ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

আমেরিকার জনগণের উদ্দেশে পেজেশকিয়ানের খোলা চিঠি, ইরান যুদ্ধের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ কি আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার প্রথম ভাষণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পেজেশকিয়ানের এই চিঠিটি প্রকাশ্যে আসে।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের সম্বোধন করে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে আমেরিকার জনগণের কোন স্বার্থটি অর্জিত হচ্ছে? তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, বিস্তারবাদ কিংবা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধেরও সূচনা করেনি। ইরানকে একটি ‘হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা মূলত বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লালসার ফসল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে ইরানের প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে তিনি ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান মার্কিন সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি পার্থক্য রেখা টানার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের মনে আমেরিকা, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। এটি ইরানের সংস্কৃতির একটি গভীর মূলনীতি, কোনো সাময়িক রাজনৈতিক অবস্থান নয়।

তবে পেজেশকিয়ানের এই চিঠির পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানি নেতৃত্বকে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে সহিংস ও গুন্ডাশাসিত শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আসা একটি অসহনীয় হুমকি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, ইরানের অধিকাংশ সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং এই যুদ্ধ এখন সমাপ্তির পথে।

অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতের এই পথ বর্তমান সময়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং এর ফল হবে শূন্য। বিশ্ব এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে মুখোমুখি সংঘাতের চেয়ে আলোচনার পথই শ্রেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে ইসরাইল

আমেরিকার জনগণের উদ্দেশে পেজেশকিয়ানের খোলা চিঠি, ইরান যুদ্ধের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৮:৩০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ কি আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার প্রথম ভাষণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পেজেশকিয়ানের এই চিঠিটি প্রকাশ্যে আসে।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের সম্বোধন করে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে আমেরিকার জনগণের কোন স্বার্থটি অর্জিত হচ্ছে? তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, বিস্তারবাদ কিংবা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধেরও সূচনা করেনি। ইরানকে একটি ‘হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা মূলত বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লালসার ফসল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে ইরানের প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে তিনি ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান মার্কিন সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি পার্থক্য রেখা টানার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের মনে আমেরিকা, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। এটি ইরানের সংস্কৃতির একটি গভীর মূলনীতি, কোনো সাময়িক রাজনৈতিক অবস্থান নয়।

তবে পেজেশকিয়ানের এই চিঠির পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানি নেতৃত্বকে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে সহিংস ও গুন্ডাশাসিত শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আসা একটি অসহনীয় হুমকি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, ইরানের অধিকাংশ সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং এই যুদ্ধ এখন সমাপ্তির পথে।

অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতের এই পথ বর্তমান সময়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং এর ফল হবে শূন্য। বিশ্ব এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে মুখোমুখি সংঘাতের চেয়ে আলোচনার পথই শ্রেয়।