ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জনসংখ্যা কমলেও কাজ করবে মেশিন, চীনের ভরসা এখন রোবট

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

জন্মহারের ঐতিহাসিক পতন এবং সংকুচিত জনশক্তির ধাক্কা সামলাতে চীন এখন রোবট ও অটোমেশনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

দীর্ঘদিনের সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির তকমা ঝেড়ে ফেলে বেইজিং এখন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং হাই-টেক পাওয়ারহাউস হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। নগদ অর্থ সহায়তা, কর ছাড় কিংবা বিয়ে সহজ করার মতো সরকারি নীতিগুলো জন্মহার বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর শি জিনপিং প্রশাসন উৎপাদন খাতকে রোবটনির্ভর করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এই সংকট চীনের পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি চীন তার পুরনো অর্থনৈতিক মডেলেই পড়ে থাকে তবে এটি একটি বিশাল সংকটে রূপ নেবে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশনের সঠিক ব্যবহার এই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবোটিক্স এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে যদি উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা যায়, তবে কম কর্মী নিয়েও শিল্প উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

বর্তমানে চীন বিশ্বের বৃহত্তম শিল্প রোবট বাজার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে যত রোবট ইনস্টল করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে চীনে। দেশটির অনেক কারখানায় এখন মানুষের পরিবর্তে রোবটিক হাত দিয়ে ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং এবং অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ চলছে। এমনকি সেখানে ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ বা অন্ধকার কারখানার ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে, যেখানে মানুষের প্রয়োজন নেই বলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয় না।

এই উচ্চমানের অটোমেশনের কারণেই চীন বর্তমানে সাশ্রয়ী মূল্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সোলার প্যানেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে পারছে।

শিল্প রোবটের পাশাপাশি চীন এখন হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট তৈরির দিকেও ঝুঁকছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ১৪০টিরও বেশি কোম্পানি সরকারি ভর্তুকি নিয়ে এ ধরনের রোবট উন্নয়নে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশে হঠাৎ এই প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্প মেয়াদে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা সামলানো বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চীন এই জনসংখ্যাগত সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

জনসংখ্যা কমলেও কাজ করবে মেশিন, চীনের ভরসা এখন রোবট

আপডেট সময় ০১:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

জন্মহারের ঐতিহাসিক পতন এবং সংকুচিত জনশক্তির ধাক্কা সামলাতে চীন এখন রোবট ও অটোমেশনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

দীর্ঘদিনের সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির তকমা ঝেড়ে ফেলে বেইজিং এখন প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং হাই-টেক পাওয়ারহাউস হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। নগদ অর্থ সহায়তা, কর ছাড় কিংবা বিয়ে সহজ করার মতো সরকারি নীতিগুলো জন্মহার বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর শি জিনপিং প্রশাসন উৎপাদন খাতকে রোবটনির্ভর করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এই সংকট চীনের পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি চীন তার পুরনো অর্থনৈতিক মডেলেই পড়ে থাকে তবে এটি একটি বিশাল সংকটে রূপ নেবে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশনের সঠিক ব্যবহার এই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবোটিক্স এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে যদি উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা যায়, তবে কম কর্মী নিয়েও শিল্প উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

বর্তমানে চীন বিশ্বের বৃহত্তম শিল্প রোবট বাজার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে যত রোবট ইনস্টল করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে চীনে। দেশটির অনেক কারখানায় এখন মানুষের পরিবর্তে রোবটিক হাত দিয়ে ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং এবং অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ চলছে। এমনকি সেখানে ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ বা অন্ধকার কারখানার ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে, যেখানে মানুষের প্রয়োজন নেই বলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয় না।

এই উচ্চমানের অটোমেশনের কারণেই চীন বর্তমানে সাশ্রয়ী মূল্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সোলার প্যানেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে পারছে।

শিল্প রোবটের পাশাপাশি চীন এখন হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবট তৈরির দিকেও ঝুঁকছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ১৪০টিরও বেশি কোম্পানি সরকারি ভর্তুকি নিয়ে এ ধরনের রোবট উন্নয়নে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশে হঠাৎ এই প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্প মেয়াদে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা সামলানো বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চীন এই জনসংখ্যাগত সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা।