ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানব রচিত আইন এ বাংলায় চলতে দেওয়া হবে না: চরমোনাইর পীর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আগামী বছরের মধ্যে গোটা রাখাইন দখলের ঘোষণা আরাকান আর্মির অবরোধ ভাঙতে চাইলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশ নতুন সাংবিধানিক সংকটে পড়বে:শিশির মনির সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে: মামুনুল হক খোলা চিঠিতে ‘বিদায়ের বার্তা’ দিলেন মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারাগার থেকেই বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের নামে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম হচ্ছে: সারোয়ার তুষার

আমেরিকার জনগণের উদ্দেশে পেজেশকিয়ানের খোলা চিঠি, ইরান যুদ্ধের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ কি আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার প্রথম ভাষণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পেজেশকিয়ানের এই চিঠিটি প্রকাশ্যে আসে।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের সম্বোধন করে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে আমেরিকার জনগণের কোন স্বার্থটি অর্জিত হচ্ছে? তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, বিস্তারবাদ কিংবা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধেরও সূচনা করেনি। ইরানকে একটি ‘হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা মূলত বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লালসার ফসল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে ইরানের প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে তিনি ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান মার্কিন সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি পার্থক্য রেখা টানার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের মনে আমেরিকা, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। এটি ইরানের সংস্কৃতির একটি গভীর মূলনীতি, কোনো সাময়িক রাজনৈতিক অবস্থান নয়।

তবে পেজেশকিয়ানের এই চিঠির পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানি নেতৃত্বকে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে সহিংস ও গুন্ডাশাসিত শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আসা একটি অসহনীয় হুমকি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, ইরানের অধিকাংশ সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং এই যুদ্ধ এখন সমাপ্তির পথে।

অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতের এই পথ বর্তমান সময়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং এর ফল হবে শূন্য। বিশ্ব এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে মুখোমুখি সংঘাতের চেয়ে আলোচনার পথই শ্রেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বেলুনের ভেতরেই চলছে নির্মাণকাজ, ধুলা-শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চীনের নতুন প্রযুক্তি

আমেরিকার জনগণের উদ্দেশে পেজেশকিয়ানের খোলা চিঠি, ইরান যুদ্ধের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৮:৩০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ কি আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার প্রথম ভাষণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পেজেশকিয়ানের এই চিঠিটি প্রকাশ্যে আসে।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের সম্বোধন করে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে আমেরিকার জনগণের কোন স্বার্থটি অর্জিত হচ্ছে? তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, বিস্তারবাদ কিংবা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধেরও সূচনা করেনি। ইরানকে একটি ‘হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা মূলত বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লালসার ফসল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে ইরানের প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে তিনি ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান মার্কিন সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি পার্থক্য রেখা টানার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের মনে আমেরিকা, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। এটি ইরানের সংস্কৃতির একটি গভীর মূলনীতি, কোনো সাময়িক রাজনৈতিক অবস্থান নয়।

তবে পেজেশকিয়ানের এই চিঠির পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানি নেতৃত্বকে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে সহিংস ও গুন্ডাশাসিত শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আসা একটি অসহনীয় হুমকি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, ইরানের অধিকাংশ সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং এই যুদ্ধ এখন সমাপ্তির পথে।

অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতের এই পথ বর্তমান সময়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং এর ফল হবে শূন্য। বিশ্ব এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে মুখোমুখি সংঘাতের চেয়ে আলোচনার পথই শ্রেয়।