ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পাবনায় রিয়া ধর্ষণ-হত্যা: ক্ষোভে অগ্নিসংযোগ, দগ্ধ আরও দুজনের মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনা সদর উপজেলায় রিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন।

দগ্ধদের মধ্যে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনজনে। নিহতরা সবাই আগুন নেভাতে বা ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গতকাল সোমবার বিকালে একই হাসপাতালে আরও এক ব্যক্তি মারা যান। ​নিহতরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ (৩৫), পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির (২৮) এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু (৪৫)। তারা সবাই পেশায় দিনমজুর।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকালে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে রিয়ার বস্তাবন্দি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

​দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। আগুন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বাড়ির ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ও কয়েকজন দগ্ধ হন।

পরে স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে জরুরিভিত্তিতে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। ঘটনার সময় আসামিপক্ষের কোনো সদস্য বা আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে ছিলেন না।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ ও মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর জেলা পুলিশ তদন্ত চালিয়ে নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ ঘটনায় জড়িত প্রধান তিন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে আসামিরা রিয়া খাতুনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করার স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাবনায় রিয়া ধর্ষণ-হত্যা: ক্ষোভে অগ্নিসংযোগ, দগ্ধ আরও দুজনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৪:২০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনা সদর উপজেলায় রিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন।

দগ্ধদের মধ্যে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনজনে। নিহতরা সবাই আগুন নেভাতে বা ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গতকাল সোমবার বিকালে একই হাসপাতালে আরও এক ব্যক্তি মারা যান। ​নিহতরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ (৩৫), পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির (২৮) এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু (৪৫)। তারা সবাই পেশায় দিনমজুর।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকালে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে রিয়ার বস্তাবন্দি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

​দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। আগুন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বাড়ির ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ও কয়েকজন দগ্ধ হন।

পরে স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে জরুরিভিত্তিতে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। ঘটনার সময় আসামিপক্ষের কোনো সদস্য বা আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে ছিলেন না।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ ও মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর জেলা পুলিশ তদন্ত চালিয়ে নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ ঘটনায় জড়িত প্রধান তিন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে আসামিরা রিয়া খাতুনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করার স্বীকারোক্তি দিয়েছে।