ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

এক টিকাতেই ভালো হবে সর্দি-কাশি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাধারণ সর্দি-জ্বর-কাশি বা শ্লেষ্মাজনিত কারণে হওয়া সারা বছরের চেনা ‘ফ্লু’ শীত বা বসন্ত এলেই কেমন বদলে যায়। চারিত্রিক বদল ঘটিয়ে অনেকের শরীরে হানা দেয় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। ফলে সর্দি-কাশির প্রকোপ তো বাড়েই, হাঁপানি বা সিওপিডির রোগীরাও প্রচণ্ড কষ্ট পান। কারও কারও তো এই রোগ রূপ নেয় নিউমোনিয়ার দিকে। তবে ফ্লুর এই বাড়বাড়ন্ত কমাতে একটিমাত্র ডোজের এমন এক টিকা তৈরির পথে আছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা, যা সব ধরনের কাশি, সর্দি ও ফ্লু-এর পাশাপাশি ফুসফুসের ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, নাক দিয়ে টেনে নেওয়ার যোগ্য এই টিকা সাহায্য করতে পারে অ্যালার্জি উপশমেও।

বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষক দল এই টিকা উদ্ভাবন করেছেন। এই টিকাকে তারা বলছেন ‘ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন’ বা ‘সর্বজনীন টিকা’। এরই মধ্যে তারা টিকাটি অন্য প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করেছেন। তবে এখনও মানুষের ওপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল বাকি আছে। অর্থাৎ গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিরাট অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে পদ্ধতিতে তারা এই সর্বজনীন টিকা তৈরি করেছেন তা গত দুইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকা যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, সে ধারার আমূল ব্যতিক্রম। অষ্টাদশ শতকে এডওয়ার্ড জেনারের হাত ধরে যে টিকাদান পদ্ধতির সূচনা, সেখানে প্রতিটি টিকা শরীরকে একটি নির্দিষ্ট সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রশিক্ষণ দেয়। যেমন, হামের টিকা কেবল হাম থেকে রক্ষা করে। জলবসন্তের টিকা কেবল জলবসন্ত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে তৈরি টিকাটি প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেয় না, বরং রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন অনুকরণ করে। নতুন তৈরি টিকাটি নাকে স্প্রে হিসেবে দেওয়া হয়। এটি আমাদের ফুসফুসে শ্বেত রক্তকণিকা যাকে ম্যাক্রোফেজ বলা হয়, সেগুলোকে সতর্ক করে দেয় যাতে যে কোনো সংক্রমণ প্রবেশের চেষ্টা করলেই সেগুলোকে দ্রুত বাধা দেওয়া যায়। প্রাণীদের ওপর পরীক্ষায় এই টিকার প্রভাব প্রায় তিন মাস স্থায়ী ছিল।

গবেষকরা আরও জানান, নতুন তৈরি টিকাটি প্রয়োগে বিভিন্ন প্রাণীর ফুসফুসে শ্বেত রক্তকণিকার উচ্চতর সতর্ক অবস্থা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ভাইরাস প্রবেশের হার ১০০ থেকে হাজার গুণ কমিয়ে দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত রোনালদোর গোল, জয় পেল আল নাসর

এক টিকাতেই ভালো হবে সর্দি-কাশি

আপডেট সময় ১২:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাধারণ সর্দি-জ্বর-কাশি বা শ্লেষ্মাজনিত কারণে হওয়া সারা বছরের চেনা ‘ফ্লু’ শীত বা বসন্ত এলেই কেমন বদলে যায়। চারিত্রিক বদল ঘটিয়ে অনেকের শরীরে হানা দেয় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। ফলে সর্দি-কাশির প্রকোপ তো বাড়েই, হাঁপানি বা সিওপিডির রোগীরাও প্রচণ্ড কষ্ট পান। কারও কারও তো এই রোগ রূপ নেয় নিউমোনিয়ার দিকে। তবে ফ্লুর এই বাড়বাড়ন্ত কমাতে একটিমাত্র ডোজের এমন এক টিকা তৈরির পথে আছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা, যা সব ধরনের কাশি, সর্দি ও ফ্লু-এর পাশাপাশি ফুসফুসের ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, নাক দিয়ে টেনে নেওয়ার যোগ্য এই টিকা সাহায্য করতে পারে অ্যালার্জি উপশমেও।

বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষক দল এই টিকা উদ্ভাবন করেছেন। এই টিকাকে তারা বলছেন ‘ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন’ বা ‘সর্বজনীন টিকা’। এরই মধ্যে তারা টিকাটি অন্য প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করেছেন। তবে এখনও মানুষের ওপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল বাকি আছে। অর্থাৎ গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিরাট অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে পদ্ধতিতে তারা এই সর্বজনীন টিকা তৈরি করেছেন তা গত দুইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকা যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, সে ধারার আমূল ব্যতিক্রম। অষ্টাদশ শতকে এডওয়ার্ড জেনারের হাত ধরে যে টিকাদান পদ্ধতির সূচনা, সেখানে প্রতিটি টিকা শরীরকে একটি নির্দিষ্ট সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রশিক্ষণ দেয়। যেমন, হামের টিকা কেবল হাম থেকে রক্ষা করে। জলবসন্তের টিকা কেবল জলবসন্ত থেকে রক্ষা করে। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে তৈরি টিকাটি প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেয় না, বরং রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন অনুকরণ করে। নতুন তৈরি টিকাটি নাকে স্প্রে হিসেবে দেওয়া হয়। এটি আমাদের ফুসফুসে শ্বেত রক্তকণিকা যাকে ম্যাক্রোফেজ বলা হয়, সেগুলোকে সতর্ক করে দেয় যাতে যে কোনো সংক্রমণ প্রবেশের চেষ্টা করলেই সেগুলোকে দ্রুত বাধা দেওয়া যায়। প্রাণীদের ওপর পরীক্ষায় এই টিকার প্রভাব প্রায় তিন মাস স্থায়ী ছিল।

গবেষকরা আরও জানান, নতুন তৈরি টিকাটি প্রয়োগে বিভিন্ন প্রাণীর ফুসফুসে শ্বেত রক্তকণিকার উচ্চতর সতর্ক অবস্থা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ভাইরাস প্রবেশের হার ১০০ থেকে হাজার গুণ কমিয়ে দিয়েছে।