ষে বিচারপতি স্বামীনাথন উল্লেখ করেছিলেন যে সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যগুলোর উচিত গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এছাড়া সংবিধান সভার বিতর্কের সূত্র ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় সভ্যতায় গরুকে একটি শ্রদ্ধেয় প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের নেতারা যুক্তি দিয়েছেন যে কোরবানি ঈদের মতো ধর্মীয় উৎসবে কেবল সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় পশু কোরবানি সীমাবদ্ধ রাখা একেবারেই অবাস্তব। কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা এই কসাইখানাগুলোর নেই।

তামিলনাড়ু সরকারও আদালতের কাছে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন’ সহ বিদ্যমান অন্যান্য বিধিমালা পশুর জবাইয়ের স্থান ও শর্তাবলী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ঠিকই, তবে এটি ঢালাওভাবে কোনো সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।