ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনার ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর সমন্বয়ে এসব স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জের ধরে ইরানের ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির জন্য দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধাও বাতিল করেছে। এই তীব্র উত্তেজনার ফলে অঞ্চলটিতে বিরাজমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবেই মার্কিন বাহিনী ইরানে এই অভিযান পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলার পর মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতার সাইরেন বেজে ওঠে এবং কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায় যে তারা আগত আকাশপথের হামলাগুলো প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস এই পাল্টা হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তাদের নৌ ও অ্যারোস্পেস বাহিনী দুই দেশে থাকা ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং একটি মার্কিন এমকিউ-নাইন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে কোনো পক্ষেই ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সেন্টকম তাদের সর্বশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার সাইট, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি থাকা রেভল্যুশনারি গার্ডসের ৬০টিরও বেশি ছোট বোটে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। সব মিলিয়ে তারা ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির প্রধান তেল হাব খাগ দ্বীপ,কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণের বন্দর নগরী সিরিক ও বন্দর আব্বাসে বুধবার ভোরে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড একে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট আগ্রাসন বলে অভিহিত করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনায় তারা কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঠিক আগেই ওয়াশিংটন গত জুন মাসে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অধীনে দেওয়া তেলের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই পূর্ববর্তী সমঝোতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এবং এর জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আলিবাবায় যুক্ত হলো স্টেপ ফুটওয়্যার, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রসার

মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

আপডেট সময় ০১:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনার ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর সমন্বয়ে এসব স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জের ধরে ইরানের ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির জন্য দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধাও বাতিল করেছে। এই তীব্র উত্তেজনার ফলে অঞ্চলটিতে বিরাজমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবেই মার্কিন বাহিনী ইরানে এই অভিযান পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলার পর মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতার সাইরেন বেজে ওঠে এবং কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায় যে তারা আগত আকাশপথের হামলাগুলো প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস এই পাল্টা হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তাদের নৌ ও অ্যারোস্পেস বাহিনী দুই দেশে থাকা ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং একটি মার্কিন এমকিউ-নাইন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে কোনো পক্ষেই ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সেন্টকম তাদের সর্বশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার সাইট, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি থাকা রেভল্যুশনারি গার্ডসের ৬০টিরও বেশি ছোট বোটে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। সব মিলিয়ে তারা ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির প্রধান তেল হাব খাগ দ্বীপ,কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণের বন্দর নগরী সিরিক ও বন্দর আব্বাসে বুধবার ভোরে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড একে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট আগ্রাসন বলে অভিহিত করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনায় তারা কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঠিক আগেই ওয়াশিংটন গত জুন মাসে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অধীনে দেওয়া তেলের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই পূর্ববর্তী সমঝোতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এবং এর জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।