ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতির আকার নিয়ে নতুন তথ্য দিল নাসার মহাকাশযান

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতিকে নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে নাসা। নাসার ‘জুনো’ মহাকাশযানের সাম্প্রতিক পরিমাপে দেখা গেছে, গ্রহটি আগের ধারণার চেয়ে সামান্য ছোট এবং মেরুর দিকে একটু বেশি চ্যাপ্টা।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে বাতাসের চাপ এক বারের সমান (এটিকে ১-বার স্তর বলা হয়), সেখানে নতুন করে মাপ নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, গ্রহটির মেরু থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব (পোলার রেডিয়াস) প্রায় ৬৬,৮৪২ কিলোমিটার এবং বিষুবরেখা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব (ইকুয়েটোরিয়াল রেডিয়াস) প্রায় ৭১,৪৮৮ কিলোমিটার। আগের হিসাবের তুলনায় এই দূরত্বগুলো কয়েক কিলোমিটার কম।

এই নতুন হিসাব বের করতে বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যাকে বলা হয় রেডিও অকালটেশন। সহজ ভাষায় বললে, জুনো থেকে পাঠানো রেডিও সিগনাল যখন বৃহস্পতির ঘন বায়ুমণ্ডল ভেদ করে যায়, তখন সিগনালটি একটু বাঁক নেয়। সেই বাঁক দেখে বিজ্ঞানীরা গ্রহটির তাপমাত্রা, বাতাসের ঘনত্ব এবং মোট আকার সম্পর্কে বেশি নিখুঁত ধারণা পান।

আগে যে তথ্যগুলো ছিল, সেগুলোর বেশির ভাগই ১৯৭০-এর দশকে পাঠানো পাইওনিয়ার ও ভয়েজার অভিযানের ওপর নির্ভর করত। তখন মাত্র কয়েকটি পরিমাপ ছিল। তাই সেখানে ভুলের সুযোগও বেশি ছিল। সেই সময় বিজ্ঞানীরা বৃহস্পতির প্রবল গতির বাতাস (যা খুব জোরে ঘুরে চলে) পুরোপুরি হিসাব করতে পারেননি। এখন জুনো অনেক বেশি তথ্য পাঠাচ্ছে, ফলে হিসাব আরও নির্ভুল হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ছোট পরিবর্তনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গ্রহটির সঠিক আকার জানা গেলে তার ভেতরের গঠন (কোর, গ্যাসের স্তর ইত্যাদি) আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। একই সঙ্গে, দূরের অন্য গ্যাসে ভরা বড় গ্রহগুলো কেমন হতে পারে, তা বোঝার পথও খুলে যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বৃহস্পতির আকার নিয়ে নতুন তথ্য দিল নাসার মহাকাশযান

আপডেট সময় ০৬:৫০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতিকে নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে নাসা। নাসার ‘জুনো’ মহাকাশযানের সাম্প্রতিক পরিমাপে দেখা গেছে, গ্রহটি আগের ধারণার চেয়ে সামান্য ছোট এবং মেরুর দিকে একটু বেশি চ্যাপ্টা।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে বাতাসের চাপ এক বারের সমান (এটিকে ১-বার স্তর বলা হয়), সেখানে নতুন করে মাপ নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, গ্রহটির মেরু থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব (পোলার রেডিয়াস) প্রায় ৬৬,৮৪২ কিলোমিটার এবং বিষুবরেখা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব (ইকুয়েটোরিয়াল রেডিয়াস) প্রায় ৭১,৪৮৮ কিলোমিটার। আগের হিসাবের তুলনায় এই দূরত্বগুলো কয়েক কিলোমিটার কম।

এই নতুন হিসাব বের করতে বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যাকে বলা হয় রেডিও অকালটেশন। সহজ ভাষায় বললে, জুনো থেকে পাঠানো রেডিও সিগনাল যখন বৃহস্পতির ঘন বায়ুমণ্ডল ভেদ করে যায়, তখন সিগনালটি একটু বাঁক নেয়। সেই বাঁক দেখে বিজ্ঞানীরা গ্রহটির তাপমাত্রা, বাতাসের ঘনত্ব এবং মোট আকার সম্পর্কে বেশি নিখুঁত ধারণা পান।

আগে যে তথ্যগুলো ছিল, সেগুলোর বেশির ভাগই ১৯৭০-এর দশকে পাঠানো পাইওনিয়ার ও ভয়েজার অভিযানের ওপর নির্ভর করত। তখন মাত্র কয়েকটি পরিমাপ ছিল। তাই সেখানে ভুলের সুযোগও বেশি ছিল। সেই সময় বিজ্ঞানীরা বৃহস্পতির প্রবল গতির বাতাস (যা খুব জোরে ঘুরে চলে) পুরোপুরি হিসাব করতে পারেননি। এখন জুনো অনেক বেশি তথ্য পাঠাচ্ছে, ফলে হিসাব আরও নির্ভুল হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ছোট পরিবর্তনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গ্রহটির সঠিক আকার জানা গেলে তার ভেতরের গঠন (কোর, গ্যাসের স্তর ইত্যাদি) আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। একই সঙ্গে, দূরের অন্য গ্যাসে ভরা বড় গ্রহগুলো কেমন হতে পারে, তা বোঝার পথও খুলে যায়।