ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পুশইন নিয়ে আবিদুলের পোস্ট ভাইরাল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান সীমান্তে ভারতের পুশইন-কাণ্ড নিয়ে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) বিকালে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

‘সীমান্তে একটা নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। আপনারা জানেন গত কয়েকদিন যাবত সীমান্তে নিয়মিত পুশইনের চেষ্টা চলছে। গত বুধবার থেকে শনিবারের মধ্যে বিজিবি বিএসএফের ২১টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে, যাতে ২০০-এরও বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

ঘটনাগুলো নিছক সংখ্যা না। প্রতিটি ঘটনার পেছনে আছে আলাদা গল্প। ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফ ৩০-৩৫ জনকে একটা প্রিজনভ্যানে করে সীমান্তে নিয়ে আসে, পুশইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা মিলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে, বিএসএফ বাধ্য হয়ে মানুষগুলোকে ভ্যানে তুলে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে রাতের অন্ধকারে ৩০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়। বিজিবি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সীমান্ত পাহারা জোরদার করে সবগুলো চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

পঞ্চগড়ে বিএসএফ ১০ জন নারী-শিশুসহ একটি দলকে শূন্যরেখায় ফেলে চলে যায়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়, বিএসএফও ফিরিয়ে নেয় না, ফলে এই মানুষগুলো ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় খোলা আকাশের নিচে রোদে-বৃষ্টিতে জিরো লাইনে আটকে থাকে। আজ তাদেরকেও ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা মিডিয়ায় তেমন আলোচনা হচ্ছে না সেটা হলো এই প্রতিরোধের চরিত্র। এই প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সাধারণ মানুষকে এই প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে, বিজিবি গ্রামবাসীদের সঙ্গে যৌথ টহল দিচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে সীমান্ত-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে। বিজিবিও তার পুরোনো শক্তি ও মনবল ফিরে পেয়েছে। নেত্রকোনা সীমান্তে বিজিবি মেগাফোন, সার্চলাইট আর শিস ব্যবহার করে রাতভর পাহারা দিচ্ছে।

পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে যৌথ টহল চলছে। নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকেই গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছায় রাতজেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে।

এটাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সীমান্তে বিগত সরকারের আমলের দূর্বলতার ইতিহাসে এমন সাহসিকতার নিদর্শন আমাদের নতুন করে শক্তি যোগায়। বর্তমানে বিজিবি ২৬টি জেলার সীমান্তে বিপুলসংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করেছে, চারটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা টহল চলছে। ভারত কূটনৈতিকভাবে বলছে এগুলো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ বহিষ্কার, কিন্তু কোনো উপযুক্ত যাচাই প্রক্রিয়া ছাড়া রাতের বেলায় সীমান্তে লাইট নিভিয়ে প্রিজনভ্যানে করে মানুষ ঠেলে দেওয়াকে আইনি প্রক্রিয়া বলা যায় না।

সীমান্তে এই মুহূর্তে যা ঘটছে সেটা শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন না। এটা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। এবং সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে বিজিবির জওয়ানরা, আর তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে এই দেশের সাধারণ মানুষ।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুশইন নিয়ে আবিদুলের পোস্ট ভাইরাল

আপডেট সময় ১০:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান সীমান্তে ভারতের পুশইন-কাণ্ড নিয়ে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) বিকালে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

‘সীমান্তে একটা নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। আপনারা জানেন গত কয়েকদিন যাবত সীমান্তে নিয়মিত পুশইনের চেষ্টা চলছে। গত বুধবার থেকে শনিবারের মধ্যে বিজিবি বিএসএফের ২১টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে, যাতে ২০০-এরও বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

ঘটনাগুলো নিছক সংখ্যা না। প্রতিটি ঘটনার পেছনে আছে আলাদা গল্প। ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফ ৩০-৩৫ জনকে একটা প্রিজনভ্যানে করে সীমান্তে নিয়ে আসে, পুশইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা মিলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে, বিএসএফ বাধ্য হয়ে মানুষগুলোকে ভ্যানে তুলে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে রাতের অন্ধকারে ৩০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়। বিজিবি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সীমান্ত পাহারা জোরদার করে সবগুলো চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

পঞ্চগড়ে বিএসএফ ১০ জন নারী-শিশুসহ একটি দলকে শূন্যরেখায় ফেলে চলে যায়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়, বিএসএফও ফিরিয়ে নেয় না, ফলে এই মানুষগুলো ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় খোলা আকাশের নিচে রোদে-বৃষ্টিতে জিরো লাইনে আটকে থাকে। আজ তাদেরকেও ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা মিডিয়ায় তেমন আলোচনা হচ্ছে না সেটা হলো এই প্রতিরোধের চরিত্র। এই প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সাধারণ মানুষকে এই প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে, বিজিবি গ্রামবাসীদের সঙ্গে যৌথ টহল দিচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে সীমান্ত-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে। বিজিবিও তার পুরোনো শক্তি ও মনবল ফিরে পেয়েছে। নেত্রকোনা সীমান্তে বিজিবি মেগাফোন, সার্চলাইট আর শিস ব্যবহার করে রাতভর পাহারা দিচ্ছে।

পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে যৌথ টহল চলছে। নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকেই গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছায় রাতজেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে।

এটাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সীমান্তে বিগত সরকারের আমলের দূর্বলতার ইতিহাসে এমন সাহসিকতার নিদর্শন আমাদের নতুন করে শক্তি যোগায়। বর্তমানে বিজিবি ২৬টি জেলার সীমান্তে বিপুলসংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করেছে, চারটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা টহল চলছে। ভারত কূটনৈতিকভাবে বলছে এগুলো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ বহিষ্কার, কিন্তু কোনো উপযুক্ত যাচাই প্রক্রিয়া ছাড়া রাতের বেলায় সীমান্তে লাইট নিভিয়ে প্রিজনভ্যানে করে মানুষ ঠেলে দেওয়াকে আইনি প্রক্রিয়া বলা যায় না।

সীমান্তে এই মুহূর্তে যা ঘটছে সেটা শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন না। এটা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। এবং সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে বিজিবির জওয়ানরা, আর তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে এই দেশের সাধারণ মানুষ।’