ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার : মীর হেলাল চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি জুনের ১৬ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠালেন ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার সীমান্তে পুশ ইন তৎপরতায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে: সাইফুল হক ফ্যামিলি কার্ড অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে’:ফরিদা খানম কৃতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন জাইমা রহমান বিমানভর্তি অর্থ দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করিয়েছিলেন ওবামা: ডোনাল্ড ট্রাম্প

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পর শিশুর বাবার নাম উল্লেখ করে ঘরের বিছানায় তিনি লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি হাতের লেখা চিঠি রেখে গেছে চক্রটি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অপহৃত শিশু স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলা করছিল শিশু জায়হান। বেলা ১২টার পর তাকে সেখানে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসীর সহায়তায় পুরো পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানেও কোনো হদিস না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শিশুটির মা-বাবা। বিকেল ৩টার দিকে ঘরের সামনের রুমের বিছানায় হাতের লেখা একটি চিঠি পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশীদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ একজন ঘরের ভেতর এই চিঠি রেখে গেছে। হাতে লেখা চিঠিতে লেখা ছিল, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। যদি কোনো চালাকি করার চেষ্টা করস তাহলে ছেলেকে আর খুঁজলেও পাবি না, পুলিশের কাছে না গেলে ভালো হয়। যদি যাস ছেলের লাশ পাবি। বাইরের মানুষ না জানার মতো, তোর পরিবারের উপর নজর আছে সবসময়। আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি। রাখার পর তুই সহ তোর ফ্যামিলির সবাই বাসার ভিতর ঢুকে যাবি… আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’

চিঠিটি পাওয়ার পরপরই পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত হন যে, শিশু জায়হানকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর দ্রুত পটিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশের একটি দল দ্রæত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিছানায় রেখে যাওয়া চিঠিসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে।

অপহৃত শিশুর বাবা শাহজাহান বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে কারা নিয়ে গেছে জানি না। আমি শুধু আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। চিঠিতে যেভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, শিশু অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক টিম কাজ শুরু করে। মুক্তিপণের চিঠিটিও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিঠি ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি। প্রযুক্তিগত সহায়তায় অপহরণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং চিঠির ভাষা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদের চেয়ারে এমপিদের হাত কেটে যাচ্ছে: জয়নুল আবদিন

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি

আপডেট সময় ০৮:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পর শিশুর বাবার নাম উল্লেখ করে ঘরের বিছানায় তিনি লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি হাতের লেখা চিঠি রেখে গেছে চক্রটি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অপহৃত শিশু স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলা করছিল শিশু জায়হান। বেলা ১২টার পর তাকে সেখানে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসীর সহায়তায় পুরো পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানেও কোনো হদিস না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শিশুটির মা-বাবা। বিকেল ৩টার দিকে ঘরের সামনের রুমের বিছানায় হাতের লেখা একটি চিঠি পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশীদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ একজন ঘরের ভেতর এই চিঠি রেখে গেছে। হাতে লেখা চিঠিতে লেখা ছিল, ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। যদি কোনো চালাকি করার চেষ্টা করস তাহলে ছেলেকে আর খুঁজলেও পাবি না, পুলিশের কাছে না গেলে ভালো হয়। যদি যাস ছেলের লাশ পাবি। বাইরের মানুষ না জানার মতো, তোর পরিবারের উপর নজর আছে সবসময়। আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি। রাখার পর তুই সহ তোর ফ্যামিলির সবাই বাসার ভিতর ঢুকে যাবি… আর মানুষের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করে দিবি।’

চিঠিটি পাওয়ার পরপরই পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত হন যে, শিশু জায়হানকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর দ্রুত পটিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশের একটি দল দ্রæত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিছানায় রেখে যাওয়া চিঠিসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে।

অপহৃত শিশুর বাবা শাহজাহান বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে কারা নিয়ে গেছে জানি না। আমি শুধু আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। চিঠিতে যেভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, শিশু অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক টিম কাজ শুরু করে। মুক্তিপণের চিঠিটিও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিঠি ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি। প্রযুক্তিগত সহায়তায় অপহরণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং চিঠির ভাষা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।