ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টাররা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল: প্রধানমন্ত্রী

জনসংখ্যা কমলেও কাজ করবে মেশিন, চীনের ভরসা এখন রোবট

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

জন্মহারের ঐতিহাসিক পতন এবং সংকুচিত জনশক্তির ধাক্কা সামলাতে চীন এখন রোবট ও অটোমেশনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

দীর্ঘদিনের সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির তকমা ঝেড়ে ফেলে বেইজিং এখন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং হাই-টেক পাওয়ারহাউস হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। নগদ অর্থ সহায়তা, কর ছাড় কিংবা বিয়ে সহজ করার মতো সরকারি নীতিগুলো জন্মহার বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর শি জিনপিং প্রশাসন উৎপাদন খাতকে রোবটনির্ভর করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এই সংকট চীনের পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি চীন তার পুরনো অর্থনৈতিক মডেলেই পড়ে থাকে তবে এটি একটি বিশাল সংকটে রূপ নেবে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশনের সঠিক ব্যবহার এই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবোটিক্স এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে যদি উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা যায়, তবে কম কর্মী নিয়েও শিল্প উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

বর্তমানে চীন বিশ্বের বৃহত্তম শিল্প রোবট বাজার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে যত রোবট ইনস্টল করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে চীনে। দেশটির অনেক কারখানায় এখন মানুষের পরিবর্তে রোবটিক হাত দিয়ে ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং এবং অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ চলছে। এমনকি সেখানে ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ বা অন্ধকার কারখানার ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে, যেখানে মানুষের প্রয়োজন নেই বলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয় না।

এই উচ্চমানের অটোমেশনের কারণেই চীন বর্তমানে সাশ্রয়ী মূল্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সোলার প্যানেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে পারছে।

শিল্প রোবটের পাশাপাশি চীন এখন হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট তৈরির দিকেও ঝুঁকছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ১৪০টিরও বেশি কোম্পানি সরকারি ভর্তুকি নিয়ে এ ধরনের রোবট উন্নয়নে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশে হঠাৎ এই প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্প মেয়াদে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা সামলানো বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চীন এই জনসংখ্যাগত সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসংখ্যা কমলেও কাজ করবে মেশিন, চীনের ভরসা এখন রোবট

আপডেট সময় ০১:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

জন্মহারের ঐতিহাসিক পতন এবং সংকুচিত জনশক্তির ধাক্কা সামলাতে চীন এখন রোবট ও অটোমেশনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

দীর্ঘদিনের সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির তকমা ঝেড়ে ফেলে বেইজিং এখন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং হাই-টেক পাওয়ারহাউস হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। নগদ অর্থ সহায়তা, কর ছাড় কিংবা বিয়ে সহজ করার মতো সরকারি নীতিগুলো জন্মহার বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর শি জিনপিং প্রশাসন উৎপাদন খাতকে রোবটনির্ভর করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এই সংকট চীনের পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি চীন তার পুরনো অর্থনৈতিক মডেলেই পড়ে থাকে তবে এটি একটি বিশাল সংকটে রূপ নেবে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশনের সঠিক ব্যবহার এই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবোটিক্স এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে যদি উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা যায়, তবে কম কর্মী নিয়েও শিল্প উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

বর্তমানে চীন বিশ্বের বৃহত্তম শিল্প রোবট বাজার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে যত রোবট ইনস্টল করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে চীনে। দেশটির অনেক কারখানায় এখন মানুষের পরিবর্তে রোবটিক হাত দিয়ে ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং এবং অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ চলছে। এমনকি সেখানে ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ বা অন্ধকার কারখানার ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে, যেখানে মানুষের প্রয়োজন নেই বলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয় না।

এই উচ্চমানের অটোমেশনের কারণেই চীন বর্তমানে সাশ্রয়ী মূল্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সোলার প্যানেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে পারছে।

শিল্প রোবটের পাশাপাশি চীন এখন হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট তৈরির দিকেও ঝুঁকছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ১৪০টিরও বেশি কোম্পানি সরকারি ভর্তুকি নিয়ে এ ধরনের রোবট উন্নয়নে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশে হঠাৎ এই প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্প মেয়াদে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা সামলানো বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চীন এই জনসংখ্যাগত সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা।