ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সঙ্গী ও বন্ধু কারা?

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মানুষের জীবনে অসংখ্য সম্পর্ক আসে ও যায়। কিছু সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী, কিছু সম্পর্ক দুনিয়ার সীমা অতিক্রম করে আখিরাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্ক হলো সেই সম্পর্কগুলো, যা তাকে তার রবের নৈকট্যের দিকে নিয়ে যায়। তাসবীহ, কুরআন, নামাজ, আল্লাহর ভালোবাসা এবং ঈমান—এসবই একজন বিশ্বাসীর জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য ও সফলতার ভিত্তি। আসুন, এমন কিছু শ্রেষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানি, যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই কল্যাণের পথ দেখায়।

১. সবচেয়ে সুন্দর সঙ্গী— তাসবিহ (আল্লাহর জিকির)

যে জিহ্বা সর্বদা আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকে, সে কখনো একাকী নয়। তাসবিহ মুমিনের হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে। কুরআনের বাণী—

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ

‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫২)

২. সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু— পবিত্র কুরআন

কুরআন এমন এক বন্ধু, যে কখনো ধোঁকা দেয় না। এটি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করে এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে। কুরআনের বাণী—

إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ

‘নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিশা দেয় যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।’ (সুরা আল-ইসরা ১৭:৯

হাদিসে পাকে এসেছে—

اقْرَؤُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ

‘তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর; কারণ কিয়ামতের দিন তা তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে।’ (মুসলিম ৮০৪)

৩. সবচেয়ে পবিত্র ভালোবাসা— আল্লাহর জন্য ভালোবাসা

যে ভালোবাসা স্বার্থ, লোভ বা দুনিয়াবি উদ্দেশ্যের ঊর্ধ্বে; শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিষ্ঠিত—সেটিই সবচেয়ে পবিত্র ভালোবাসা। হাদিসে পাকে এসেছে—

سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ… وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ

‘সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন… তাদের মধ্যে দু’জন হলো যারা আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছে।’ (বুখারি ৬৬০, মুসলিম ১০৩১)

৪. সবচেয়ে বড় হৃদয়— ঈমানদার ব্যক্তির হৃদয়

ইমানদারের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত থাকে। সেখানে থাকে দয়া, ক্ষমা, বিনয় ও তাকওয়া। কুরআনের বাণী—

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়সমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আর-রা‘দ: আয়াত ২৮)

৫. সবচেয়ে খাঁটি ভালোবাসা — সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা

আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা মানুষের ইমানের মূল ভিত্তি। যে হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হয়, তার কাছে দুনিয়ার সবকিছু তুচ্ছ হয়ে যায়। কুরআনের বাণী—

وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ

‘আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৬৫)

৬. সবচেয়ে সুন্দর অশ্রু— আল্লাহভয়ে ফেলা অশ্রু

নিভৃতে আল্লাহর ভয়ে ঝরে পড়া একটি অশ্রুবিন্দু আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এটি অন্তরের খাঁটি ইমান ও বিনয়ের পরিচায়ক। হাদিসে পাকে এসেছে—

رَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ

‘সে ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়।’ (বুখারি ৬৬০, মুসলিম ১০৩১)

৭. সবচেয়ে বড় সাহস — আল্লাহকে ভয় করা

প্রকৃত সাহসী সেই ব্যক্তি, যে মানুষের ভয় নয়, বরং আল্লাহর ভয়কে প্রাধান্য দেয় এবং সত্যের পথে অবিচল থাকে। কুরআনের বাণী—

فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ

‘তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকে ভয় করো।’ (সুরা আল-মায়িদা: আয়াত ৪৪)

৮. সবচেয়ে সুন্দর ফরজ— নামাজ

নামাজ হলো বান্দা ও রবের মধ্যে সবচেয়ে গভীর যোগাযোগের মাধ্যম। এটি ইমানের স্তম্ভ এবং মুমিনের জীবনের আলো। কুরআনের বাণী—

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ

‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৪৩)

হাদিসে পাকে এসেছে—

رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ

‘সমস্ত বিষয়ের মূল হলো ইসলাম এবং এর স্তম্ভ হলো সালাত।’ (তিরমিজি ২৬১৬)

দুনিয়ার প্রকৃত সৌন্দর্য ধন-সম্পদ, খ্যাতি বা বাহ্যিক চাকচিক্যে নয়; বরং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতায়। তাসবিহ হৃদয়কে জীবন্ত রাখে, কুরআন পথ দেখায়, নামাজ রবের সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়, আর আল্লাহর ভালোবাসা জীবনের সর্বোচ্চ প্রশান্তি এনে দেয়। তাই আসুন, আমরা এমন সম্পর্কগুলোকে আঁকড়ে ধরি, যা শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও আমাদের সফলতার কারণ হবে। হে আল্লাহ! আমাদের হৃদয়কে আপনার ভালোবাসা, আপনার স্মরণ এবং আপনার আনুগত্যে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সঙ্গী ও বন্ধু কারা?

আপডেট সময় ০৭:১০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মানুষের জীবনে অসংখ্য সম্পর্ক আসে ও যায়। কিছু সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী, কিছু সম্পর্ক দুনিয়ার সীমা অতিক্রম করে আখিরাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্ক হলো সেই সম্পর্কগুলো, যা তাকে তার রবের নৈকট্যের দিকে নিয়ে যায়। তাসবীহ, কুরআন, নামাজ, আল্লাহর ভালোবাসা এবং ঈমান—এসবই একজন বিশ্বাসীর জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য ও সফলতার ভিত্তি। আসুন, এমন কিছু শ্রেষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানি, যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই কল্যাণের পথ দেখায়।

১. সবচেয়ে সুন্দর সঙ্গী— তাসবিহ (আল্লাহর জিকির)

যে জিহ্বা সর্বদা আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকে, সে কখনো একাকী নয়। তাসবিহ মুমিনের হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে। কুরআনের বাণী—

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ

‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫২)

২. সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু— পবিত্র কুরআন

কুরআন এমন এক বন্ধু, যে কখনো ধোঁকা দেয় না। এটি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করে এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে। কুরআনের বাণী—

إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ

‘নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিশা দেয় যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।’ (সুরা আল-ইসরা ১৭:৯

হাদিসে পাকে এসেছে—

اقْرَؤُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ

‘তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর; কারণ কিয়ামতের দিন তা তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে।’ (মুসলিম ৮০৪)

৩. সবচেয়ে পবিত্র ভালোবাসা— আল্লাহর জন্য ভালোবাসা

যে ভালোবাসা স্বার্থ, লোভ বা দুনিয়াবি উদ্দেশ্যের ঊর্ধ্বে; শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিষ্ঠিত—সেটিই সবচেয়ে পবিত্র ভালোবাসা। হাদিসে পাকে এসেছে—

سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ… وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ

‘সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন… তাদের মধ্যে দু’জন হলো যারা আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছে।’ (বুখারি ৬৬০, মুসলিম ১০৩১)

৪. সবচেয়ে বড় হৃদয়— ঈমানদার ব্যক্তির হৃদয়

ইমানদারের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত থাকে। সেখানে থাকে দয়া, ক্ষমা, বিনয় ও তাকওয়া। কুরআনের বাণী—

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়সমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আর-রা‘দ: আয়াত ২৮)

৫. সবচেয়ে খাঁটি ভালোবাসা — সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা

আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা মানুষের ইমানের মূল ভিত্তি। যে হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হয়, তার কাছে দুনিয়ার সবকিছু তুচ্ছ হয়ে যায়। কুরআনের বাণী—

وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ

‘আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৬৫)

৬. সবচেয়ে সুন্দর অশ্রু— আল্লাহভয়ে ফেলা অশ্রু

নিভৃতে আল্লাহর ভয়ে ঝরে পড়া একটি অশ্রুবিন্দু আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এটি অন্তরের খাঁটি ইমান ও বিনয়ের পরিচায়ক। হাদিসে পাকে এসেছে—

رَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ

‘সে ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়।’ (বুখারি ৬৬০, মুসলিম ১০৩১)

৭. সবচেয়ে বড় সাহস — আল্লাহকে ভয় করা

প্রকৃত সাহসী সেই ব্যক্তি, যে মানুষের ভয় নয়, বরং আল্লাহর ভয়কে প্রাধান্য দেয় এবং সত্যের পথে অবিচল থাকে। কুরআনের বাণী—

فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ

‘তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকে ভয় করো।’ (সুরা আল-মায়িদা: আয়াত ৪৪)

৮. সবচেয়ে সুন্দর ফরজ— নামাজ

নামাজ হলো বান্দা ও রবের মধ্যে সবচেয়ে গভীর যোগাযোগের মাধ্যম। এটি ইমানের স্তম্ভ এবং মুমিনের জীবনের আলো। কুরআনের বাণী—

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ

‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৪৩)

হাদিসে পাকে এসেছে—

رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ

‘সমস্ত বিষয়ের মূল হলো ইসলাম এবং এর স্তম্ভ হলো সালাত।’ (তিরমিজি ২৬১৬)

দুনিয়ার প্রকৃত সৌন্দর্য ধন-সম্পদ, খ্যাতি বা বাহ্যিক চাকচিক্যে নয়; বরং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতায়। তাসবিহ হৃদয়কে জীবন্ত রাখে, কুরআন পথ দেখায়, নামাজ রবের সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়, আর আল্লাহর ভালোবাসা জীবনের সর্বোচ্চ প্রশান্তি এনে দেয়। তাই আসুন, আমরা এমন সম্পর্কগুলোকে আঁকড়ে ধরি, যা শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও আমাদের সফলতার কারণ হবে। হে আল্লাহ! আমাদের হৃদয়কে আপনার ভালোবাসা, আপনার স্মরণ এবং আপনার আনুগত্যে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।