ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

চাঁদা না দেওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা দম্পতির ওপর হামলা, একজন গ্রেপ্তার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কিনতে রাজি না হওয়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর গত সোমবার থানায় মামলা করা হলে বুধবার রাতে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সাইফুল ইসলাম (৪০)। তিনি নগরের বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে জেলার ত্রিশাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া জনতা ব্যাংকে কর্মরত। ২০২৩ সালে নগরের ময়নার মোড় এলাকায় চার শতক জমি কিনে সেখানে পাঁচতলা ভবনের ভিত্তি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ছয় থেকে সাত মাস ধরে ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল।

অভিযোগ আছে, স্থানীয় সাইফুল ইসলাম একটি দল নিয়ে ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত মালামাল তাদের কাছ থেকে কিনতে নজরুল ইসলামকে প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি নিজ পছন্দমতো মালামাল কিনে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলে সাইফুল ক্ষুব্ধ হন। তাদের কাছ থেকে মালামাল না কিনলে ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলেও একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

গত রবিবার বিকেলে আবারও বাসায় গিয়ে তাদের কাছ থেকে মালামাল নিতে বলা হলে নজরুল ইসলাম রাজি হননি। এর জেরে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, তার ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। হামলাকারীরা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করেন এবং অন্যদের মারধর করেন বলে অভিযোগ।

এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে তিন ব্যক্তি এসে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের ওপর আকস্মিক হামলা চালান। পরে আরও তিনজন হামলায় যোগ দেন। তাদের একজনকে চাকু হাতে দৌড়ে আসতে দেখা যায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেন। পরে সেদিনই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ।

ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করছি। তারা এসে আমাকে বলে যে চাঁদা দিতে হবে, না হলে কাজ দিতে হবে। আমি মনে করছিলাম হয়তো হুমকি পর্যন্তই থাকবে। কিন্তু এভাবে আক্রমণের শিকার হব, একজন অফিসার হিসেবে আমি এটা কখনোই কল্পনাও করতে পারিনি। আমি এটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে সাইফুলকে শনাক্ত করে ত্রিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাঁদা না দেওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা দম্পতির ওপর হামলা, একজন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০১:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কিনতে রাজি না হওয়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর গত সোমবার থানায় মামলা করা হলে বুধবার রাতে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সাইফুল ইসলাম (৪০)। তিনি নগরের বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে জেলার ত্রিশাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া জনতা ব্যাংকে কর্মরত। ২০২৩ সালে নগরের ময়নার মোড় এলাকায় চার শতক জমি কিনে সেখানে পাঁচতলা ভবনের ভিত্তি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ছয় থেকে সাত মাস ধরে ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল।

অভিযোগ আছে, স্থানীয় সাইফুল ইসলাম একটি দল নিয়ে ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত মালামাল তাদের কাছ থেকে কিনতে নজরুল ইসলামকে প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি নিজ পছন্দমতো মালামাল কিনে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেলে সাইফুল ক্ষুব্ধ হন। তাদের কাছ থেকে মালামাল না কিনলে ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলেও একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

গত রবিবার বিকেলে আবারও বাসায় গিয়ে তাদের কাছ থেকে মালামাল নিতে বলা হলে নজরুল ইসলাম রাজি হননি। এর জেরে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, তার ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। হামলাকারীরা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করেন এবং অন্যদের মারধর করেন বলে অভিযোগ।

এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে তিন ব্যক্তি এসে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের ওপর আকস্মিক হামলা চালান। পরে আরও তিনজন হামলায় যোগ দেন। তাদের একজনকে চাকু হাতে দৌড়ে আসতে দেখা যায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেন। পরে সেদিনই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ।

ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করছি। তারা এসে আমাকে বলে যে চাঁদা দিতে হবে, না হলে কাজ দিতে হবে। আমি মনে করছিলাম হয়তো হুমকি পর্যন্তই থাকবে। কিন্তু এভাবে আক্রমণের শিকার হব, একজন অফিসার হিসেবে আমি এটা কখনোই কল্পনাও করতে পারিনি। আমি এটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে সাইফুলকে শনাক্ত করে ত্রিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।