ঢাকা ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পর শিশুর বাবার নাম উল্লেখ করে ঘরের বিছানায় তিনি লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি হাতের লেখা চিঠি রেখে গেছে চক্রটি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অপহৃত শিশু স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলা করছিল শিশু জায়হান। বেলা ১২টার পর তাকে সেখানে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসীর সহায়তায় পুরো পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানেও কোনো হদিস না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শিশুটির মা-বাবা। বিকেল ৩টার দিকে ঘরের সামনের রুমের বিছানায় হাতের লেখা একটি চিঠি পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশীদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ একজন ঘরের ভেতর এই চিঠি রেখে গেছে। হাতে লেখা চিঠিতে লেখা ছিল, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। যদি কোনো চালাকি করার চেষ্টা করস তাহলে ছেলেকে আর খুঁজলেও পাবি না, পুলিশের কাছে না গেলে ভালো হয়। যদি যাস ছেলের লাশ পাবি। বাইরের মানুষ না জানার মতো, তোর পরিবারের উপর নজর আছে সবসময়। আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি। রাখার পর তুই সহ তোর ফ্যামিলির সবাই বাসার ভিতর ঢুকে যাবি… আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’

চিঠিটি পাওয়ার পরপরই পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত হন যে, শিশু জায়হানকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর দ্রুত পটিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশের একটি দল দ্রæত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিছানায় রেখে যাওয়া চিঠিসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে।

অপহৃত শিশুর বাবা শাহজাহান বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে কারা নিয়ে গেছে জানি না। আমি শুধু আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। চিঠিতে যেভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, শিশু অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক টিম কাজ শুরু করে। মুক্তিপণের চিঠিটিও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিঠি ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি। প্রযুক্তিগত সহায়তায় অপহরণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং চিঠির ভাষা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি

আপডেট সময় ০৮:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পর শিশুর বাবার নাম উল্লেখ করে ঘরের বিছানায় তিনি লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি হাতের লেখা চিঠি রেখে গেছে চক্রটি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অপহৃত শিশু স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলা করছিল শিশু জায়হান। বেলা ১২টার পর তাকে সেখানে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসীর সহায়তায় পুরো পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানেও কোনো হদিস না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শিশুটির মা-বাবা। বিকেল ৩টার দিকে ঘরের সামনের রুমের বিছানায় হাতের লেখা একটি চিঠি পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশীদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ একজন ঘরের ভেতর এই চিঠি রেখে গেছে। হাতে লেখা চিঠিতে লেখা ছিল, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। যদি কোনো চালাকি করার চেষ্টা করস তাহলে ছেলেকে আর খুঁজলেও পাবি না, পুলিশের কাছে না গেলে ভালো হয়। যদি যাস ছেলের লাশ পাবি। বাইরের মানুষ না জানার মতো, তোর পরিবারের উপর নজর আছে সবসময়। আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি। রাখার পর তুই সহ তোর ফ্যামিলির সবাই বাসার ভিতর ঢুকে যাবি… আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’

চিঠিটি পাওয়ার পরপরই পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত হন যে, শিশু জায়হানকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর দ্রুত পটিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশের একটি দল দ্রæত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিছানায় রেখে যাওয়া চিঠিসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে।

অপহৃত শিশুর বাবা শাহজাহান বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে কারা নিয়ে গেছে জানি না। আমি শুধু আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। চিঠিতে যেভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, শিশু অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক টিম কাজ শুরু করে। মুক্তিপণের চিঠিটিও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিঠি ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি। প্রযুক্তিগত সহায়তায় অপহরণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং চিঠির ভাষা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।