ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরেনাসের চাঁদ মিরান্ডা নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

সৌরজগতের দূরবর্তী গ্রহ ইউরেনাসের ছোট একটি উপগ্রহের নাম মিরান্ডা। আকারে ছোট হলেও এটি বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, এর পৃষ্ঠে দেখা যায় অদ্ভুত ফাটল, খাঁজ আর বিশাল চ্যুতি। এসব দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভেতরে কি কিছু ঘটেছিল?

সম্প্রতি ‘দ্য প্ল্যানেটারি সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মিরান্ডার বরফের নিচে একসময় গভীর মহাসাগর ছিল। এই মহাসাগরের গভীরতা ছিল ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি। অর্থাৎ, উপরে শক্ত বরফ থাকলেও ভেতরে ছিল তরল পানি।

১৯৮৬ সালে নাসার পাঠানো ভয়েজার-২ মহাকাশযান মিরান্ডার পাশ দিয়ে উড়ে যায়। তখন তোলা ছবিতে দেখা যায় বিশাল ফাটল ও ‘করোনা’ (খাঁজকাটা বড় অঞ্চল)। এই অদ্ভুত গঠন কীভাবে তৈরি হলো, তা জানতে বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেন।

গবেষণায় মিরান্ডার দক্ষিণ অংশের দুটি এলাকা—আর্ডেন করোনা ও এলসিনোর করোনা—বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। আর্ডেন অঞ্চলে দেখা গেছে প্রসারণের চিহ্ন, মানে মাটি ফেটে ছড়িয়ে গেছে। আর এলসিনোর এলাকায় দেখা গেছে ভাঁজ বা সংকোচন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি বরফের আস্তরণ খুব পুরু হতো, তাহলে এমন বড় ফাটল তৈরি হতো না। তাদের ধারণা, বরফের স্তর ৩০ কিলোমিটারের কম ছিল। নিচে ছিল বিশাল জলভাগ। প্রায় ১০ থেকে ৫০ কোটি বছর আগে এই সাগর ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মহাকাশের হিসাবে এটি খুব বেশি পুরোনো নয়।

ছোট একটি উপগ্রহ, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল গভীর সাগর—এই তথ্য সৌরজগত নিয়ে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ইউরেনাসের চাঁদ মিরান্ডা নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য

আপডেট সময় ১১:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

সৌরজগতের দূরবর্তী গ্রহ ইউরেনাসের ছোট একটি উপগ্রহের নাম মিরান্ডা। আকারে ছোট হলেও এটি বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, এর পৃষ্ঠে দেখা যায় অদ্ভুত ফাটল, খাঁজ আর বিশাল চ্যুতি। এসব দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভেতরে কি কিছু ঘটেছিল?

সম্প্রতি ‘দ্য প্ল্যানেটারি সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মিরান্ডার বরফের নিচে একসময় গভীর মহাসাগর ছিল। এই মহাসাগরের গভীরতা ছিল ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি। অর্থাৎ, উপরে শক্ত বরফ থাকলেও ভেতরে ছিল তরল পানি।

১৯৮৬ সালে নাসার পাঠানো ভয়েজার-২ মহাকাশযান মিরান্ডার পাশ দিয়ে উড়ে যায়। তখন তোলা ছবিতে দেখা যায় বিশাল ফাটল ও ‘করোনা’ (খাঁজকাটা বড় অঞ্চল)। এই অদ্ভুত গঠন কীভাবে তৈরি হলো, তা জানতে বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেন।

গবেষণায় মিরান্ডার দক্ষিণ অংশের দুটি এলাকা—আর্ডেন করোনা ও এলসিনোর করোনা—বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। আর্ডেন অঞ্চলে দেখা গেছে প্রসারণের চিহ্ন, মানে মাটি ফেটে ছড়িয়ে গেছে। আর এলসিনোর এলাকায় দেখা গেছে ভাঁজ বা সংকোচন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি বরফের আস্তরণ খুব পুরু হতো, তাহলে এমন বড় ফাটল তৈরি হতো না। তাদের ধারণা, বরফের স্তর ৩০ কিলোমিটারের কম ছিল। নিচে ছিল বিশাল জলভাগ। প্রায় ১০ থেকে ৫০ কোটি বছর আগে এই সাগর ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মহাকাশের হিসাবে এটি খুব বেশি পুরোনো নয়।

ছোট একটি উপগ্রহ, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল গভীর সাগর—এই তথ্য সৌরজগত নিয়ে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।