ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ক্যামেরায় ধরা পড়ল বজ্রঝড়ে গাছের মাথায় নীল আলোর ঝলক

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বজ্রঝড়ের রাতে গাছের মাথায় নাকি হালকা নীল রঙের বিদ্যুতের ঝলক দেখা যায়—এমন ধারণা বিজ্ঞানীদের ছিল প্রায় একশ বছর ধরে। কিন্তু চোখে দেখা প্রমাণ ছিল না। এবার সেই রহস্যের পর্দা উঠল। যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রথমবারের মতো বাস্তব ঝড়ের মধ্যে গাছের চূড়ায় ক্ষীণ নীল বিদ্যুৎঝলক ধরতে পেরেছেন।

এই ক্ষীণ ঝলককে বলা হয় ‘করোনা’ (খুব হালকা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ)। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’ সাময়িকীতে।

গবেষণার প্রধান প্যাট্রিক ম্যাকফারল্যান্ড জানান, তারা একটি ২০১৩ সালের টয়োটা সিয়েনা গাড়িকে ছোট চলমান গবেষণাগারে পরিণত করেন। গাড়িতে বসানো হয় আবহাওয়া মাপার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র নির্ণায়ক (ইলেকট্রিক ফিল্ড ডিটেক্টর), লেজার যন্ত্র ও অতিবেগুনি রশ্মি ধরতে পারে এমন বিশেষ ক্যামেরা। কারণ এই ঝলক খালি চোখে দেখা যায় না।

২০২৪ সালের গ্রীষ্মে দলটি ফ্লোরিডা থেকে পেনসিলভানিয়া পর্যন্ত ঝড়ের পিছু নেয়। নর্থ ক্যারোলাইনার পেমব্রোকে একটি সুইটগাম গাছের ডগায় ক্যামেরা তাক করে তারা ৯০ মিনিটে ৪১টি করোনা দেখতে পান। প্রতিটি ঝলক সর্বোচ্চ তিন সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং এক পাতা থেকে আরেক পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। অন্য গাছেও একই দৃশ্য দেখা যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেন, ঝড়ের মেঘে জমা বিদ্যুৎ মাটিতে বিপরীত চার্জ তৈরি করে। সেই চার্জ গাছের উঁচু পাতার ডগা দিয়ে বের হয়ে ক্ষীণ স্ফুলিঙ্গ তৈরি করে।

২০২২ সালের আগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব করোনা ‘হাইড্রক্সিল র‌্যাডিক্যাল’ (এক ধরনের রাসায়নিক কণা) তৈরি করে। এটি মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে সাহায্য করলেও ওজোন ও বায়ুদূষণও তৈরি করতে পারে। ল্যাবে দেখা গেছে, করোনা পাতার ডগা পুড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, বহু বছর ধরে এমন ঘটনা গাছের বৃদ্ধি ও বিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত—ঝড়ের রাতে গাছের মাথায় সত্যিই লুকানো আলোর খেলা চলে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্যামেরায় ধরা পড়ল বজ্রঝড়ে গাছের মাথায় নীল আলোর ঝলক

আপডেট সময় ১০:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বজ্রঝড়ের রাতে গাছের মাথায় নাকি হালকা নীল রঙের বিদ্যুতের ঝলক দেখা যায়—এমন ধারণা বিজ্ঞানীদের ছিল প্রায় একশ বছর ধরে। কিন্তু চোখে দেখা প্রমাণ ছিল না। এবার সেই রহস্যের পর্দা উঠল। যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রথমবারের মতো বাস্তব ঝড়ের মধ্যে গাছের চূড়ায় ক্ষীণ নীল বিদ্যুৎঝলক ধরতে পেরেছেন।

এই ক্ষীণ ঝলককে বলা হয় ‘করোনা’ (খুব হালকা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ)। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’ সাময়িকীতে।

গবেষণার প্রধান প্যাট্রিক ম্যাকফারল্যান্ড জানান, তারা একটি ২০১৩ সালের টয়োটা সিয়েনা গাড়িকে ছোট চলমান গবেষণাগারে পরিণত করেন। গাড়িতে বসানো হয় আবহাওয়া মাপার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র নির্ণায়ক (ইলেকট্রিক ফিল্ড ডিটেক্টর), লেজার যন্ত্র ও অতিবেগুনি রশ্মি ধরতে পারে এমন বিশেষ ক্যামেরা। কারণ এই ঝলক খালি চোখে দেখা যায় না।

২০২৪ সালের গ্রীষ্মে দলটি ফ্লোরিডা থেকে পেনসিলভানিয়া পর্যন্ত ঝড়ের পিছু নেয়। নর্থ ক্যারোলাইনার পেমব্রোকে একটি সুইটগাম গাছের ডগায় ক্যামেরা তাক করে তারা ৯০ মিনিটে ৪১টি করোনা দেখতে পান। প্রতিটি ঝলক সর্বোচ্চ তিন সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং এক পাতা থেকে আরেক পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। অন্য গাছেও একই দৃশ্য দেখা যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেন, ঝড়ের মেঘে জমা বিদ্যুৎ মাটিতে বিপরীত চার্জ তৈরি করে। সেই চার্জ গাছের উঁচু পাতার ডগা দিয়ে বের হয়ে ক্ষীণ স্ফুলিঙ্গ তৈরি করে।

২০২২ সালের আগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব করোনা ‘হাইড্রক্সিল র‌্যাডিক্যাল’ (এক ধরনের রাসায়নিক কণা) তৈরি করে। এটি মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে সাহায্য করলেও ওজোন ও বায়ুদূষণও তৈরি করতে পারে। ল্যাবে দেখা গেছে, করোনা পাতার ডগা পুড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, বহু বছর ধরে এমন ঘটনা গাছের বৃদ্ধি ও বিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত—ঝড়ের রাতে গাছের মাথায় সত্যিই লুকানো আলোর খেলা চলে।