ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ঢাকঢোল বাজিয়ে শতবর্ষীর লাশ দাফনের চেষ্টা, তোপের মুখে ক্ষমা প্রার্থনা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মো. শামসুদ্দিন নামে শতবর্ষী বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তার ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিম উদ্দিন ঢাকঢোল বাজিয়ে নৃত্য ও গান গেয়ে আনন্দ উল্লাস করতে থাকেন। এ ঘটনায় তোপের মুখে পড়েন তারা। পরে তারা ক্ষমা চেয়ে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে লাশ দাফন করেন।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে কটিয়াদী পৌরসভার কাহেতেরটেকী মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

পিতার মৃত্যুর পর বাড়িতে শোকের পরিবর্তে ঢাকঢোল বাজিয়ে নৃত্যের তালে তালে মৃতের ছেলেরা নাচানাচি করছেন। পাশেই চলছে মৃতদেহটির গোসল। স্বজন ও এলাকাবাসী বিস্ময়ের সঙ্গে এমন দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর জনতা ও আলেম সমাজের তোপের মুখে মৃতের দুই ছেলে ক্ষমা প্রার্থনা করে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে লাশ দাফন করেন।

জানা যায়, শারীরিক বার্ধক্যজনিত কারণে কাহেতেরটেকী মহল্লার প্রবীণ ব্যক্তি শামসুদ্দিন মারা যান। পিতার মৃত্যুর পর তার ছেলেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে পিতাকে শেষ বিদায় ও দাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

মৃত শামসুদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন নেত্রকোনার প্রয়াত পীর আকবর আলী রিজভীর ভক্ত এবং রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী। এ তরিকার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

বৃদ্ধ শামসুদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় আলেম মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী, মাওলানা মোবারক হোসাইন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. সোহান এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করেন এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী জানান, লোকমুখে ঘটনাটি জানার পর এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মরহুমের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে কুরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করি। একপর্যায়ে তারা বিষয়টি মেনে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানাজা ও দাফন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করেন।

মরহুম শামসুদ্দিনের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিন জানান, আমাদের পিতা রেজভীয়া সুন্নিয়া তরিকার অনুসারী ছিলেন। তার জীবনের শেষ ইচ্ছা ও অসিয়ত ছিল, মৃত্যুর পর যেন ঢাকঢোল বাজিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয় এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়। শুধু পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্যই আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পরে স্থানীয় আলেম সমাজ ও এলাকাবাসী কুরআন-হাদিসের আলোকে আমাদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে স্বাভাবিকভাবে দাফন সম্পন্ন করেছি।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ আমাদের অবহিত করেননি। তারপরও ঘটনাটি জানতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকঢোল বাজিয়ে শতবর্ষীর লাশ দাফনের চেষ্টা, তোপের মুখে ক্ষমা প্রার্থনা

আপডেট সময় ০৭:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মো. শামসুদ্দিন নামে শতবর্ষী বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তার ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিম উদ্দিন ঢাকঢোল বাজিয়ে নৃত্য ও গান গেয়ে আনন্দ উল্লাস করতে থাকেন। এ ঘটনায় তোপের মুখে পড়েন তারা। পরে তারা ক্ষমা চেয়ে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে লাশ দাফন করেন।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে কটিয়াদী পৌরসভার কাহেতেরটেকী মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

পিতার মৃত্যুর পর বাড়িতে শোকের পরিবর্তে ঢাকঢোল বাজিয়ে নৃত্যের তালে তালে মৃতের ছেলেরা নাচানাচি করছেন। পাশেই চলছে মৃতদেহটির গোসল। স্বজন ও এলাকাবাসী বিস্ময়ের সঙ্গে এমন দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর জনতা ও আলেম সমাজের তোপের মুখে মৃতের দুই ছেলে ক্ষমা প্রার্থনা করে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে লাশ দাফন করেন।

জানা যায়, শারীরিক বার্ধক্যজনিত কারণে কাহেতেরটেকী মহল্লার প্রবীণ ব্যক্তি শামসুদ্দিন মারা যান। পিতার মৃত্যুর পর তার ছেলেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে পিতাকে শেষ বিদায় ও দাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

মৃত শামসুদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন নেত্রকোনার প্রয়াত পীর আকবর আলী রিজভীর ভক্ত এবং রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী। এ তরিকার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

বৃদ্ধ শামসুদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় আলেম মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী, মাওলানা মোবারক হোসাইন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. সোহান এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করেন এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী জানান, লোকমুখে ঘটনাটি জানার পর এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মরহুমের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে কুরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করি। একপর্যায়ে তারা বিষয়টি মেনে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানাজা ও দাফন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করেন।

মরহুম শামসুদ্দিনের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিন জানান, আমাদের পিতা রেজভীয়া সুন্নিয়া তরিকার অনুসারী ছিলেন। তার জীবনের শেষ ইচ্ছা ও অসিয়ত ছিল, মৃত্যুর পর যেন ঢাকঢোল বাজিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয় এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়। শুধু পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্যই আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পরে স্থানীয় আলেম সমাজ ও এলাকাবাসী কুরআন-হাদিসের আলোকে আমাদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে স্বাভাবিকভাবে দাফন সম্পন্ন করেছি।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ আমাদের অবহিত করেননি। তারপরও ঘটনাটি জানতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।